Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘হা রে রে রে রে রে, ওই যে কারা আসতেছে ডাক ছেড়ে’- ডাকাত (Bohurupi The Golden Daku Review) বললেই যেন রবি ঠাকুরের এই কবিতা মাথায় আসে। কিন্তু শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় আর নন্দিতা রায় যেন বড় পর্দায় ডাকাতের বর্ণনাটাই বদলে দিয়েছে। এই ডাকাত ডাকাতি করে কিন্তু সকল অংশীদারকে সমান ভাগ দেয়। সোনার দোকানে ডাকাতি করলে যাতে দোকানদার মোটা টাকা ইন্সুরেন্স পান সেই ব্যবস্থা নিজে হাতে করে আসেন। ঠিক ধরেছেন। কথা হচ্ছে বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু নিয়ে।
গল্পের শুরু (Bohurupi The Golden Daku Review)
গল্পের শুরু ছবির নায়ক বিক্রম (Bohurupi The Golden Daku Review) প্রামাণিককে নিয়ে। ২৭ টা ব্যাংক ডাকাতি করে ৭ বছর জেলে গিয়ে এখন ছ্যাঁচড়াপুরে ঝিমলি আর ছেলেকে নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকে। কিন্তু জীবনে ঘটে হঠাৎই বিপর্যয়। ভাগ্যের ফেরে খানিকটা বাধ্য হয়ে ডাকাতি করতে হয়। তারপর দারোগাবাবু অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মধুর প্রতিশোধের খেলা। শেষটুকু গল্প গড়াতে বোঝা গেলেও খানিকটা চমক আছে।
গল্পের প্লট (Bohurupi The Golden Daku Review)
গল্পের শুরু টা খানিকটা এলোমেলো (Bohurupi The Golden Daku Review) লেগেছে। ডাকাত বলে বিক্রমকে যে ডাকাতি করতেই হবে, নইলে গল্প দাঁড়াবে কিভাবে? সেই জন্যই বোধ হয় হুট্ করে গল্পে ঢুকে পড়া। বহুরূপীর প্রথম পর্বের গল্পের বুনন কিন্তু এতটা আলগা ছিল না। বেশকিছু জায়গায় সিস্টেম-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দেখাতে গিয়ে জেলের ভেতরের ব্যবস্থাকে যেন বেশ খানিকটা আলগা আর ক্রিমিনালদের আরও বেশি ক্রাইম করার সহজলভ্য জায়গা হিসেবে দেখানো হয়েছে। সিনেমার শেষে খবরের কাগজের কাটিং জমা দিলেও, অনেক প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে থেকেই যায়। তবে যেই অঞ্চলে পুলিশ ক্রাইম করে সেখানকার জন্য ব্যবসাদার ভালোমানুষ ডাকাতকে দর্শকের মনে ধরতেই পারে। তবে বহুরূপীর গল্পে ডাকাতের বহুরূপ চোখে পড়ার মতো।
শেষ হয়েও হইল না শেষ
শেষে চোর পুলিশের খেলার অবসান হলে দারুন এক চরিত্রের আবির্ভাব হবে। সেখানেই খানিকটা দর্শককে আগাম ডাকাত গ্যাং-এর কিছুটা আভাস দেওয়া থাকবে।
অভিনয়
শিবপ্রসাদ বাবু পরিচালক না হয়ে শুধু অভিনেতা হলে কোনও আক্ষেপ থাকতো না। ঝিমলি মনে কৌশানী এই গল্পে যোগ্য সহধর্মিনী। আসল জুটি তো যীশু সেনগুপ্ত আর শিবপ্রসাদের। সোহিনী খুব স্বাভাবিক ভাবেই ধূসর ঘেঁষা চরিত্রে সাবলীল। এই বয়সেও দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন প্রদীপ বাবু। বাকিরাও গল্পের সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছে।
গানে গানে
এই ছবির গান তেমন দর্শকদের মনে দাগ কাটতে পারেনি। বিলাই মেও মেও গানে যদিও বা দর্শকের মন দোলে, বাকি কোনও গানই তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।
আরও পড়ুন: Ranbir Kapoor: ‘রামায়ণ’ প্রচারে বড়সড় ভুল রণবীরের, ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন আলিয়া!
ওয়ান টাইম ওয়াচ হিসেবে ভালো ছবি বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু। তবে ওই যে, যেই শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটি বহুরুপীর প্রথম পর্ব বানিয়েছিলেন, সেই যে টানটান উত্তেজনার শেষে সুমন্ত ঘোষালের গ্রেফতারি, এক্ষেত্রে ততটা নুন নেই সিনেমায়।


