Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর মস্কো ও আশপাশের এলাকায় বড় মাপের ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে (Moscow Attack)। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এক হাজারেরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, শুধু রাজধানীমুখী প্রায় ৪৫০টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়।

তেল শোধনাগারে আগুন, ধোঁয়ায় ঢাকল আকাশ (Moscow Attack)
হামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল মস্কোর তেল শোধনাগার। সেখানে ড্রোন হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। আবাসিক এলাকাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। একটি ২১ তলা আবাসনে ড্রোন আঘাত হানার পর প্রায় ৪০০ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয় বলে মস্কো অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন।
প্রাণহানি ও আহত, বাড়ছে উদ্বেগ (Moscow Attack)
প্রাথমিক ভাবে রুশ কর্তৃপক্ষ অন্তত দু’জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল। পরে মস্কো অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা তিনে পৌঁছেছে বলে Reuters-সহ একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়। আহতের সংখ্যাও প্রায় ২০ বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নির্বাচনের শেষ দিনেই রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের সময় হামলা, উঠল রাজনৈতিক প্রশ্ন (Moscow Attack)
ঘটনার সময় রাশিয়ায় স্টেট ডুমা নির্বাচন চলছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটিই ছিল প্রথম সংসদীয় নির্বাচন। মস্কোর মেয়র সোবিয়ানিনের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করতেই হামলার সময় বেছে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, হামলা সত্ত্বেও ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়নি। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই হয়নি।
জ়েলেনস্কির বার্তা, নিশানায় রুশ জ্বালানি পরিকাঠামো
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি হামলার পর জানান, রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল ও লজিস্টিক পরিকাঠামোয় আঘাত হানা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়ার জ্বালানি শিল্প থেকে পাওয়া অর্থই যুদ্ধ চালানোর অন্যতম উৎস। ইউক্রেন নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোনের পাশাপাশি ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ ও ‘পেলিকান’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ECI: নওশাদের ‘খাম’ গেল ঋতব্রতর হাতে, হুমায়ুনের ‘বাঁশি’ গেল বিজয়ের দলে!
যুদ্ধের নতুন মাত্রা, পাল্টা হামলার আশঙ্কা
মস্কোয় এই হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি ও শিল্প পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার হামলাতেও ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে হতাহতের খবর এসেছে। ফলে নির্বাচনের আবহে মস্কোয় ড্রোন হামলা যুদ্ধের প্রভাবকে রুশ ভূখণ্ডের আরও গভীরে পৌঁছে দিয়েছে বলেই স্পষ্ট হচ্ছে।



