Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উয়েফা এবং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার মধ্যে দ্বন্দ্ব এক চরম রূপ নিয়েছে (FIFA-UEFA)। সম্প্রতি ফিফা মহাসচিব মাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে লেখা এক চিঠিতে ফিফার কাজের স্বচ্ছতা ও নীতি-নির্ধারণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মোট ৪২টি সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন পাঠিয়েছে উয়েফা। উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থিওডোর থিওডোরিডিসের স্বাক্ষর করা এই চিঠিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ফিফার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে এই সমস্ত প্রশ্নের লিখিত জবাব ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র ফিফার কাছে তলব করেছে উয়েফা।
২০ বিলিয়ন ডলারের এফএফই প্রকল্প (FIFA-UEFA)
উয়েফার অভিযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হল ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্প। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ফিফা কাউন্সিলের সঙ্গে কোনো পূর্ব আলোচনা না করেই বিশ্বকাপের আংশিক স্বত্ব বিক্রি করে ২০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের একতরফা পরিকল্পনা করেছিলেন। এই বিনিয়োগের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জশ কুশনারের নেতৃত্বাধীন প্রাইভেট ইক্যুইটি সংস্থা ‘থ্রাইভ ক্যাপিটাল’-কে একচেটিয়া অধিকার দেওয়া হয়। উয়েফা জানতে চেয়েছে, কখন এবং কার মাধ্যমে এই প্রকল্পের সূচনা হয় এবং কাকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন রাজনৈতিক প্রভাব (FIFA-UEFA)
চিঠিতে উঠে এসেছে মার্কিন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ও। ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারাইন বালোগনের পাওয়া লাল কার্ড বাতিলের প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে উয়েফা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি ফোন কলে ইনফান্তিনোকে কী বলেছিলেন এবং সেই বার্তার ভিত্তিতেই কীভাবে সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হলো, সেটির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সম্প্রতি ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ গঠন করা এবং তা ট্রাম্পকে প্রদান করার সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
বয়কটের হুমকি (FIFA-UEFA)
ফিফার এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উয়েফা ইতোমধ্যেই ফিফার সমস্ত প্রতিযোগিতা বয়কট করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে ফিফা এই প্রকল্প বাতিল করে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দিলে বয়কটের অবস্থান থেকে সরে আসে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাটি। তবে বয়কট প্রত্যাহার করলেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ফেরেনি। ২০২৭ সালের মার্চে তার সম্ভাব্য পুনঃনির্বাচনের প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে চলেছে উয়েফা। উয়েফা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ভুল স্বীকার বা প্রকল্প প্রত্যাহার করলেই সমস্যার সমাধান হয় না; কীভাবে ফিফা কাউন্সিলকে আড়াল করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: Sourav Ganguly: বায়োপিকের আগেই আইনি ধাক্কা মহারাজকে! আদালতের রায়ে মুক্তি পেল কোন ছবি?
২ নভেম্বরের সময়সীমা (FIFA-UEFA)
উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থিওডোর থিওডোরিডিস জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে কাউন্সিল সদস্যদের তোলা মৌলিক প্রশ্নগুলোর কোনও সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি (FIFA-UEFA) এবং অনুরোধ করা নথিপত্রও জমা দেওয়া হয়নি। তাই সমস্ত প্রশ্নের লিখিত জবাব এবং সহায়ক নথিপত্র আগামী ২ নভেম্বর (সোমবার)-এর মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য ফিফাকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। উয়েফার স্পষ্ট কথা, ফিফার নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় প্রতিটি স্তরে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতেই হবে।



