Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুকৃতি ভট্টাচার্য: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলের (Rain In Pujo 2026) দিকে এগোচ্ছে অতি গভীর নিম্নচাপ। বাংলার থেকে যার দূরত্ব ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি। এইমুহূর্তে আর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কাও নেই। তবুও এই নিম্নচাপ নিয়েই চিন্তা বাড়ছে বাংলার। কারণ, স্থলভাগে ঢোকার পর নিম্নচাপের গতিপথে আসতে পারে পরিবর্তন। আর তার জেরেই দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ-বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ছে রাজ্যজুড়ে।
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস (Rain In Pujo 2026)
মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী (Rain In Pujo 2026), বুধবার রাতে বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনমের কাছে স্থলভাগে ঢুকতে পারে অতি গভীর নিম্নচাপ। এরপর সাধারণভাবে পশ্চিম দিকে সরে যাওয়ার বদলে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে সেটি। ফলে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের দিকে নিম্নচাপের প্রভাব পৌঁছনোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
আর এখানেই বাংলার জন্য চিন্তা (Rain In Pujo 2026)
নিম্নচাপ সরাসরি বাংলার উপর দিয়ে না গেলেও, তার অবস্থান এবং গতিপথের প্রভাবে রাজ্যে তৈরি হতে পারে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকবে রাজ্যে। এর ফলে আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গ—দুই জায়গাতেই বৃষ্টি বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে। কোথাও কোথাও একদিনে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
শুক্রবার আবার বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে (Rain In Pujo 2026) উত্তরবঙ্গে। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং এবং সিকিমেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ নিম্নচাপ বাংলায় সরাসরি আছড়ে না পড়লেও, তার গতিপথের পরিবর্তন এবং জলীয় বাষ্পের জেরে বাংলায় বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। পুজোর প্রস্তুতির সময় তাই আবহাওয়ার এই বদল চিন্তা বাড়াচ্ছে দিঘা থেকে দার্জিলিং-দুই প্রান্তেই।
এমন ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় অনেক সময় স্থলভাগে ঢোকার পর গতিপথ বদলায়। অতীতেও এমন পরিস্থিতিতে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং বাংলায় প্রবল বৃষ্টির প্রভাব দেখা গিয়েছে।
২০১৮ সালে ঘূর্ণিঝড় তিতলি ওড়িশায় আছড়ে পড়ার পর তার অবশিষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বাংলাতেও টানা বৃষ্টি হয়েছিল। ২০১৩ সালের ঘূর্ণিঝড় পিলিনের ক্ষেত্রেও পরবর্তী সময়ে ঝাড়খণ্ড ও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির প্রভাব দেখা যায়।
এবারও তাই সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের ভয় নয়, বরং নিম্নচাপের গতিপথ বদলে যাওয়াই বাংলার বৃষ্টির বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে।
পুজোর এখনও কিছুটা দেরি। কিন্তু তার আগেই আবহাওয়ার এমন বদল স্বস্তিতে বাধা তৈরি করছে। অন্ধ্রপ্রদেশে ঢুকলেও, নিম্নচাপের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকছে না বাংলা।


