Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পুজোর আবহে বাংলার একাধিক প্রান্তে সিপিএমের বুকস্টল ঘিরে তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা (CPIM Book Stall)। কোথাও বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ, কোথাও আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও স্টল তৈরিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এসেছে রাজনৈতিক সংঘাত। ঢাকুরিয়ার পর শিবপুর, বীজপুর, কুলপি থেকে এন্টালি—একাধিক জায়গায় একই ধরনের অভিযোগ ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক মহল।

বীজপুরে রাতের অন্ধকারে বুকস্টলে আগুন? (CPIM Book Stall)
উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরে রাতের অন্ধকারে সিপিএমের বুকস্টল ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বীজপুর পানপুর এরিয়া কমিটির অন্তর্গত চারাপোলে শাখা অফিসের সামনে তৈরি করা হয়েছিল ওই বুকস্টল। সিপিএমের অভিযোগ, বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। যদিও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত।
ঢাকুরিয়ার পর শিবপুরেও ভাঙচুর (CPIM Book Stall)
এর আগেই ঢাকুরিয়ায় বামেদের বুকস্টল ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেখানে বাম কর্মীদের মারধরের অভিযোগও ওঠে। বামেরা বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেও বিজেপি সেই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করে, বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি বা রাষ্ট্রবাদী সংগঠনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা সিপিএম দখল করছে। এরপর হাওড়ার শিবপুরেও পুজো মণ্ডপের সামনে নির্মীয়মাণ সিপিএমের বুকস্টল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। ফলে পরপর ঘটনায় রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

এন্টালিতে ‘বাম বধ’ ঘিরে বিতর্ক (CPIM Book Stall)
এন্টালির কামারডাঙাতেও বুকস্টল তৈরিকে কেন্দ্র করে বাধার অভিযোগ উঠেছে। কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতির দাবি, দোকান ঘিরে সিপিএম স্টল তৈরি করছিল, স্থানীয় বাসিন্দারাই তাতে বাধা দেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সমিতির নামেই আগে ‘বাম বধ’-এর হুঁশিয়ারি দিয়ে ফ্লেক্স লাগানোর অভিযোগ উঠেছিল। পুজোয় বামেদের বুকস্টল বসতে দেওয়া হবে না—এমন বার্তাও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি বামেদের।
কুলপিতে স্লোগান ঘিরে উত্তেজনা (CPIM Book Stall)
কুলপিতেও বুকস্টল তৈরির সময় ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। সিপিএমের অভিযোগ, এর পিছনে বিজেপির ভূমিকা রয়েছে। প্রতিবাদে থানার দ্বারস্থ হয়েছে দলীয় নেতৃত্ব। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে বিক্ষোভকারীদের দাবি, কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, সাধারণ হিন্দুদের পক্ষ থেকেই প্রতিবাদ করা হয়েছে।
বনগাঁ-নৈহাটির মামলা গড়ায় হাইকোর্টে
বনগাঁ ও নৈহাটিতে দুর্গাপুজোর সময় দুটি বুকস্টল করার অনুমতি চেয়ে সিপিএম আবেদন করেছিল। অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগে বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, তাঁরা বই বিক্রি করতে চান, খাবার নয়। পরে কলকাতা হাইকোর্ট বনগাঁয় সিপিএমের পার্টি অফিসের ১০০ মিটারের মধ্যে বুকস্টল তৈরির সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে স্টল তৈরি এবং পরবর্তী সময়ে যাতে কোনও অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশও দেওয়া হয়।



