Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুর্গাপুজোর আনন্দ, উৎসবের উন্মাদনা এবং মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যেই ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল ট্রাফিক বিভাগ (Kolkata Traffic Police)। পুজোর সপ্তমী, অর্থাৎ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে শহর ও বিভিন্ন ট্রাফিক ডিভিশনে জোরদার করা হয় নজরদারি। ১৮ অক্টোবর ২০২৬-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগে মোট ৮৩৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ঘটনায় ৬১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুজোর মরশুমে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই তৎপরতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
হেলমেট ছাড়া বাইক চালানোয় সবচেয়ে বেশি মামলা
ট্রাফিক বিভাগের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সপ্তমীর দিন সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে হেলমেট ছাড়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে। এই অপরাধে মোট ২৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাইক চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার শুধু আইন মেনে চলার বিষয় নয়, বরং দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মাথায় গুরুতর আঘাতের ঝুঁকি কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়। উৎসবের ব্যস্ততায় অনেকেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। সেই প্রবণতা রুখতেই পুলিশের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ট্রিপল রাইডিংয়ে ১৪৮টি মামলা (Kolkata Traffic Police)
একটি বাইকে তিনজন যাত্রীর ওঠার প্রবণতাও ট্রাফিক বিভাগের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সপ্তমীর দিন ট্রিপল রাইডিংয়ের অভিযোগে মোট ১৪৮টি মামলা করা হয়েছে। নির্ধারিত যাত্রীসংখ্যার বেশি মানুষ নিয়ে বাইক চালালে যানবাহনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। বিশেষ করে পুজোর সময় রাস্তায় গাড়ি ও মানুষের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই ধরনের নিয়মভঙ্গ অন্য পথচারী এবং গাড়িচালকদের জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
বেপরোয়া গতি ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোয় নজরদারি
বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে ১২৭টি মামলা দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে করা হয়েছে ১২০টি মামলা। এই দুই ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন পথ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অতিরিক্ত গতি চালককে পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ কমিয়ে দেয়। একইভাবে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালালে বিচারবুদ্ধি, মনোযোগ এবং প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই উৎসবের সময় এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি জরুরি।
অন্যান্য অপরাধে আরও ১৬৯টি মামলা (Kolkata Traffic Police)
উল্লিখিত অপরাধগুলি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও ১৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩৩। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে, উৎসবের দিনগুলিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ঠিক কোন কোন অপরাধের জন্য এই অতিরিক্ত মামলাগুলি করা হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে, ওই দিনে অবৈধ মদ বাজেয়াপ্ত করার কোনও ঘটনা নথিভুক্ত হয়নি।
আরও পড়ুন: South 24 Parganas: আট মাসের ব্যবধানে ফের নাজিরাবাদের মোমো গোডাউনে আগুন!
নিরাপদ পুজোর জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই
দুর্গাপুজোয় মানুষের আনন্দ ও উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাফিক পুলিশের অভিযান আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও সতর্কবার্তা। হেলমেট পরা, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, ট্রিপল রাইডিং এড়ানো এবং মদ্যপ অবস্থায় কোনওভাবেই গাড়ি না চালানোর মতো নিয়মগুলি মেনে চলা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। পুলিশের নজরদারি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে দুর্ঘটনা কমাতে প্রয়োজন নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ। উৎসবের আনন্দ যেন কোনও দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির কারণ না হয়ে ওঠে, সেই লক্ষ্যেই ট্রাফিক আইন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।



