Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরপ্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ বন্যা (UP Flood Situation) পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজ্যের মোট ১৭টি জেলা এখন প্লাবিত। নদীর জলস্তর বিপদসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে একাধিক জায়গায়। সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থা তৈরি হয়েছে বারাণসী ও প্রয়াগরাজে। প্রশাসন পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।
নিচু এলাকাগুলিতে গঙ্গার জল ঢুকে পড়েছে (UP Flood Situation)
বারাণসীর নিচু এলাকাগুলিতে গঙ্গার জল ঢুকে (UP Flood Situation) পড়েছে। নমো ঘাট ও অস্সি ঘাট সম্পূর্ণভাবে জলে ডুবে গিয়েছে। অলিগলিতেও গঙ্গার জল ঢুকে পড়েছে। উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে নৌকার সাহায্যে। জলস্তর যেভাবে দ্রুত বেড়ে চলেছে, তাতে বাসিন্দারা নতুন করে বৃষ্টির সম্ভাবনায় চিন্তিত। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তার জন্য গঙ্গার ঘাটগুলিতে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। গঙ্গায় ফেরি চলাচল সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশও জারি করা হয়েছে।
কী বললেন রাজ্যের মন্ত্রী? (UP Flood Situation)
রাজ্যের মন্ত্রী সুরেশ কুমার সোমবার বারাণসীর প্লাবিত অঞ্চলগুলি পরিদর্শন করেন (UP Flood Situation)। তিনি জানান, উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে প্রশাসন কাজ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। তাঁর কথায়, “এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
একাধিক জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে (UP Flood Situation)
কেন্দ্রীয় জল কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার বারাণসীতে গঙ্গার জলস্তর ছিল ৭২.০৫ মিটার, যা বিপদসীমা ৭১.২৬ মিটারের চেয়েও বেশি। প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ০.৫ সেন্টিমিটার করে জল বেড়ে চলেছে। শুধু গঙ্গাই নয়, যমুনা ও বেতোয়ার মতো নদীগুলিও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফলে মির্জাপুর, গাজ়িপুর, বালিয়া, বান্দা, অরাইয়া, হামিরপুর, কল্পি-সহ একাধিক জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

বিশেষ দল গঠন
পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ১১টি বিশেষ দল গঠন করেছেন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
মৌসম দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবারও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত বন্যা ও বৃষ্টির কারণে ১২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। যে ১৭টি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলি হল: বারাণসী, প্রয়াগরাজ, গাজ়িপুর, মির্জাপুর, বালিয়া, বান্দা, চন্দৌলি, অরাইয়া, ফতেপুর, কানপুর নগর ও দেহাত, হামিরপুর, এটাওয়া, জালাউন, চিত্রকূট, আগ্রা এবং লখিমপুর খেড়ি।


