Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হাতে ছিল ২০৯ রানের লিড। প্রতিপক্ষকে ফলো অন করানোর সুযোগও ছিল (Ranji Trophy Bengal)। কিন্তু সেই পথে হাঁটেননি বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোচের সেই কৌশলই যে সঠিক ছিল, তা প্রমাণ করে দিল বাংলার ক্রিকেটাররা। কেরলকে ২৮৭ রানে হারিয়ে রনজি ট্রফিতে জয়ের হ্যাটট্রিক করল বঙ্গ ব্রিগেড। ব্যাট হাতে শাহবাজ আহমেদের দুরন্ত শতরান এবং বল হাতে প্রদীপ্ত প্রামাণিকের বিধ্বংসী পারফরম্যান্সে এল এই বড় জয়। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক প্রদীপ্ত।
কেন ফলো অনের সিদ্ধান্ত নয়? (Ranji Trophy Bengal)
প্রথম ইনিংসে ২০৯ রানের লিড পাওয়ার পর কেরলকে ফলো অন করানোর সুযোগ ছিল বাংলার সামনে। কিন্তু তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কথা মাথায় রেখে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন লক্ষ্মীরতন শুক্ল। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে নিজের কৌশলের ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন বাংলার কোচ।
লক্ষ্মীরতন বলেছিলেন, “ফলো অন করানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখেই আমরা নিজেরা ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিই। এখানে গরমের পাশাপাশি আর্দ্রতাও প্রচণ্ড। বোলাররা ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল। মূলত সেই কারণেই আমরা আগে ব্যাট করতে চেয়েছিলাম। পিচে বল খুব বেশি ঘুরছে, এমনটা বলা যায় না। তবে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা সব সময়ই ঝুঁকির।”
ম্যাচের ফলাফলই বুঝিয়ে দিল, কোচের সেই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে কেরলের বোলারদের যেমন ক্লান্ত করে বাংলা, তেমনই চতুর্থ ইনিংসে বড় রান তাড়া করার চাপেও ভেঙে পড়ে প্রতিপক্ষ।
শাহবাজের শতরানে বড় লিড বাংলার (Ranji Trophy Bengal)
প্রথম ইনিংসে বাংলার বড় রানের ভিত গড়ে দেন শাহবাজ আহমেদ। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২০৩ বলে ১২১ রানের দুরন্ত ইনিংস। অঙ্কুর পাল করেন ৮০ বলে ৬৬ রান। অন্যদিকে, সুমন্ত গুপ্তের অবদান ৯৫ বলে ৪৯ রান। এই তিন ব্যাটারের পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে সাড়ে ৩৫০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় বাংলা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলার বোলারদের সামনে কার্যত অসহায় দেখায় কেরলকে। মাত্র ১৪১ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের প্রথম ইনিংস। আগের দিন ছ’টি উইকেট হারিয়ে চাপে থাকা শচীন বেবির দল তৃতীয় দিনের সকালে দ্রুত বাকি চার উইকেট হারায়। ফলে প্রথম ইনিংসেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায় বঙ্গ ব্রিগেড।
প্রদীপ্তের আগুনে বোলিং (Ranji Trophy Bengal)
কেরলের প্রথম ইনিংসে বাংলার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন প্রদীপ্ত প্রামাণিক। ১৬.৩ ওভার বল করে ৪৪ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন তিনি। মহম্মদ সামির ঝুলিতে আসে তিনটি উইকেট। পাশাপাশি শাহবাজ আহমেদও দু’টি উইকেট নিয়ে দলের সুবিধা বাড়ান।
ব্যাট হাতে শতরান করার পর বল হাতেও অবদান রাখেন শাহবাজ। ফলে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই বাংলার দাপট ছিল স্পষ্ট। প্রথম ইনিংসের এই পারফরম্যান্সই কেরলকে ম্যাচে অনেকটা পিছিয়ে দেয়।
কেরলের সামনে ৪০৮ রানের লক্ষ্য (Ranji Trophy Bengal)
দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত রান তোলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে বাংলা। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন। শাহবাজের ব্যাট থেকে আসে ৪০ বলে ২০ রান। অঙ্কুর পাল করেন ১২ এবং সুমন্ত গুপ্তের অবদান ছয় রান। তবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারায় বাংলা। শেষ পর্যন্ত ১৯৮ রানে শেষ হয় দ্বিতীয় ইনিংস।
দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলার লিড দাঁড়ায় ৪০৭ রানে। ফলে কেরলের সামনে জয়ের লক্ষ্য ছিল ৪০৮ রান। তৃতীয় দিনের শেষে মাত্র ৫৩ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে কার্যত হারের মুখে পড়ে যায় কেরল। চতুর্থ দিনে বাংলার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল বাকি ছ’টি উইকেট তুলে নেওয়া।
মাত্র ৬৭ রানেই শেষ কেরল (Ranji Trophy Bengal)
চতুর্থ দিনের সকালে বাংলার বোলাররা বাকি কাজটুকু সারতে বেশি সময় নেননি। স্কোরবোর্ডে মাত্র ৬৭ রান যোগ করেই শেষ ছ’টি উইকেট হারায় কেরল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রান দিয়ে ছ’টি উইকেট তুলে নেন প্রদীপ্ত প্রামাণিক। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাঁর শিকার ১০ উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে মহম্মদ শামি ও শাহবাজ আহমেদ দু’টি করে উইকেট নেন। ফলে কেরলকে ২৮৭ রানে হারিয়ে বড় জয় নিশ্চিত করে বাংলা। ব্যাট হাতে শাহবাজের শতরান এবং বল হাতে প্রদীপ্তের ১০ উইকেট—দলের জয়ের দুই প্রধান কারিগর হয়ে থাকলেন তাঁরা।
১০ উইকেট নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রদীপ্ত (Ranji Trophy Bengal)
ম্যাচের পর নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রদীপ্ত প্রামাণিক (Ranji Trophy Bengal)। তিনি বলেন, “১০টি উইকেট নিতে পারাটা আমার কাছে সত্যিই স্পেশাল। গর্বের মুহূর্তও। সবচেয়ে বড় কথা, দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরেছি। এর জন্য খুব খুশি। আগামী ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাকে জেতানোই লক্ষ্য থাকবে।”
আরও পড়ুন: Neymar jr: মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঝামেলা, বড় শাস্তি নেইমারের!
কেরলের বিরুদ্ধে এই জয়ের ফলে রনজি ট্রফিতে টানা তিনটি ম্যাচ জিতল বাংলা। জয়ের ধারাবাহিকতায় পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থানও আরও মজবুত করল বঙ্গ ব্রিগেড। ব্যাটারদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স এবং বোলারদের দাপটে লক্ষ্মীরতন শুক্লর দল যে ছন্দে রয়েছে, এই জয় তারই প্রমাণ।



