Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শিক্ষাক্ষেত্রে ভঙ্গুর পরিকাঠামো, লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি এবং একাধিক সামাজিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফ্রান্সে (France)। প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হিসেবে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমশ হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে। রাজধানী প্যারিস-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ব্যাপক অস্থিরতা ছড়িয়েছে ইউরোপের এই দেশে।

আগুনে পুড়ে ছাই ১৪০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ভবন (France)
বিক্ষোভের ভয়াবহতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে লিমোজ শহরে। সেখানে জনতার তাণ্ডবের মধ্যে আগুনে পুড়ে কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ১৪০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যশালী টাউন হল। ঐতিহাসিক ভবনটি দুই বিশ্বযুদ্ধের ধাক্কা সামলেও এত দিন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের লাগানো আগুনে এবার সেই ঐতিহ্য বিপন্ন হয়েছে। অগ্নিসংযোগের আগে ভবনটিতে লুটপাট চালানোর অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে (France)।
সংঘর্ষ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে বিপর্যস্ত একাধিক শহর (France)
প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিল, তুলুজ এবং স্ত্রাসবুর্গ-সহ একাধিক শহরে বিক্ষোভের জেরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সুপারমার্কেট, ফার্মেসি, পোশাকের শোরুম, চশমার দোকান এবং ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিপণিতে হামলার খবর সামনে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। পালটা বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও আতসবাজি ছোড়ে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কীভাবে হিংসার চেহারা নিতে পারে, এই ঘটনায় তা আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে।
গ্রেপ্তার ১২০০, আহত দেড়শো পুলিশকর্মী (France)
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর বক্তব্য অনুযায়ী, সহিংসতার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ১২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভ সামলাতে গিয়ে আহত হয়েছেন ১৫০ জন পুলিশকর্মী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার। অন্যদিকে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া সিজিটি শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, দেশজুড়ে পথে নেমেছিলেন ৮ লক্ষেরও বেশি মানুষ। দক্ষিণাঞ্চলীয় সাঁ-এতিয়েন শহরে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরের ডান হাত উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
জনরোষের নেপথ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষ
এই আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষা পরিকাঠামোর দুরবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ। ছাত্রদের প্রতিবাদ বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের চেহারা নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে বিক্ষোভের নামে ঐতিহাসিক সম্পত্তি ধ্বংস, দোকানপাট লুট এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিপন্ন করার ঘটনা আন্দোলনের চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
আরও পড়ুন: South 24 Parganas: আট মাসের ব্যবধানে ফের নাজিরাবাদের মোমো গোডাউনে আগুন!
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
দেশজুড়ে অস্থিরতার প্রভাব পড়তে পারে ফ্রান্সের রাজনৈতিক সমীকরণেও। সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জনঅসন্তোষ সামলানোর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতির মধ্যেই এই পরিস্থিতি নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উত্তরসূরি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক হিসাবনিকাশও প্রভাবিত হতে পারে। এখন দেখার, আলোচনার মাধ্যমে সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারে কি না, নাকি বিক্ষোভের আগুন আরও বড় রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দেয়।



