Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে মহিলা ও পুরুষ অ্যাথলিটদের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য দূর করার দাবি দীর্ঘদিনের (FIFA World Cup)। এই বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফাও। সেই লক্ষ্যেই এবার বড় পদক্ষেপের পথে তারা। ২০২৭ সালে ব্রাজ়িলে আয়োজিত হতে চলা মহিলা বিশ্বকাপের পুরস্কারমূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব আনতে চলেছে ফিফা। সংবাদসংস্থা ESPN-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এই প্রস্তাব পেশ করা হতে পারে। তবে পুরুষদের বিশ্বকাপের সঙ্গে আর্থিক সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এখনও অনেকটা পথ বাকি।
দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ছে পুরস্কারমূল্য (FIFA World Cup)
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মহিলা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলির জন্য মোট ২২ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২,৮০০ কোটি টাকারও বেশি) পুরস্কারমূল্য হিসেবে বরাদ্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত মহিলা বিশ্বকাপে এই অঙ্ক ছিল ১১ কোটি ডলার। যদিও প্রস্তুতি তহবিল ও ক্লাব বেনিফিট-সহ সেই আসরের মোট আর্থিক প্যাকেজ ছিল ১৫ কোটি ডলার। ফলে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে পুরস্কারমূল্য এক ধাক্কায় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়বে।
অনেক পিছিয়ে মহিলা ফুটবল (FIFA World Cup)
পুরস্কারমূল্য বাড়লেও পুরুষ ও মহিলা বিশ্বকাপের মধ্যে আর্থিক ব্যবধান যথেষ্ট বড়। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত ৪৮ দলের পুরুষদের বিশ্বকাপের জন্য ফিফা মোট ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কারমূল্য বরাদ্দ রেখেছে। সেই তুলনায় ২০২৭ সালের মহিলা বিশ্বকাপের প্রস্তাবিত ২২ কোটি ডলার পুরুষদের বরাদ্দের মাত্র প্রায় ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ পুরুষদের বিশ্বকাপের তুলনায় মহিলা বিশ্বকাপের পুরস্কারমূল্য এখনও অনেকটাই কম। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ ও ‘স্কাই স্পোর্টস’-এর প্রতিবেদনেও এই বৈষম্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ঘোষিত সম্পূর্ণ আর্থিক সমতার লক্ষ্য এখনও অধরা।
সমতা আনতে পারেননি ইনফান্তিনো? (FIFA World Cup)
২০২৩ সালের মহিলা বিশ্বকাপের আগে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি নিয়ে ইউরোপের একাধিক শীর্ষ মিডিয়া নেটওয়ার্কের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিলেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো। সে সময় সম্প্রচারকারী সংস্থা ও কর্পোরেট স্পনসরদের সমালোচনা করে তিনি বলেছিলেন, ২০২৬ সালের পুরুষ এবং ২০২৭ সালের মহিলা বিশ্বকাপের পুরস্কারমূল্যে সমতা আনাই ফিফার লক্ষ্য। তাঁর অভিযোগ ছিল, মহিলা বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের জন্য টিভি চ্যানেলগুলি পুরুষদের বিশ্বকাপের তুলনায় ১০ থেকে ১০০ গুণ কম অর্থ দিতে চাইছে। ফিফা নিজের দিক থেকে পদক্ষেপ করলেও গোটা ক্রীড়া শিল্পকে একই পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। তবে নতুন প্রস্তাবেও পুরুষ ও মহিলা বিশ্বকাপের পুরস্কারমূল্যে বড় ব্যবধান থেকে যাওয়ায় সেই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: East Bengal FC: এশিয়ার মঞ্চে ইস্টবেঙ্গলের অভিযান, পয়া মাঠে জয়ের স্বপ্ন সাথীর
প্রস্তুতি খরচে অবশ্য থাকছে সমতা (FIFA World Cup)
পুরস্কারমূল্যের ক্ষেত্রে বৈষম্য থাকলেও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি খরচের জায়গায় সমতা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা (FIFA World Cup)। ২০২৭ সালের মহিলা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল প্রস্তুতির জন্য ২৫ লাখ ডলার করে পাবে। ২০২৬ সালের পুরুষ বিশ্বকাপের দলগুলির জন্যও একই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই প্রস্তুতি তহবিল সদস্য দেশগুলির হাতে তুলে দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে মহিলা ফুটবলের আর্থিক উন্নয়নে ফিফার এই প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও পুরুষদের বিশ্বকাপের সঙ্গে পুরস্কারমূল্যের ব্যবধান থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার, ডিসেম্বরের কাউন্সিল বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয় কি না এবং আগামী দিনে আর্থিক সমতার লক্ষ্যে আরও কী পদক্ষেপ করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা।



