Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অধিনায়ক হিসেবে ম্যাচ জেতানোর দক্ষতা রয়েছে শ্রেয়াস আইয়ারের (Shreyas Iyer)। তাঁর নেতৃত্বেই আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। পঞ্জাব কিংসকেও ফাইনালে তুলেছেন তিনি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সাফল্যের সেই ধারাই ভারতীয় দলের নেতৃত্বে বজায় রাখবেন, এমনটাই আশা করেছিলেন অনেকে। কিন্তু সময় যত এগোচ্ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে শ্রেয়াসের অধিনায়কত্ব নিয়ে। অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮৭ রানে হারের পর সেই সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বোলারদের ব্যবহার থেকে শুরু করে ব্যাটিং—একাধিক ক্ষেত্রে কাঠগড়ায় ভারত অধিনায়ক।
ব্যাটে-বলে ব্যর্থতা (Shreyas Iyer)
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ঝড় সামাল দিতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। বারবার ভুল লেন্থে বল করেছেন তাঁরা। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় ভারত। শেষ ৯ ওভারে ১৪৬ রান তুলে নেয় কিউয়িরা। ব্যাট হাতেও দলকে ভরসা দিতে পারেননি শ্রেয়াস। ১১ বলে ২২ রান করে অ্যাডাম মিলনের বলে আউট হন তিনি। অথচ প্রথম ওভারেই সঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিষাণের উইকেট হারানোর পর ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব ছিল অধিনায়কের কাঁধে। অভিষেক শর্মাও দ্রুত ফিরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
ভারতের বড় হার (Shreyas Iyer)
অকল্যান্ডের এই হার টি-২০ ক্রিকেটে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম পরাজয়। চলতি বছর নটিংহ্যামে ইংল্যান্ডের কাছে ১২৫ রানে হারের পর এটিই ভারতের অন্যতম বড় ধাক্কা। তবে শুধু একটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে শ্রেয়াসের অধিনায়কত্বের বিচার করা ঠিক হবে না। ভারতীয় দলের নেতৃত্বে তাঁর শুরুও অবশ্য খুব একটা ভালো হয়নি। আয়ারল্যান্ডের কাছে ০-২ ব্যবধানে সিরিজ হার এবং ইংল্যান্ডের কাছে ০-৪ ব্যবধানে পরাজয়ের পর প্রথম সাতটি টি-২০ ম্যাচে জয় অধরা ছিল শ্রেয়াসের।
নজরে অধিনায়কত্বের পরিসংখ্যান (Shreyas Iyer)
পরবর্তী সময়ে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় ভারত। জিম্বাবোয়ে ও আফগানিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারায় দল। জাপানের বিরুদ্ধে একমাত্র টি-২০ ম্যাচেও জয় আসে। এশিয়ান গেমসে সোনা ধরে রাখে ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ২-২ ব্যবধানে শেষ হয়, একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম তিন ম্যাচ জিতে সিরিজও নিশ্চিত করে ভারত। তবে চতুর্থ ম্যাচের পর অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়াসের টি-২০ পরিসংখ্যান খুব একটা নজরকাড়া নয়। ২৫ ম্যাচে তাঁর নেতৃত্বে ভারত জিতেছে ১৪টি ম্যাচ, হেরেছে ৯টিতে। বাকি দু’টি ম্যাচের কোনও ফল হয়নি।
বোলারদের ব্যবহার নিয়ে কাইফের প্রশ্ন (Shreyas Iyer)
শ্রেয়াসের বোলিং পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলারদের ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আরও পরিণত হতে হবে ভারত অধিনায়ককে। কাইফের দাবি, অকল্যান্ডে ছয় ওভার বাকি থাকতেই অর্শদীপ সিং ও ভুবনেশ্বর কুমার তাঁদের তিন ওভার করে শেষ করে ফেলেছিলেন। অথচ টি-২০ ক্রিকেটে শেষের ওভারগুলির জন্য প্রধান বোলারদের হাতে ওভার রাখা জরুরি। বিশেষ করে ১৭তম ও ১৯তম ওভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অর্শদীপের মতো ডেথ বোলারের প্রয়োজন হতে পারে।
নীতীশের বোলিং নিয়েও আপত্তি (Shreyas Iyer)
নীতীশ কুমার রেড্ডির ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কাইফ। তাঁর মতে, নীতীশকে পঞ্চম বা ষষ্ঠ বোলিং বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে মাঝের ওভারেই তাঁর কোটা শেষ করা উচিত। তাঁকে নিয়মিত ফ্রন্টলাইন বোলারের দায়িত্ব দেওয়া ঠিক নয়। কাইফের বক্তব্য, এটি কোনও একটি ম্যাচের সমস্যা নয়। বারবার ভারতের বিরুদ্ধে ২০০, ২২৫ এমনকি ২৫০-এর বেশি রান উঠছে। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগে পুরুষদের টি-২০ ক্রিকেটে ভারত কখনও ২৫০ বা তার বেশি রান দেয়নি। অথচ শ্রেয়াসের নেতৃত্বে মাত্র চার মাসের মধ্যে তিনবার এমন ঘটনা ঘটেছে। সাউদাম্পটনে ইংল্যান্ড ২৫৭, রাঁচিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৫২ এবং অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ড ২৫৯ রান করেছে।
তবে বোলিং ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায় অধিনায়কের উপর চাপানো যায় না। অকল্যান্ডে নীতীশ রেড্ডি চার ওভারে ৬৪ রান দিয়েছেন। গ্লেন ফিলিপস ও মাইকেল ব্রেসওয়েল মাত্র ৪১ বলে ১১৫ রান যোগ করেছেন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে একমাত্র অর্শদীপই কিছুটা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পেরেছিলেন।
ব্যাটিংয়ে ছন্দ হারিয়েছেন শ্রেয়াস (Shreyas Iyer)
অধিনায়কত্বের পাশাপাশি শ্রেয়াসের ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে লখনউয়ে ৬ অক্টোবর ৪২ বলে অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ১০টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজানো সেই ইনিংস ছিল তাঁর টি-২০ কেরিয়ারের প্রথম শতরান। কিন্তু তারপর থেকেই যেন ছন্দ হারিয়েছেন ভারত অধিনায়ক। পরের আট ইনিংসে তাঁর রান যথাক্রমে ৪০, ১, ১৬, ২২, ৪২, ৭, ৫ ও ২২। মোট ১৫৫ রান, গড় ১৯.৩৭। এই সময়ের মধ্যে একটিও অর্ধশতরান নেই।
সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ (Shreyas Iyer)
২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত ২৫টি টি-২০ ম্যাচে শ্রেয়াসের সংগ্রহ ৬৬৬ রান। তবে টপ অর্ডার দ্রুত উইকেট হারালে মাঝের সারিতে তাঁর দায়িত্ব অনেকটাই বেড়ে যায় (Shreyas Iyer)। অকল্যান্ডে প্রথম ওভারেই দুই উইকেট হারানোর পর সেই দায়িত্ব ছিল শ্রেয়াসের কাঁধে। কিন্তু তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
আরও পড়ুন: IND vs NZ: শেষ ম্যাচে ভারতের প্রথম একাদশে বদল, ফিরতে পারেন বৈভব- কুলদীপরা!
আইপিএলে সাফল্যই শ্রেয়াসকে জাতীয় দলের নেতৃত্বের সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে দেশের হয়ে খেলতে নেমে তাঁকে অন্যদের মতোই পারফরম্যান্সের মাপকাঠিতে বিচার করা হবে। অধিনায়ক হিসেবে শুধু ম্যাচ জেতানোই নয়, ব্যাট হাতে ধারাবাহিক রান করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও তাঁর দায়িত্ব। তাই আগামী দিনে শ্রেয়াসের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ—বোলারদের আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা এবং ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনা।



