Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রিমিক মাঝি: আইপ্যাক-এর (IPAC Case) সল্টলেকের দফতরে এবং আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশিতে বাধা দেওয়া এবং নথি ও ফাইল সরিয়ে ফেলার অভিযোগে মমতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টে মামলা করেছিল ইডি। বৃহস্পতিবার সেই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হল। তবে রায়দান স্থগিত রাখলেন বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ।
ঠিক কী হয়েছিল? (IPAC Case)
বেআইনি কয়লা পাচার এবং আর্থিক তছরুপের (IPAC Case) মামলার তদন্তে গত ৮ জানুয়ারি সকালে আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈন এবং আইপ্যাক-এর সল্টলেক সেক্টর ফাইভের দফতরে হানা দেয় ইডি। খবর পেয়েই তদন্ত চলাকালীন প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়ি, পরে সল্টলেকে আইপ্যাক-এর দফতরে পৌঁছে যান তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ ওঠে, সল্টলেকের আইপ্যাক-এর দফতর থেকে একাধিক ফাইল, নথি এবং ইলেকট্রনিক গ্যাজেট গাড়ি বোঝাই করে নিয়ে বেরিয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতা হাইকোর্টে মামলা (IPAC Case)
এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবং তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস পৃথকভাবে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ ছিল, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফাইল তদন্তকারীদের থেকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। অপরদিকে তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দলীয় নথি সরাতেই ইডি-কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। যদিও ইডি আদালতে দাবি করে তারা কোন নথি বা ফাইল বাজেয়াপ্ত করেনি। এই মামলার শুনানি ঘিরে ভরা এজলাসে চরম উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় শুনানি না করেই ১৪ জুন পর্যন্ত শুনানি মুলতুবি করে দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। এরপরই গোটা ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি।
রাজ্যে পালাবদলের পর এই মামলায় দুই পক্ষই তাদের অবস্থান বদলায়। পালাবদলের পরেও গত আগস্ট মাসের শুনানিতে আদালত পছন্দের তদন্তকারী সংস্থা বাছাইয়ের বিষয়টি রাজ্যের উপর ছেড়ে দেওয়া যায় কি না, জানতে চাইলে ইডির আইনজীবী তথা অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু তাতে রাজি হননি। তাঁর যুক্তি ছিল, ক্ষমতা বদলের পরেও রাজ্য পুলিশের উপর তাঁদের আস্থা নেই।আবার প্রথমে বিরোধিতা করলেও গত আগস্ট মাসের শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী মেনোকা গুরুস্বামী সিবিআই তদন্তে আপত্তি নেই বলে আদালতকে জানায়।
এই মামলার দীর্ঘ শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে বারবার ইডি’র মামলা করার এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বৃহস্পতিবার সেই মামলারই চূড়ান্ত শুনানি শেষ হল। তবে রায়দান স্থগিত রাখল শীর্ষ আদালত।


