Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন এলাকার (WB Heavy Rain Situation) ওপর একটি নিম্নচাপের প্রভাবে সোমবার রাত থেকে তীব্র বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ভারী বর্ষণে স্বাভাবিক জনজীবনে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। কলকাতার অধিকাংশ রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে আর কয়েক জেলায় ট্রেন পরিষেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
দেরিতে চলছে ট্রেন (WB Heavy Rain Situation)
শিয়ালদহ বিভাগের মেন লাইন ও বনগাঁ শাখার বেশিরভাগ লোকাল ট্রেন (WB Heavy Rain Situation) নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে চলাচল করছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলা উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও বরাদ্দিত অঞ্চলেও অনুরূপ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার কাল থেকে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জল সরানোর কাজ চলছে (WB Heavy Rain Situation)
গত ২৪ ঘণ্টায় আলিপুরে ৮১.৬ মিমি, দমদমে ৯৯.৩ মিমি ও সল্টলেকে ৮৮.৩ মিমি বর্ষণ (WB Heavy Rain Situation) রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় কলকাতা লালবাজার, বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, ফিয়ার্স লেন, নর্থ পোর্ট থানা এলাকা সহ বিভিন্ন গলিপথ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। স্কুল, কলেজ এবং ব্যবসায়িক এলাকায় পর্যন্ত জল পৌঁছেছে। পুরসভা ঠনঠনিয়া, কলেজ স্ট্রিট, বৌবাজার, বেহালা, গার্ডেনরিচ, মেটিয়াবুরুজ এলাকায় জল নিষ্কাশন ও পাম্প কর্তৃক জল সরানোর কাজ চালাচ্ছে।
প্ল্যাটফর্মে জল জমে
রাজ্যের বারাসাত, হৃদয়পুর, সোদপুর, মধ্যমগ্রাম, বনগাঁ, ব্যারাকপুর সহ নিচু এলাকায় জল জমে গিয়ে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত। শিয়ালদহ শাখার বেলঘরিয়া, টিটাগড়, বারাসাতে ট্রেন লাইন ও প্ল্যাটফর্মে জল জমে চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দমদমে ৯৯.৩ মিমি, ব্যারাকপুরে ৮১.৪ মিমি ও বসিরহাটে ৯৪.২ মিমি বৃষ্টি হয়েছে।
সুন্দরবন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি
ডায়মন্ড হারবারে ১৭.১ মিমি, ক্যানিংয়ে ৭৫.৪ মিমি ও সাগরদ্বীপে ২০.২ মিমি বর্ষণ রেকর্ড করা হচ্ছে। সুন্দরবন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত আছে। ফসলি জমিতে জল জমার কারণে কৃষকদের উদ্বেগ বাড়ছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে নিষেধ করা হয়েছে। ডুমুরজলা, টিকিয়াপাড়া, দাসনগর, রামরাজাতলা এলাকায় হাঁটু পর্যন্ত জল জমে জায়গা হারিয়েছে স্থানীয় মানুষ। বেলুড় আন্ডারপাস জল বন্দি হয়ে পড়েছে। হাওড়া পুরসভা ৫০টি পাম্প দিয়ে জল নিষ্কাশন করছে।

হুগলির কী অবস্থা?
আরামবাগ, ব্যান্ডেল, নলডাঙা, চুঁচুড়া ও শ্রীরামপুরে জলাবদ্ধতা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। আরামবাগে একটি বিদ্যুৎ খুঁটি ধসে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে; দুপুরের মধ্যে পুনরায় সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ফসলের ক্ষতির পূর্বাভাসও মিলেছে।
জল ছাড়ছে ডিভিসি
ডিভিসি তার জলাধার পাঞ্চেত ও মাইথন থেকে মোট ৪০,০০০ কিউসেক জল ছাড়ার কাজ শুরু করেছে। বাঁকুড়ায় ১৫.৯ মিমি বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যার ফলে নদীগুলোর জলস্তর আবারও বাড়ছে। দফায় দফায় বৃষ্টিতে কংসাবতী নদী ও মুকুটমণিপুর জলাধারের জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে ১২,৫০০ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে জলাধার থেকে।
সতর্কতা
আলিপুর-আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে শ্রীগঙ্গানগর–বারাণসী–ডালটনগঞ্জ–পুরুলিয়া হয়ে বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখার কারণে সপ্তাহভর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গে শতকরা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের “কমলা সতর্কতা” জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
আরও পড়ুন: Bharat Bandh: ৯ জুলাই দেশজুড়ে ধর্মঘট, ব্যাহত হতে পারে পরিষেবা?
বর্তমান নিম্নচাপ ও মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের অনেক এলাকা জুড়ে অতি ভারী বর্ষণ চলছে। শহর ও গ্রাম দু’ক্ষেত্রেই জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতর এই সম্পর্কে জোরালো সতর্কতা জারি করেছে। বাস ও ট্রেন চলাচল, স্কুল/কলেজ খোলা রাখা, নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সেচকাজ সব ক্ষেত্রেই প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


