Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফুটবল মাঠের সমস্ত সাফল্য ও রেকর্ডের সীমা ছাড়িয়ে এবার বিজ্ঞানের জগতেও বিশ্বরেকর্ড গড়লেন লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi)। তবে এই বিশেষ কৃতিত্বের পেছনে মাঠের ফুটবল নৈপুণ্য নয়, বরং গবেষকদের তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানই প্রধান কারণ। দক্ষিণ আফ্রিকার পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় নতুন আবিষ্কৃত একটি বিশেষ উদ্ভিদের নামকরণ করা হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মিয়ামির এই কিংবদন্তি ফুটবলারের নামে। এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মোট ছ’টি জীব, জীবাশ্ম ও উদ্ভিদের প্রজাতির সঙ্গে যুক্ত হলো মেসির নাম, যা কোনো ফুটবলারের ক্ষেত্রে সর্বকালের সেরা নজির।
নতুন আবিষ্কৃত ‘সালভিয়া মেসি’ (Lionel Messi)
পেরুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সান মার্কোসের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের বিজ্ঞানী পল গনজালেসের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল এই নতুন উদ্ভিদটি আবিষ্কার করেছেন। এটি মূলত এক ধরনের ঔষধি উদ্ভিদ, যা পুদিনা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। পেরুর মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের আন্দিজ পর্বতমালায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৪০০ মিটার উঁচুতে থাকা পাথুরে ও শুষ্ক ঢালে এই গাছ জন্মায়। উদ্ভিদটি প্রায় দেড় মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং এতে ফুটতে দেখা যায় হালকা নীল ও সাদা রঙের ফুল।
নামকরণের বিশেষ ঔষধি গুণ (Lionel Messi)
নতুন এই উদ্ভিদটির হালকা নীল ও সাদা ফুলের রঙের সঙ্গে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা ও ফুটবল দলের জার্সির রঙের গভীর মিল রয়েছে। মূলত এই মিলের কথা ভেবেই উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে ‘সালভিয়া মেসি’। বৈজ্ঞানিক নামকরণের চিরাচরিত রীতির অনুসরণে মেসির পদবির শেষে একটি লাতিন ‘আই’ যুক্ত করা হয়েছে, যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘মেসির ঔষধি’। এই গোষ্ঠীর অন্যান্য উদ্ভিদের মতো সালভিয়া মেসিও প্রদাহবিরোধী, জীবাণুনাশক এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলীতে সমৃদ্ধ বলে জানা গিয়েছে।
ছ’টি ভিন্ন প্রজাতির সঙ্গে মেসি (Lionel Messi)
ফুটবলার হিসেবে সবচেয়ে বেশি জীবজন্তু, জীবাশ্ম, ছত্রাক ও উদ্ভিদের প্রজাতির সঙ্গে নাম যুক্ত থাকার গিনেস বিশ্বরেকর্ডটি আগেই মেসির দখলে ছিল। ২০২৪ সালের মে মাসে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে এই অনন্য স্বীকৃতি দেয়। ‘সালভিয়া মেসি’র আগে মেসির নামে আরও পাঁচটি ভিন্ন প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে— যার মধ্যে রয়েছে একটি টিকটিকি, একটি মাকড়সা, দুটি প্রাক-ঐতিহাসিক জীবাশ্ম প্রজাতি এবং একটি ছত্রাক। এবার সেই তালিকায় সপ্তম মহাদেশের উদ্ভিদের প্রজাতি যুক্ত হওয়ায় নিজের গড়ে তোলা বিশ্বরেকর্ডটিকেই নতুন করে উচ্চতায় নিয়ে গেলেন মেসি।
আরও পড়ুন: Bruno Fernandes: ব্রুনো ফার্নান্ডেজের বাড়িতে দুঃসংবাদ, কী হল?
অস্তিত্ব রক্ষার সংকট (Lionel Messi)
বিজ্ঞানের জগতে নতুন এই সংযোজন আনন্দ বয়ে আনলেও উদ্ভিদটিকে নিয়ে চিন্তার ভাঁজ বৈজ্ঞানিক মহলে (Lionel Messi)। অত্যন্ত সীমিত ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানোর কারণে নতুন আবিষ্কৃত এই প্রজাতিটিকে ইতিমধ্যেই একটি ‘বিপন্ন প্রজাতি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, যদি অবিলম্বে আন্দিজ পর্বতমালার এই নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক বাসস্থান সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই প্রকৃতি থেকে চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে বিরল ‘সালভিয়া মেসি’।



