Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সাহায্য নেওয়া ভীষণ ভালো, তবে নির্ভরশীল হয়ে নয় (Artificial Intelligence)। আজকের দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর বিজ্ঞানীদের পরীক্ষাগারেই সীমাবদ্ধ নেই— তা প্রবেশ করেছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনের প্রতিটি কোণায়। অনলাইন কেনাকাটা, ব্যাংকিং, চিকিৎসা পরিষেবা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা—সবেতেই এখন এআই-এর উপস্থিতি স্পষ্ট। কিন্তু এই দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাঝেই মনোবিজ্ঞানীরা উদ্বিগ্ন একটি নতুন মানসিক ব্যাধি নিয়ে, যার নাম ‘এআই সাইকোসিস’—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট এক ধরনের মানসিক বিপর্যয়। জানুন তা কি…

এআই সাইকোসিস কী (Artificial Intelligence)
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এমন এক মানসিক অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি এআই-সম্পর্কিত ভ্রান্ত ধারণা, অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বা তীব্র ভয়ের মধ্যে পড়ে যান। আক্রান্ত ব্যক্তি মনে করতে পারেন—
- এআই তার উপর নজর রাখছে, চিন্তাধারা নিয়ন্ত্রণ করছে বা জীবনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
- বাস্তব মানুষের চেয়ে এআই-এর ভার্চুয়াল সংলাপকেই বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে।
লক্ষণ কী (Artificial Intelligence)
এই ব্যাধির উপসর্গ ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে—
- ভ্রান্ত বিশ্বাস: মনে হওয়া যে এআই তাকে অনুসরণ করছে , ক্ষতি করতে চাইছে বা তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ন্ত্রণ করছে।
- অতিরিক্ত যোগাযোগ: ঘণ্টার পর ঘণ্টা এআই চ্যাটবট বা ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের সঙ্গে কথা বলা, অথচ বাস্তব জীবনে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এড়ানো।
- বাস্তবতা নিয়ে বিভ্রান্তি: ডিজিটাল ও বাস্তব জগতের সীমানা ঝাপসা হয়ে যাওয়া, কোনটি বাস্তব আর কোনটি এআই প্রদত্ত তথ্য—তা বোঝার ক্ষমতা হারানো।
- প্রযুক্তি-ভীতি: মোবাইল, কম্পিউটার বা স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারে অযৌক্তিক ভয় ও আতঙ্ক।
- সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: বন্ধু, পরিবার ও সমাজ থেকে দূরে সরে গিয়ে অনলাইনে একাকী সময় কাটানো।
কারণ কী (Artificial Intelligence)
এআই সাইকোসিসের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে—
- দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনে আটকে থাকা এবং ভার্চুয়াল জগতে অতিমাত্রায় নিমগ্ন থাকা।
- প্রযুক্তি নিয়ে গুজব বা ভুল তথ্য শোনা।
- পূর্ববর্তী মানসিক সমস্যার অবনতি।
- একাকীত্ব, অনিদ্রা ও দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ।
আরও পড়ুন: Daily Horoscope: স্বাধীনতার দিন সাড়ে সাতির প্রভাব, জানুন কেমন কাটবে সারাদিন!
চিকিৎসা ও প্রতিকার (Artificial Intelligence)
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম ধাপ হলো রোগীর বাস্তবতা-বোধ ফিরিয়ে আনা ।
- মনোচিকিৎসা: কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি প্রাথমিক পর্যায়ে কার্যকর।
- ওষুধপ্রয়োগ: প্রয়োজনে অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ ব্যবহার।
- ডিজিটাল ডিটক্স: নির্দিষ্ট সময় প্রযুক্তি থেকে সম্পূর্ণ বিরতি নেওয়া।
- সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানো: পরিবার, বন্ধু ও শখের কাজে সক্রিয় থাকা।
- সচেতনতা বৃদ্ধি: প্রযুক্তির সীমা ও ঝুঁকি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন।


