Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভোট প্রচারে (Gargi Banerjee) অর্থের বিনিময়ে কয়েক জন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার কাজ করেছেন-এমন অভিযোগ ঘিরে সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই বিতর্কে সায়ক চক্রবর্তী, শমীক অধিকারী-সহ কয়েক জনের নাম উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে ‘ব-তে বাঙালি’ সংগঠনের সম্পাদক গার্গী ব্যানার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
বিজেপি রাজনীতি বরাবরই একটি প্রোডাক্ট (Gargi Banerjee)
গার্গীর বক্তব্যের মূল বিষয় রাজনৈতিক (Gargi Banerjee) প্রচারে অর্থের বিনিময়ে সমাজ মাধ্যমের প্রভাবকে ব্যবহার করা এবং তার সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব। তাঁর কথায়, “ইনফ্লুয়েন্সাররা পয়সা নিয়ে অনেক জিনিসপত্র বেচাকেনার কাজও করে থাকে, মানে পণ্যের বিজ্ঞাপন করে থাকে। রাজনীতিও এই মুহূর্তে, বিশেষ করে বিজেপি রাজনীতি বরাবরই একটি প্রোডাক্ট।”
সমাজ মাধ্যমে একই বক্তব্য বারবার প্রচারের (Gargi Banerjee) বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। গার্গীর কথায়, “যদি একটা মিথ্যে ৫০০ জন বলে, তাহলে সেই মিথ্যেটা সত্যি হয়ে যায়।” তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রচারে কোনও তথ্য ছড়ানোর আগে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
এরপর সায়ক চক্রবর্তীকে ঘিরে কলকাতার একটি রেস্তরাঁয় ঘটে যাওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন গার্গী। তাঁর অভিযোগ, এক রেস্তরাঁয় খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে এক কর্মীর সঙ্গে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যার পর ওই কর্মীকে গ্রেফতার হতে হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা হয়।
সায়ক বিতর্ক (Gargi Banerjee)
এই প্রসঙ্গে গার্গী বলেন, “সেখানে গিয়ে তিনি বিফ স্টেক অর্ডার করে, সেটাকে ব্রাহ্মণকে গরুর মাংস খাওয়ালি বলে তাকে হেনস্থা করেছেন।” তাঁর আরও অভিযোগ, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরিও চলে যায়।
রাজনৈতিক প্রচারের ক্ষেত্রে অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশাসনের নজরদারির দাবিও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, “আমি চাই অবিলম্বে এটা যেন পুলিশ নিজে থেকেই দেখেন।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে এমন প্রচার হতে পারে যা সামাজিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
সায়ক চক্রবর্তী প্রসঙ্গে গার্গীর মন্তব্য, “এই সায়ক চক্রবর্তীর মতো লোকেদেরকে… আমি বলছি এদের চিহ্নিত করা হোক।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনও সাধারণ মানুষের ক্ষতি বা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, “আমার দুটো প্রশ্ন।
- ১. যারা সারাক্ষণ মুখে সনাতনী ধর্ম, সনাতনী ধর্ম বলে হিন্দু ধর্মের তারা মসিহা, হিন্দু ধর্মের তারা ধারক-বাহক বলে প্রচার করে যাচ্ছে, যারা গেরুয়াকে এত গ্লোরিফাই করে যাচ্ছে, আমার তাদের উদ্দেশেই একটা প্রশ্ন যে, হিন্দু ধর্ম— যে ধর্ম ত্যাগের ধর্ম, যে ধর্ম সত্যের ধর্ম, যে ধর্ম পর ধর্মসহিষ্ণুতা যে ধর্মের ভিত্তি, যে ধর্ম চিরকাল মানুষকে— মানে মানুষের সেবা করতে বলেছে, যে ধর্মের অন্যতম ধর্মগ্রন্থ যেটা গীতা ধরা হয়, সেখানে স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যে, কর্মের ফল সেটা নিশ্চিত ভোগ করতে হবে; আমার কথা হলো যে, টাকা নিয়ে একটা গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরে সেই ধর্মের কোন বিজ্ঞাপন এরা স্থাপন করল, সেটা দেখতে হবে।
- ২. প্রমাণিত সত্য যে, এরা টাকা নিয়েই কাজ করেছে, যেটা সমাজে যেকোনো সময় দাঙ্গা লাগাতে পারত। আমি চাই অবিলম্বে এটা যেন পুলিশ নিজে থেকেই দেখেন। যারা দাঙ্গার প্ররোচনা দেয় টাকা নিয়ে, তাদের থেকে ভয়ঙ্করতম কীট সমাজে আর হতে পারে না। এই সায়ক চক্রবর্তীর মতো লোকেদেরকে কোট-আনকোট আমি বলছি এদের চিহ্নিত করা হোক। এরা সাংঘাতিক এবং যারা আজকে একটি মুসলমান ধর্মী গরিব মানুষের চাকরি গেছে বলে হাতে তালি বাজাচ্ছেন, তারা এই রাজনীতিটা সম্পর্কে সচেতন হন যে, যেদিন বিজেপির দরকার পড়বে, সেদিন বিজেপি এলাকার পর এলাকায় দাঙ্গা ছড়িয়ে হিন্দু-মুসলমানের রক্ত আর তখন দেখবে না, নিজের রাজনৈতিক ফায়দার জন্য যেকোনো সাধারণ বাঙালিকে পিষে মারতে পারে। এই কথাটা যেন এই মুহূর্তে প্রত্যেকের মগজে ঢুকে যায়। যদি মগজে না ঢোকে, তাহলে ভবিষ্যতে এই সায়ক চক্রবর্তীদের মতো লোকেরা যে চরম ক্ষতি করতে পারে শুধুমাত্র টাকার জন্য বা টাকা নিয়ে, সেটা না আমাদের কল্পনারও বাইরে।”


