Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চলতি অগস্ট মাসের শেষেই ভারত সফরে আসছেন। এমনটাই জানিয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, যিনি বর্তমানে মস্কো সফরে রয়েছেন(Putin India Visit)। যদিও সফরের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবে এই সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়েছে। কারণ, এই সফর ঘটতে চলেছে এমন এক সময় যখন আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রীতিমতো টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে — বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে।
ভারত সফরে আসছেন পুতিন (Putin India Visit)
রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা ‘ইন্টারফ্যাক্স’-এর সূত্রে জানা যাচ্ছে, ডোভাল মস্কো থেকেই ঘোষণা করেন পুতিনের আসন্ন ভারত সফরের কথা(Putin India Visit)। এই ঘোষণার আগের দিনেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, ভারতীয় পণ্যের উপর বাড়তি ২৫% শুল্ক আরোপ করা হবে — যার ফলে ২৭ অগস্ট থেকে ভারতের জন্য আমেরিকায় রফতানি খরচ কার্যত দ্বিগুণ হয়ে যাবে। ট্রাম্পের হুমকি আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে তাঁর পরে দেওয়া এক বিবৃতিতে, যেখানে তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যদি কোনও দেশ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখে, তাহলে সেই দেশের উপর আরও বিধিনিষেধ চাপানো হবে।
এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রতিক্রিয়া এসেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা এই ধরনের হুমকিকে বৈধ বা ন্যায্য বলে মনে করি না। কোনও সার্বভৌম দেশের স্বাধীন ভাবে বাণিজ্যসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।” যদিও তিনি ভারতের নাম উল্লেখ করেননি, তবুও স্পষ্ট যে, এই বক্তব্য ভারতের পক্ষেই রাখা হয়েছে(Putin India Visit)।
রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা আরোপ (Putin India Visit)
২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দুনিয়া রাশিয়ার উপর কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে(Putin India Visit)। আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার তেল ও অস্ত্র বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া স্বল্প মূল্যে তেল বিক্রি করতে শুরু করে, আর ভারতের মতো দেশে তা ব্যাপকভাবে আমদানি করা শুরু হয়। বর্তমানে ভারতের তেলের ৩৫% আমদানি হয় রাশিয়া থেকে। আমেরিকার দাবি, এই আমদানি কার্যত রাশিয়াকে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আর্থিকভাবে সাহায্য করছে।
তবে নয়াদিল্লি বরাবরই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে — জাতীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের উপর ভিত্তি করেই ভারত তার আমদানি-রফতানি নীতি নির্ধারণ করে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য অনুযায়ী, বাজারে যেখানে সস্তায় তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখান থেকেই কেনাই ভারতের বাস্তবিক এবং কৌশলগত বাণিজ্যনীতি(Putin India Visit)।

ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ভারতের সমর্থন আদায় (Putin India Visit)
এই পরিস্থিতিতে পুতিনের ভারত সফর কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং এক গভীর বার্তাবাহী ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে(Putin India Visit)। প্রথমত, এই সফর ভারতের উপর আমেরিকার চাপের মোকাবিলায় এক কৌশলগত প্রতিরক্ষা বলয়ের ইঙ্গিত। দ্বিতীয়ত, রাশিয়া চাইছে ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে তার ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অংশীদারদের পাশে থাকা এবং তাদেরকে আরও শক্তিশালী বার্তা দেওয়া — মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখা মানে বিশ্বমঞ্চে একতরফা চাপের কাছে নত না হওয়া।

ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের বৈঠক (Putin India Visit)
অন্যদিকে, রাশিয়া জানিয়েছে, শীঘ্রই ট্রাম্পের (Donald J. Trump) সঙ্গে পুতিনের একটি বৈঠক হতে চলেছে(Putin India Visit)। যদিও সেই বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় ও স্থান এখনও ঘোষণা হয়নি। এই বৈঠকেও ভারতের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামগ্রিক ভাবে, পুতিনের ভারত সফর যে শুধু ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের আরও দৃঢ়ীকরণ নয়, বরং আমেরিকার একতরফা শুল্কনীতি এবং বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে এক নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনাকে সামনে আনছে, তা বলাই বাহুল্য। পুতিন এ বার নয়াদিল্লিতে এসে কী বার্তা দেন — সেটাই আপাতত কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলের আগ্রহের কেন্দ্রে।


