Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প(Donald Trump)। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আমি সত্যি বলতে, প্রায় কাউকেই বিশ্বাস করি না।” এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন ওঠে—তবে কি তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-কেও বিশ্বাস করেন না? ট্রাম্পের সরল কিন্তু ধাক্কা দেওয়া উত্তর, “পুতিনও তার ব্যতিক্রম নন।”
‘চার বার বোঝাপড়ার চেষ্টা হয়েছিল’ (Donald Trump)
বিবিসি-র সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, “আপনি কি পুতিনকে বিশ্বাস করেন?” কিছুক্ষণ ভেবে ট্রাম্প বলেন, “সত্যি বলতে গেলে, আমি প্রায় কাউকেই বিশ্বাস করি না(Donald Trump)। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে আমার চার বার পুতিনের সঙ্গে বোঝাপড়ার চেষ্টা হয়েছিল। আমি আশাবাদী ছিলাম যে যুদ্ধ থেমে যাবে। কিন্তু তার পরেও রুশ সেনা কিভে হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় হামলা চালিয়েছে। আমি হতাশ।” এই মন্তব্যে একদিকে যেমন পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের আস্থাহীনতার পরিচয় পাওয়া যায়, তেমনই ইঙ্গিত মেলে তাঁর প্রশাসনের মধ্যেই একটি গভীর অনাস্থার সংস্কৃতির।
শুল্কের ছুড়ি—রাশিয়াকে ‘ভাতে মারার’ কৌশল? (Donald Trump)
টেলিফোন সাক্ষাৎকারের আগেই হোয়াইট হাউস থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন ট্রাম্প(Donald Trump)। বলেন, “ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়া যদি আগামী ৫০ দিনের মধ্যে কোনও সমঝোতায় না পৌঁছয়, তাহলে রাশিয়ার বাণিজ্যিক বন্ধুদের উপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, এই হুঁশিয়ারি সরাসরি রাশিয়ার বিরুদ্ধে না হলেও, কার্যত মস্কোকে অর্থনৈতিক ভাবে চাপে ফেলার কৌশল। অর্থনৈতিক ভাবে বিচ্ছিন্ন করে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পথে রাশিয়াকে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।
বিশেষত ভারত-এর মতো দেশ, যারা এখনও রাশিয়ার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল—তেল, গ্যাস এবং অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রে—তাদের জন্য এই হুঁশিয়ারি একটা নতুন কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ভারত রাশিয়া থেকে তার মোট আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশই জ্বালানি এবং সামরিক উপকরণ খাতে করে। ফলে আমেরিকার এই ঘোষণায় নয়াদিল্লি বড়সড় বাণিজ্যিক বিপদের মুখে পড়তে পারে।
নেটোর মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক ও ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা (Donald Trump)
এই সাক্ষাৎকার ও শুল্ক হুঁশিয়ারির পাশাপাশি সোমবার আরেকটি বড় কূটনৈতিক মুহূর্ত তৈরি হয়(Donald Trump)। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাক্ষাৎ করেন নেটোর বর্তমান মহাসচিব মার্ক রাটে-র সঙ্গে। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার আগ্রাসন এবং নেটোর কৌশলগত ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। ট্রাম্প বৈঠকের পর জানান, “আমরা চাই ইউক্রেন স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারুক। তারা যা করতে চায়, তা যেন করতে পারে—এটাই আমাদের লক্ষ্য। এবং সেই উদ্দেশ্যে ইউক্রেনকে আরও উন্নত অস্ত্র সহায়তা দেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন: SSC 2016 : এসএসসি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মামলার শুনানি শেষ! রায়দান স্থগিত রাখল কলকাতা হাইকোর্ট
বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা আরও বাড়বে? (Donald Trump)
ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় তুলেছে(Donald Trump)।বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার শীর্ষ নেতৃত্ব যদি এমনভাবে “বিশ্বাসহীনতা”-র বার্তা দেয়, তবে বিশ্ব রাজনীতির স্থিরতা আরও দুর্বল হতে পারে। এতে ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
ট্রাম্প যা বললেন, তার প্রভাব কত দূর যাবে? (Donald Trump)
এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংঘাত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ(Donald Trump)। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ধরনের খোলামেলা মন্তব্য, শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি, পুতিনকে ‘অবিশ্বস্ত’ বলার মতো বক্তব্য ভবিষ্যতের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্ব এখন তাকিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে—বিশেষত নভেম্বরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে এই মন্তব্য কতটা ‘রাজনৈতিকভাবে গণনা করা’, আর কতটা বাস্তব প্রতিফলন, সেটাই দেখার।


