Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষা হল NEET (Shashi Panja)। এই পরীক্ষার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম, কোচিং, টিউশন, আর্থিক চাপ এবং মানসিক সংগ্রামের পর একদিনের পরীক্ষার উপর নির্ভর করে তাদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু সেই পরীক্ষাই যদি প্রশ্নফাঁসের কারণে কলঙ্কিত হয়, তাহলে শুধু একটি পরীক্ষা নয়, গোটা দেশের ভবিষ্যৎই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে All India Trinamool Congress। দলের পক্ষ থেকে রাজ্যের মন্ত্রী তথা নেত্রী Shashi Panja সরব হয়ে বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎটা কী হবে? যুব সম্প্রদায়ের তো চাকরি নেই, তার উপর যারা ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন দেখছে, তাদের জীবন নিয়েও ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।”

লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার স্বপ্নে আঘাত (Shashi Panja)
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর প্রায় ২২ থেকে ২৩ লক্ষ ছাত্রছাত্রী NEET পরীক্ষায় বসে। এই পরীক্ষার জন্য অনেক পরিবার তাদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে খরচ করে। কেউ কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়, কেউ ব্যক্তিগত টিউশন নেয়, আবার কেউ দিনের পর দিন ঘুম ত্যাগ করে পড়াশোনা চালিয়ে যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, এমন একটি জাতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্ন যদি পরীক্ষার আগেই বাইরে চলে যায়, তাহলে সৎভাবে পরিশ্রম করা ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যায়। যারা টাকা দিয়ে প্রশ্ন কিনতে পারে, তারাই এগিয়ে যাবে—এই ধারণা গোটা ব্যবস্থার উপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করছে।
“পরীক্ষা কি বাজারে নিলামে উঠেছে?” (Shashi Panja)
ডাঃ শশী পাঁজার বক্তব্যে উঠে এসেছে তীব্র ক্ষোভ। তাঁর প্রশ্ন, “সবকিছু কি এখন auction হয়ে গেছে? বাজারে টাকা দিলেই কি প্রশ্নপত্র পাওয়া যাচ্ছে?” এই অভিযোগ শুধু একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্ন নয়, এটি দেশের শিক্ষা কাঠামোর নৈতিক সংকটকেও সামনে এনে দিয়েছে। যে পরীক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতের ডাক্তার তৈরি হবে, সেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা যদি বজায় না থাকে, তাহলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভবিষ্যৎও বিপদের মুখে পড়বে।

বেকারত্বের আবহে নতুন হতাশা (Shashi Panja)
বর্তমানে দেশে বেকারত্বের হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষিত যুবকদের বড় অংশ কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশ। সেই পরিস্থিতিতে NEET-এর মতো পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ আরও গভীর ক্ষোভ তৈরি করেছে। তৃণমূলের দাবি, যখন যুবসমাজ এমনিতেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, তখন এই ধরনের ঘটনা তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। যারা সৎভাবে পরিশ্রম করছে, তারা বারবার প্রতারিত হচ্ছে।
আগেও উঠেছিল প্রশ্ন (Shashi Panja)
তৃণমূল কংগ্রেস মনে করিয়ে দিয়েছে, এই প্রথম নয়। এর আগেও মেডিক্যাল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। অর্থাৎ বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও কেন্দ্র সরকার কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলেই অভিযোগ। বিরোধীদের মতে, পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং কেন্দ্র সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ। এর ফলে জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কেন্দ্রের কাছে জবাবদিহির দাবি (Shashi Panja)
তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে কেন্দ্র সরকারকে জবাব দিতে হবে যে কীভাবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্ন বাইরে চলে গেল। দলের বক্তব্য, লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর পরিশ্রম, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আপস করা যায় না। দেশের যুবসমাজের প্রতি সরকারের দায়িত্ব রয়েছে, আর সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতেই হবে।

আরও পড়ুন: Garga Chatterjee Arrest: গ্রেপ্তার গর্গ চাটার্জী, নেপথ্যে কোন কারণ?
শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
NEET প্রশ্নফাঁস বিতর্ক শুধু একটি পরীক্ষাকে ঘিরে নয়; এটি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার সঙ্গেও জড়িত। ছাত্রছাত্রীদের মনে যদি এই বিশ্বাস জন্মায় যে পরিশ্রম নয়, টাকাই সাফল্যের চাবিকাঠি, তাহলে তা দেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত। আজকের ছাত্রছাত্রীরাই আগামী দিনের ডাক্তার, বিজ্ঞানী, প্রশাসক ও জাতির নির্মাতা। তাই তাদের স্বপ্নকে সুরক্ষিত রাখা এবং স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।



