Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সাবলীল অভিনয়, চরিত্র অনুযায়ী মুহূর্তে নিজেকে বদলে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা এবং পর্দায় স্বতন্ত্র উপস্থিতি, বাংলা চলচ্চিত্রে মিঠু মুখোপাধ্যায়ের জায়গাটি ছিল আলাদা (Mithu Mukherjee)। একসময় একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছিলেন তিনি। শুধু বাংলা নয়, হিন্দি ও ওড়িয়া ছবিতেও নিজের অভিনয় প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু খ্যাতির শিখরে থাকার সময়ই ধীরে ধীরে নিজেকে সরিয়ে নেন চলচ্চিত্রজগতের আলো থেকে।
‘মৌচাক’-এর নীপা আজও স্মৃতিতে (Mithu Mukherjee)
১৯৭৪ সালে অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘মৌচাক’ ছবিতে মিঠু মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। ছবিতে রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে তাঁর জুটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সিতেশ ও নীপা চরিত্রে তাঁদের রসায়ন ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। সেই সময়ের বাংলা ছবির দর্শকদের কাছে মিঠুর অভিনয় ছিল স্বতঃস্ফূর্ত এবং প্রাণবন্ত।
‘স্বয়ংসিদ্ধা’য় ফের রঞ্জিতের সঙ্গে (Mithu Mukherjee)
‘মৌচাক’-এর সাফল্যের পর রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ফের জুটি বাঁধেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ তাঁদের অভিনয়জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ। দুই অভিনেতার পর্দার বোঝাপড়া এবং অভিনয়ের স্বাভাবিকতা দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়। একই সঙ্গে সত্য বন্দ্যোপাধ্যায় ও ছায়াদেবীর মতো শক্তিশালী অভিনেতাদের সঙ্গে সমান ব্যক্তিত্ব নিয়ে অভিনয় করার ক্ষমতাও মিঠুর প্রতিভার পরিচয় বহন করে।
হঠাৎই কেন সরে গেলেন অভিনয় থেকে? (Mithu Mukherjee)
ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে আচমকাই অন্তরালে চলে যান মিঠু মুখোপাধ্যায়। দক্ষিণ কলকাতার বাড়ি বিক্রি করে মুম্বইয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় তাঁকে আর বাংলা ছবির পর্দায় দেখা যায়নি। ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ ছিলেন। ফলে তাঁর জীবনযাত্রা নিয়ে প্রকাশ্যে তথ্যও ছিল খুব সীমিত।
শেষ এক বছর ছিল কঠিন লড়াই (Mithu Mukherjee)
গত এক বছর ধরে মুম্বইয়ে ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছিল অভিনেত্রীর। অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো গেল না। রবিবার রাতে মৃত্যু হয় মিঠু মুখোপাধ্যায়ের। তাঁর প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাংলা চলচ্চিত্রজগতে নেমে আসে শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন পর্দার বাইরে থাকলেও দর্শকের স্মৃতিতে তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলি যে এখনও জীবন্ত, তাঁর প্রয়াণের পর ফের তা স্পষ্ট হয়ে উঠল।
আরও পড়ুন: ECI: নওশাদের ‘খাম’ গেল ঋতব্রতর হাতে, হুমায়ুনের ‘বাঁশি’ গেল বিজয়ের দলে!
শোকস্তব্ধ রঞ্জিত মল্লিক
সহকর্মী ও দীর্ঘদিনের পর্দার সঙ্গী রঞ্জিত মল্লিক মিঠুর প্রয়াণের খবর সহজে মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর কথায়, প্রথমে খবরটি বিশ্বাস করতেই কষ্ট হয়েছিল। মিঠু বয়সে তাঁর থেকে অনেকটাই ছোট ছিলেন—তাই এমন খবর আসবে, তা ভাবেননি তিনি। তাঁদের একসঙ্গে কাজের স্মৃতি মনে করে রঞ্জিত বলেন, মিঠুর অভিনয় সত্যিই ভুলে যাওয়ার মতো নয়। উত্তমকুমারের সঙ্গেও ‘মৌচাক’-এ তাঁর অসাধারণ কাজের কথা স্মরণ করেন তিনি। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিনেতার কণ্ঠে ছিল গভীর শোক—“যেখানে থাকুক শান্তিতে থাকুক। ওর আত্মা শান্তি পাক।”



