Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানকে সামরিক সাহায্যের অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা তুরস্ককে এবার প্রায় ৩০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমতি দিল মার্কিন বিদেশ দফতর(US Turkey Misiile Deal)। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২,৬০০ কোটি টাকা। ন্যাটো জোটের সদস্য তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ, দাবি পেন্টাগনের। যদিও এ নিয়ে শেষ সিদ্ধান্ত দেবে মার্কিন কংগ্রেস (Donald J. Trump)। এই সিদ্ধান্তের ঠিক আগে ন্যাটো (NATO)-র বৈঠকে যোগ দিতে তুরস্কে পৌঁছেছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। বৈঠক শেষে তিনি ইস্তানবুলে গিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনাতেও অংশ নিতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর। এমন এক জটিল ভূরাজনৈতিক মুহূর্তে এই অস্ত্রচুক্তির কথা প্রকাশ্যে এসেছে (US Turkey Misiile Deal)।
কী রয়েছে অস্ত্রচুক্তিতে? (US Turkey Misiile Deal)
পেন্টাগনের অধীনস্থ ডিফেন্স সিকিউরিটি কোঅপারেশন এজেন্সি (DSCA) জানিয়েছে(US Turkey Misiile Deal), এই সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির মধ্যে রয়েছে,
- ৫৩টি AIM-120C-8 ক্ষেপণাস্ত্র – মাঝারি পাল্লার, আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র। মূল্য আনুমানিক ২২৫ মিলিয়ন ডলার।
- ৬০টি AIM-9X Block-2 ক্ষেপণাস্ত্র – শর্ট রেঞ্জ মিসাইল, যা আধুনিক ফাইটার জেট থেকে ছোঁড়া হয়। মূল্য ৭৯.১ মিলিয়ন ডলার।
এই অস্ত্র বিক্রির মধ্যস্থতা করবে মার্কিন প্রতিরক্ষা জায়ান্ট RTX Corporation (Raytheon Technologies)। এখন শুধু কংগ্রেসের সম্মতির অপেক্ষা।
কেন এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ? (US Turkey Misiile Deal)
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় অতীতে তুরস্ক ও আমেরিকার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল (US Turkey Misiile Deal)। তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে S-400 মিসাইল সিস্টেম কেনার পর ওয়াশিংটন তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু সম্প্রতি তুরস্ক ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটো সদস্যপদে সম্মতি দিলে আবার নতুনভাবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হাঁটছে দুই দেশ। এই অস্ত্রচুক্তি তারই প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি রাশিয়া ও চীনের প্রভাবকে ঠেকাতে ন্যাটো জোটে তুরস্ককে শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে (US Turkey Misiile Deal)।


ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বেগ (US Turkey Misiile Deal)
সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘাতে তুরস্কের নির্মিত ড্রোন পাকিস্তান ব্যবহার করেছে বলে সেনা সূত্রে দাবি (US Turkey Misiile Deal)। ভারতীয় সেনার একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণের ছকেও ওই ড্রোন ব্যবহারের তথ্য মিলেছে। এর পর থেকেই ভারতের নানা মহলে তুরস্ক-বয়কটের ডাক উঠে এসেছে। ফলে এই অস্ত্রচুক্তিকে অনেকেই ভারতের জন্য কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণ বলেই মনে করছেন।ভারত সরকার যদিও এখনও এই নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি, তবে বিষয়টি যে গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে, তা স্পষ্ট। যে সময় বিশ্ব একাধিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনে জর্জরিত, সেই সময়ে তুরস্ককে মার্কিন মিসাইল সরবরাহের সিদ্ধান্ত একদিকে ন্যাটোকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন চাপ আনতে পারে। কংগ্রেস এই অস্ত্রচুক্তিতে সিলমোহর দিলে, ভারতসহ তুরস্কবিরোধী বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়া অবধারিত(US Turkey Misiile Deal)।


