Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘এক পক্ষকে দেওয়া হবে, আর আরেক পক্ষকে দেয়া হবে না- এটা ঠিক নয় (Calcutta High Court) । বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বরকে এভাবে দমিয়ে রাখা উচিত নয়। তারা তো সেখানে কোনও লটারির দোকান দেবেন না! বইয়ের স্টল করবেন। তাতে অসুবিধার কী আছে? অভিযোগ দেখে তো স্পষ্ট মনে হচ্ছে, বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে, যা সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ভাবধারার বিরোধী।’- বনগাঁ এবং নৈহাটিতে বামেদের বুক স্টল করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বুধবার এমনই মন্তব্য করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। সেই সঙ্গে পুলিশের থেকে রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতি। ওই এলাকায় পুজোকে কেন্দ্র করে কতগুলি স্টল বসানো হয়েছে বা স্টল বসানোর কাজ চলছে, পূর্ত দফতরের থেকে সেগুলোর অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা, তা রিপোর্ট আকারে আগামীকাল তথা বৃহস্পতিবার পুলিশকে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য।
শুনানি নিয়ে আপত্তি তোলে রাজ্য (Calcutta High Court)
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর এজলাসে এই মামলার শুনানি নিয়ে আপত্তি তোলে রাজ্য। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র এদিন বলেন, ‘আদালতের এই বেঞ্চে সিপিএমের এই মামলার শুনানি হতে পারেনা। এটা পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা অতিসক্রিয়তা সংক্রান্ত মামলা নয়। এটি স্রেফ জমি সংক্রান্ত বিষয়। এই মামলার সঙ্গে পুলিশের কোনও সম্পর্ক নেই। তাই এই মামলাটির উপযুক্ত বেঞ্চে শুনানি হওয়া উচিৎ।’ তাই মামলাটি উপযুক্ত বেঞ্চে পাঠানোর দাবি জানান রাজ্যের আইনজীবী।
বুকস্টল করার আবেদন জানিয়েছে (Calcutta High Court)
এদিন এজি দাবি করেন, ‘যেখানে সিপিআইএম বুকস্টল করার আবেদন জানিয়েছে, তা আসলে পূর্ত দফতরের অধীনস্থ জমি। বুক স্টল করার অনুমতি চেয়ে সিপিআইএম জেলাশাসকের কাছে আবেদন করেছিল। কিন্তু জায়গাটি পূর্ত দফতরের। তাই জেলাশাসক অনুমতি দিতে পারেন না। সিপিএমের উচিত ছিল পূর্ত দফতরের কাছে অনুমতি চাওয়া। এই বেঞ্চে জেলাশাসক বা পূর্ত দফতরের বিরুদ্ধে কোনও মামলার শুনানি হওয়া উচিৎ নয়। তাই সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলাটি পাঠানো হোক।’
সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিচারপতি (Calcutta High Court)
রাজ্যের বক্তব্য শুনে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য। পাল্টা তিনি প্রশ্ন করেন, ‘পুজোয় যে হাজার হাজার স্টল তৈরি হয়, তার সব কটিই কি পিডব্লিউডি বা কলকাতার ক্ষেত্রে পুরসভার লিখিত অনুমতি নিয়ে করা হয়? রাজ্যের নীতি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। এখানে পুলিশের ভূমিকা নিয়েই মূল অভিযোগ উঠেছে এবং পুলিসের কাছে অভিযোগ দায়েরও হয়েছিল। তাহলে কেন এই আদালত মামলা শুনতে পারবে না?’
আদালতে অভিযোগ করেন (Calcutta High Court)
সিপিআইএমের আইনজীবী শামিম আহমেদ আদালতে অভিযোগ করেন, নৈহাটিতে তাঁদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁরা প্রতিবছর বইয়ের স্টল করেন। মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই সেখানে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ বাঁশ-ত্রিপল দিয়ে বড় অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করেছে। পুলিসের উপস্থিতিতেই বাম কর্মীদের স্টল তৈরিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
বিচারপতি কটাক্ষের সুরে বলেন (Calcutta High Court)
তা শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘এত বড় স্টল কী ভাবে তৈরি হল? তাদের কি পূর্ত দফতরের অনুমতি ছিল? দিনের শেষে দেখা যাবে রাস্তার ধারে বন্দুক দিয়ে বেলুন ফাটানোর স্টল তৈরি হয়েছে। অথচ বইয়ের স্টল করতে দেওয়া হচ্ছে না!’ বিচারপতি ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘উৎসবের আবহে কোনও অপ্রীতিকর সংঘাত চায়না বিচার ব্যবস্থা। আমি রাজ্যকে কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের স্টল তুলে দিতে বলছি না। আপনারা সিপিআইএম-কেও শান্তিপূর্ণভাবে বুক স্টল তৈরি করার অনুমতি দিন।’

আরও পড়ুন: CJP Protest: ভারতের CJP আন্দোলনে বাংলাদেশের মদত? সারজিসের সমর্থন, বিস্ফোরক দাবি দিলীপের
রিপোর্ট তলব করে জানান
তারপরই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য পুলিশের থেকে রিপোর্ট তলব করে জানান, তিনি মামলাটি ছেড়ে দেবেন কিনা তা বিবেচনা করে দেখবেন। তবে তার আগে পুলিশের থেকে রিপোর্ট চেয়ে তিনি দেখতে চান পূর্ত দফতরের অনুমতি নিয়ে কারা স্টল দিচ্ছেন। আগামীকাল তথা বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি। সেই দিন আদালতে রিপোর্ট জমা দেবে পুলিশ। তারপরই বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেবেন মামলাটি তিনি শুনবেন নাকি ছেড়ে দেবেন।



