Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২২ গজের বদলে নিজের ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ফুটবলকে (Mohan Singh)।
তিন প্রধানে খেলা প্রয়াত মোহন সিং (Mohan Singh)
২০২৬ সালটা কলকাতার ময়দানের জন্য ভাল নয়। বাংলার প্রাক্তন রঞ্জি তারকা অজয় ভার্মার পর প্রাক্তন ফুটবলার মোহন সিংয়ের প্রয়াণে শোকের ছায়া কলকাতার ময়দানে। ৭৮ বছর বয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিঁনি। আদতে পাঞ্জাবি হলেও যিনি ছিলেন আদ্যোপান্ত একজন বাঙালি। নিজে পরিচয় দেওয়ার ক্ষেত্রেও সব সময় তিঁনি বলতেন ‘আমি তো বাংলারই’ (Mohan Singh)।
বল তাঁর পায়ে পড়লেই যেন ম্যাজিক ঘটে যেত। তাঁর ইশারায় বলও কথা বলত। তাঁর কথা শুনলে আজও ফুটবল প্রিয় বাঙালি আবেগে ভেসে যান, নস্টালজিক অনুভব করেন। আর করবে নাই বা কেন? সাতের দশকে ময়দানের অন্যতম জনপ্রিয় নাম মোহন সিং। মিডফিল্ডার হিসেবে অল্প সময়েই খ্যাতি লাভ করেছিলেন তিঁনি। যে কদিন খেলেছেন নিজের দৃঢ় ছাপ রেখে গিয়েছেন তিঁনি।
যাঁরা তাঁর খেলা দেখেছেন আজও তাঁদের চোখের সামনে ভাসে সেই সব স্মৃতি। আজও যে কারণে সজীব বাঙালির ফুটবল আবেগ। এরিয়ান ক্লাব থেকে উত্থান মোহন সিংহের। এরপর বিএনআর আর সেখান থেকে ১৯৭২ সালে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়েছিলেন মোহন সিং। সেই মরসুমেই লাল-হলুদ জার্সিতে জিতে নিয়েছিলেন পাঁচটি খেতাব। সেই সময় তাঁর মুকুটে যোগ হচ্ছে একের পর এক পালক। সেই মরসুমেই কলকাতা ভেটারেন্স ক্লাবের বিচারে মোহন সিং হয়েছিলেন প্লেয়ার অফ দ্য সিজন (Mohan Singh)।

আরও পড়ুন: Indo Bangladesh: বিজেপির বঙ্গ জয়ের পর ‘পুশ-ইন’ ইস্যুতে বাংলাদেশকে বার্তা ভারতের
লাল-হলুদ শিবির ছেড়ে তিনি গিয়েছিলেন বাংলার অন্যতম বিখ্যাত ক্লাব মোহনবাগানে। সেখান থেকে আবার ১৯৭৫ সালে ফেরেন নিজের পুরনো ক্লাব তথা ইস্টবেঙ্গলে। সেই বছর ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ষষ্ঠবার কলকাতা লিগ জেতে। পঁচাত্তরের শিল্ড ফাইনাল। ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান। সেই ম্যাচের উষ্ণতা তখন গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়ছে। সেই ম্যাচে লাল-হলুদ বাহিনীর কাছে ৫-০ গোলে হারে মোহনবাগান। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল কোচ পিকে ব্যানার্জি মোহন সিংকে খেলেননি। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে মোহন সিং জিতেছিলেন ৮টি ট্রফি। তিনি খেলেছিলেন মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের হয়েও। খেলেছিলেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে।
মোহন সিংয়ের শিকড় পাঞ্জাব হলেও বাংলা তাঁর কাছে ছিল খুব আপন। তবে ফুটবল নয় তিঁনি ক্রিকেটেও ছিলেন দক্ষ। ফুটবল পায়ে ময়দান না কাঁপালে হয়ত হয়ে যেতেন ক্রিকেটার। সেই মোহন সিং আজ নেই আর এই খবরে ভেঙে পড়েছে ময়দান। তিঁনি না থাকলেও রয়েছে তাঁর বুটের শব্দ, তাঁর নিখুঁত পাস, দক্ষতা সবই। মাঠ বদল হবে প্রজন্ম আসবে যাবে কিন্তু কিংবদন্তিদের তালিকায় থেকে যাবে মোহন সিংয়ের নাম (Mohan Singh)।


