Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট৷ তার আগে বাংলায় শিল্পায়নে আরও গতি আনতে তৎপর রাজ্য সরকার(Business Industry Conclave)। সেজন্যই পুজোর পর হতে চলেছে বিজনেস ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভ৷ মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র। বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই শিল্পায়নে গতি আনতে কোমর বেঁধেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে পুজোর পরে আয়োজিত হতে চলেছে একটি বিশেষ বিজনেস ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভ। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অমিত মিত্র (Dr Amit Mitra)।
ইনভেস্টমেন্ট সিনার্জি কমিটি-র বৈঠক (Business Industry Conclave)
মঙ্গলবার নবান্নে রাজ্য সরকারের তৈরি করা শিল্প সংক্রান্ত সিনার্জি কমিটির বৈঠক ছিল। সেই বৈঠক থেকে রাজ্যে আসা বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়(Business Industry Conclave)। ওই বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অমিত মিত্র। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্র এবং শিল্পসচিব বন্দনা যাদব উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে । এদিন নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ, অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্র এবং শিল্পসচিব বন্দনা যাদবের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় স্টেট লেভেল ইনভেস্টমেন্ট সিনার্জি কমিটি-র বৈঠক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ড. মিত্র জানান, রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের আবহ তৈরি করতে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর এই কনক্লেভ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, “গত তিন মাসে রাজ্য সরকারের বিনিয়োগ বিষয়ক সিনার্জি কমিটি ৩১৬৫টি শিল্প প্রকল্পকে ছাড়পত্র দিয়েছে। রিয়েল এস্টেট, তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পর্যটন সহ নানা ক্ষেত্রে ছড়িয়ে রয়েছে এই প্রকল্পগুলি।” যদিও এই সমস্ত প্রকল্পের সম্ভাব্য মোট বিনিয়োগের অঙ্ক এখনও নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি, তবে সংখ্যা ও ক্ষেত্রের বিচারে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন তিনি(Business Industry Conclave)।
লক্ষ্যবস্তু শিল্পগুলির তালিকাও প্রকাশ্যে (Business Industry Conclave)
ড. মিত্রের কথায় স্পষ্ট, রাজ্য সরকার এই মুহূর্তে কিছু নির্দিষ্ট শিল্পক্ষেত্রকে মূল ফোকাস করছে(Business Industry Conclave)। তালিকায় রয়েছে:
- স্টিল এবং লোহা-ভিত্তিক শিল্প
- রত্ন ও গয়নার (Gem & Jewellery) উৎপাদন
- তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)
- সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন
- খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প
- চিংড়ি রফতানি এবং মাছ-পোলট্রি উৎপাদন
- ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পর্যটন খাত
- হোসিয়ারি এবং গার্মেন্টস (প্রস্তুত পোশাক) শিল্প
- চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য
- মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট ও ওষুধ শিল্প
এই শিল্পগুলিতে বেসরকারি বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে একাধিক নীতি তৈরি করেছে সরকার(Business Industry Conclave)। পাশাপাশি শিল্পপতিদের উদ্বুদ্ধ করতেও নানা রকম প্রণোদনার ঘোষণা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

কেন এই কনক্লেভ গুরুত্বপূর্ণ? (Business Industry Conclave)
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে এমন উদ্যোগ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যে শিল্পোন্নয়নের ইমেজ তুলে ধরার পাশাপাশি রাজস্ব ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বার্তা দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, এই কনক্লেভে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, বিশেষ করে যাঁরা ই-ভেহিকেল, গ্রীন এনার্জি, AI বা আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পে আগ্রহী(Business Industry Conclave)।
অন্যদিকে রাজ্যের তরফে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রয়োজনীয় জমি, পরিকাঠামো এবং দ্রুত প্রশাসনিক ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: Texas Flood : ভয়াবহ বিপর্যয়েও বীরত্ব! পরিবারের প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে নিহত হলেন টেক্সাসের যুবক
চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ (Business Industry Conclave)
তবে শিল্পায়নের পথে বাধাও রয়েছে। জমির সহজলভ্যতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং পরিকাঠামোগত ঘাটতির অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে(Business Industry Conclave)। এই প্রসঙ্গে ড. মিত্র দাবি করেছেন, “আমরা ওয়ান-স্টপ ক্লিয়ারেন্স এবং দ্রুত অনুমোদনের জন্য নতুন ব্যবস্থাপনা চালু করেছি। সমস্ত জেলা প্রশাসনকে সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বিধানসভা ভোটের আগে শিল্পায়নকে অস্ত্র করেই রাজ্য সরকার উন্নয়নমূলক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে মরিয়া। বিজনেস কনক্লেভ সেই কৌশলেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে। তাতে যে রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বাস্তবে কতটা বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বাস্তবায়িত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় থাকবে গোটা রাজ্য(Business Industry Conclave)।

