Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সীমান্তে যুদ্ধবিরতির মাঝেও ফের একবার কূটনৈতিক উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়ল ভারত ও পাকিস্তান (India Pakistan Conflict)। দিল্লিতে পাক হাই কমিশনের এক আধিকারিককে বহিষ্কারের পর প্রতিক্রিয়ায় এবার ইসলামাবাদও একই পথে হাঁটল। পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনের এক কর্তার বিরুদ্ধে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ (পার্সোনা নন গ্রাটা) ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিল শাহবাজ় শরিফ (Shehbaz Sharif) সরকার। তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
পাক বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি (India Pakistan Conflict)
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই ভারতীয় কর্তা পাকিস্তানে তাঁর কূটনৈতিক মর্যাদার পরিপন্থী কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন (India Pakistan Conflict)। যদিও ঠিক কী ধরনের কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের চার্জ দ্য’অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা তুলে দেওয়া হয়। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, এটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছু নয়।
পাক হাই কমিশনের বিরুদ্ধে একই পদক্ষেপ ভারতের (India Pakistan Conflict)
এর ঠিক আগেই দিল্লির পাক হাই কমিশনের কর্তার বিরুদ্ধে একই রকম পদক্ষেপ নেয় ভারত সরকার(India Pakistan Conflict)। মঙ্গলবার ওই পাকিস্তানি কূটনীতিককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ভারত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। যদিও ভারতও আনুষ্ঠানিক ভাবে বহিষ্কারের কারণ স্পষ্ট করেনি, তবে সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি পঞ্জাব পুলিশের হাতে পাক দূতাবাসের সঙ্গে যুক্ত এক অফিসার ‘গোপন তথ্য’ পাচারের মামলায় জড়িয়ে পড়েন। সেই মামলায় এক নারী-সহ দু’জন গ্রেফতার হন। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস(India Pakistan Conflict)
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও উত্তেজনা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে(India Pakistan Conflict)। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি চরমে পৌঁছয়। ভারত সেই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে কড়া পদক্ষেপ নেয় — ভিসা বাতিল থেকে শুরু করে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় দিল্লি।

পাল্টা কূটনৈতিক এবং সামরিক পদক্ষেপ(India Pakistan Conflict)
এর জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা কূটনৈতিক এবং সামরিক পদক্ষেপ নেয়। সীমান্তে গোলাবর্ষণ, সেনাঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা, পাল্টা অভিযানে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ — এই সমস্ত ঘটনায় একের পর এক প্রাণহানি ঘটে, যা দুই দেশের মধ্যে বিরোধকে আরও জটিল করে তোলে(India Pakistan Conflict)। এই সংঘাতের আবহেই শুরু হয় আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি রক্ষার চেষ্টা। বর্তমানে সীমান্তে আপাত শান্তি বিরাজ করলেও, দুই দেশের হাই কমিশনের কর্তার বহিষ্কার এই সম্পর্ককে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলল।
বড় সংঘাতের আশঙ্কা(India Pakistan Conflict)
এই পদক্ষেপ কূটনৈতিক নিয়মের আওতায় থাকলেও, তার তাৎপর্য খুবই স্পষ্ট — পারস্পরিক আস্থার সংকট চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে(India Pakistan Conflict)। যখন সীমান্তে শান্তি ফিরছে, ঠিক তখনই এই বহিষ্কার পর্ব দুই দেশের মধ্যে নতুন করে অবিশ্বাসের আবহ তৈরি করল। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি কূটনৈতিক স্তরেও সংযম বজায় রাখা প্রয়োজন, না হলে ছোট ঘটনা থেকেও বড় সংঘাতের আশঙ্কা থেকেই যায়।ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক বহুদিন ধরেই নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে। তবে সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক বহিষ্কার কেবল প্রতীকী পদক্ষেপ নয়, বরং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের পথ কতটা কাঁটায় ভরা হতে পারে, তারও ইঙ্গিত বহন করে। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ ফিরে পেতে হলে দুই দেশকেই কূটনৈতিক সংযম এবং গঠনমূলক আলোচনার পথে হাঁটতে হবে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।


