Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: একজনের বয়স ৩৮ হতে আর মাত্র এক দিন বাকি (RO-KO)। অন্যজনও পা দিয়েছেন ৩৯-এ। বয়স বাড়ছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেরিয়ারের সায়াহ্ন নিয়ে আলোচনা চলছে, ফিটনেস নিয়েও কম কাটাছেঁড়া হয় না। কিন্তু বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছেন, অভিজ্ঞতা আর ফিটনেসের মিশেল থাকলে বয়স শুধুই একটা সংখ্যা! বুড়ো হাড়ে ভেল্কি দেখাচ্ছেন দুজনেই। ব্যাট হাতে ঝড় তোলার পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও যে তাঁরা কতটা ক্ষুরধার, তার প্রমাণ মিলল নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে। কোহলির অবিশ্বাস্য ক্যাচ আর রোহিতের দুরন্ত রানআউটে মুগ্ধ ক্রিকেটপ্রেমীরা। অন্যদিকে, বল হাতে আগুন ঝরালেন অর্শদীপ সিং ও গুর্নুর ব্রার। ভারতীয় বোলারদের দাপটে মাত্র ১৮৫ রানেই গুটিয়ে গেল নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।
বয়স বাড়ছে, কমছে না ক্ষিপ্রতা! (RO-KO)
ক্রিকেটে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফিল্ডিংয়ের ক্ষিপ্রতা ধরে রাখা সহজ নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলে ধারাবাহিকভাবে নিজেকে মেলে ধরা যে কোনও ক্রিকেটারের কাছেই বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু কোহলি যেন এই ধারণাকেই বারবার ভুল প্রমাণ করতে ভালোবাসেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে তাঁর একটি ক্যাচই যেন হাজার শব্দের সমান!
ম্যাচের ২৯তম ওভারে অংশুল কাম্বোজের বলে ব্যাট ছোঁয়ান নাথান স্মিথ। স্লিপে দাঁড়িয়ে ছিলেন কোহলি। বল মাটিতে পড়ার আগেই ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে সেটিকে তালুবন্দি করেন তিনি। চোখের পলকে নেওয়া সেই ক্যাচ দেখে বিস্মিত হয়ে যান সতীর্থরাও। থার্ড আম্পায়ারের পর্যালোচনার পর আউটের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। আর তারপরই তির ছোড়ার ভঙ্গিতে কোহলির পরিচিত সেলিব্রেশন। বয়স নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের কাছে যেন মাঠ থেকেই জবাব দিয়ে গেলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক।
শরীর শূন্যে ভাসিয়ে রোহিতের রানআউট (RO-KO)
কোহলির ক্যাচ যদি হয় ক্ষিপ্রতার প্রতীক, তা হলে রোহিতের রানআউট ছিল উপস্থিত বুদ্ধি ও তৎপরতার দুর্দান্ত উদাহরণ (RO-KO)। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ড্যারিল মিচেলকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ভারতীয় তারকা।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন মিচেল। তাঁর রান তখন ২৮। অক্ষর প্যাটেলের বল অনসাইডে ঠেলে গ্লেন ফিলিপস রান নেওয়ার কথা ভাবছিলেন। সেই সুযোগে মিচেলও ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে যান। কিন্তু বিপদ বুঝতে দেরি করেননি রোহিত। দ্রুত ছুটে এসে মাটি থেকে বল তুলে শরীর শূন্যে ভাসিয়ে কেএল রাহুলের দিকে ছুড়ে দেন তিনি। বল হাতে পেয়েই উইকেট ভেঙে দেন ভারতীয় উইকেটকিপার। রানআউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় মিচেলকে।
বয়স নিয়ে চর্চার আবহে রোহিতের এই ফিল্ডিং যেন আরও একবার বুঝিয়ে দিল, অভিজ্ঞতার পাশাপাশি মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের এই মুহূর্তটি ভারতীয় সমর্থকদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে।
অর্শদীপের চার উইকেট, গুর্নুরের তিন! (RO-KO)
শুধু দুই তারকার ফিল্ডিং নয়, নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে তছনছ করে দেওয়ার কৃতিত্বও ভারতীয় বোলারদের। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল। নতুন বলে অর্শদীপ সিং ও গুর্নুর ব্রারের আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় কিউয়ি শিবির।
অর্শদীপের বলে মাত্র ৯ রান করে ফেরেন উইল ইয়ং। এরপর হেনরি নিকোলসকেও সাজঘরের পথ দেখান বাঁহাতি পেসার। ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের ভিত নড়িয়ে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত চার উইকেট নিয়ে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল হন অর্শদীপ।
তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন তরুণ পেসার গুর্নুর ব্রার। গতির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণের পরিচয় দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নেন তিনি। নিজের বলে টম ল্যাথামের ক্যাচ ধরে ফিল্ডিংয়েও নজর কাড়েন গুর্নুর। অন্যদিকে, বাউন্সারে কিউয়ি ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলে দুটি উইকেট পান অংশুল কাম্বোজ।
১৮৫ রানেই শেষ নিউজিল্যান্ড (RO-KO)
একদিকে ভারতীয় পেসারদের দাপট, অন্যদিকে কোহলি ও রোহিতের অসাধারণ ফিল্ডিং—সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস দীর্ঘায়িত হতে দেয়নি টিম ইন্ডিয়া (RO-KO)। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৮৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় কিউয়িরা।
তবে ভারতীয় সমর্থকদের মনে থেকে গেল অন্য একটি আক্ষেপও। ব্যাট হাতে কোহলি ও রোহিতের কাছ থেকে বড় ইনিংস দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন অনুরাগীরা। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা যতই বাড়ুক, মাঠে তাঁদের প্রতিটি মুহূর্তই যে এখনও বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু, তা আরও একবার স্পষ্ট হল।
আরও পড়ুন: Champions League: জয়ে ফিরল বার্সেলোনা, ৯ ম্যাচের খরা কাটল ম্যান ইউ-র
সেঞ্চুরি আসুক বা না আসুক, কোহলির এক হাতে ক্যাচ আর রোহিতের অবিশ্বাস্য রানআউটই যেন বলে দিল—ক্রিকেটে সবসময় রান দিয়ে অবদান মাপা যায় না। কখনও কখনও একটি ক্যাচ, একটি রানআউট কিংবা মুহূর্তের মধ্যে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তই ম্যাচের গল্প বদলে দিতে পারে। আর সেই গল্পে রো-কো জুটির অবদান যে এখনও অমূল্য, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।



