Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ব্রততী সরকার: আরব আমিরশাহির (Knife Attack) শারজা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা এক গাড়ি থেকে এক ভারতীয় ব্যক্তির নয় টুকরো দেহ উদ্ধার করা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল। খবরসূত্রে জানা যাচ্ছে, মৃত ব্যক্তির নাম অলউইন প্রকাশ কুন্দর (৩৭)। তিনি কর্ণাটকের উদুপি জেলার বাসিন্দা। শারজা বিমানবন্দরে গত ১৪ বছর ধরে কাজ করতেন তিনি। চলতি মাসের জুলাই থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে মৃতের পরিবারের অভিযোগ। এই ঘটনা সামনে আসার পর থেকে তাঁর স্ত্রী এবং ছেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মেসেজ থেকে সন্দেহ (Knife Attack)
মৃতের ভাইয়ের অভিযোগ ছিল, গত ২০ জুলাই (Knife Attack) তিনি প্রকাশকে ফোন করেন। কিন্তু সেই ফোন ধরেননি তাঁর দাদা। পরিবর্তে একটি মেসেজ আসে ,যেখানে লেখা ছিল তিনি ভালো আছেন। আর এখানেই শুরু হয় সন্দেহ। কারণ তাঁর দাদা সাধারণত এভাবে মেসেজ করেন না, মূলত ভয়েস মেসেজ এর মাধ্যমেই তাঁরা কথা বলতেন। এর এক সপ্তাহ পরে অনিল আবার ফোন করেন প্রকাশকে। অপরদিকে থেকে উত্তর না পাওয়ায় বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে মনে হয় তার। শারজাতে থাকা প্রকাশের এক সহপাঠী মনোহরের সাথে যোগাযোগ করেন তিনি। এরপর মনোহর প্রকাশের ফ্ল্যাটে যান এবং সেখানে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে জানান প্রকাশ ভারতে ফিরে গিয়েছেন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশ যে সংস্থাতে কাজ করতো সেখানে যোগাযোগ করা হলে তারাও একই কথা জানায়।
পাসপোর্টের রেকর্ড যাচাই করে সংস্থা (Knife Attack)
পরের দিন ওই সংস্থার সাথে আবার যোগাযোগ (Knife Attack) করে মৃতের ভাই। তিনি জানান, প্রকাশ ভারতে ফেরেননি এবং প্রকাশের গতিবিধি যাচাই করার জন্য ও অনুরোধ করেন। এরপর সংস্থার তরফ থেকে তার পাসপোর্টের রেকর্ড যাচাই করা হলে জানা যায় তিনি এখনো শারজাতেই আছেন। পুলিশে অভিযোগ করা হলে তারা সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করেন। এরপর ওমানের দিকে যাওয়ার একটি রাস্তার পাশে দাঁড় করান গাড়ি থেকে প্রকাশের দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানা যাচ্ছে, প্রথমে বুকে চুরি দিয়ে আঘাত করা হয় প্রকাশকে। এরপর তার শরীরটাকে নয় টুকরো করে রেখে আসা হয় ওই গাড়িতে। সোমবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাবার পর মৃতের পরিবার উদুপি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
নিখোঁজ মৃতের স্ত্রী-পুত্র
প্রকাশের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্দের তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশের বাড়ি কর্ণাটকের উদুপি জেলার কুন্দাপুরে। তিনি বিগত ১৪ বছর ধরে শারজা বিমানবন্দরে কাজ করতেন। প্রকাশের স্ত্রী টিনা উদুপির উদয়াভারার বাসিন্দা। তিনি শারজায় একটি স্কুলে শিক্ষিকা হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের ছেলে শারজায় একটি স্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়াশুনা করছে। তিনি আরো জানান, গত বছর ডিসেম্বরে তিনি নিজের দেশে ফিরেছিলেন। পরে আবার তিনি শারজাতে ফিরে যান। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই মৃতের স্ত্রী এবং পুত্র নিখোঁজ। সন্দেহ করা হচ্ছে তারা দুজন শারজা থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন।
CCTV ফুটেজে কী মিলল?
মৃতের ভাই আরও জানান বিল্ডিংয়ের CCTV ফুটেজে ওই ফ্ল্যাট থেকে দুজন পুরুষ এবং এক মহিলাকে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। তবে প্রকাশের স্ত্রী ভারতে এসেছেন এর কোনো প্রমান এখনো পাওয়া যায়নি।তাছাড়াও ঠিক কী কারণে প্রকাশকে খুন করা হল তা এখনও জানা যায়নি।


