Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজীব গান্ধী ভারতের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। জন্ম দিনে ট্রাইব টিভি বাংলার তরফ থেকে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধাঞ্জলি (Rajiv Gandhi BirthDay)। রাজীব গান্ধীর (Rajiv Gandhi) জন্ম ১৯৪৪ সালের ২০ আগস্ট, মুম্বইয়ের বোম্বে হাসপাতালে। তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নাতি এবং ইন্দিরা গান্ধীর জ্যেষ্ঠ পুত্র(Rajiv Gandhi BirthDay)। পড়াশোনা করেন দেরাদুনের দ্য দুন স্কুলে, পরে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার চেষ্টা করলেও তা অসম্পূর্ণ থাকে। পরবর্তীতে পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন এবং ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সে কাজ শুরু করেন।
রাজনীতিতে প্রবেশ (Rajiv Gandhi BirthDay)
রাজীব প্রথমে রাজনীতির প্রতি তেমন আগ্রহী ছিলেন না। তাঁর ছোট ভাই সঞ্জয় গান্ধী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক উত্তরসূরি। কিন্তু ১৯৮০ সালে সঞ্জয়ের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে ইন্দিরা গান্ধী রাজীবকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন। মাত্র তিন বছরের মধ্যে রাজীব লোকসভার সদস্য হন।
প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন (Rajiv Gandhi BirthDay)
১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ইন্দিরা গান্ধী আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পর মাত্র ৪০ বছর বয়সে রাজীব গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন(Rajiv Gandhi BirthDay)। তিনি ছিলেন ভারতের সবচেয়ে কমবয়সী প্রধানমন্ত্রী। তাঁর শাসনামলে টেলিকম, কম্পিউটার ও আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ ঘটে। কিন্তু বোফোর্স দুর্নীতি কেলেঙ্কারি তাঁর ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ১৯৮৯ সালে কংগ্রেস পরাজিত হলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়।

আরও পড়ুন : US Tariff On India : ভারতের উপর তুলো আমদানিতে শুল্ক মকুব ট্রাম্পের ! স্বস্তি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের
হত্যাকাণ্ড (Rajiv Gandhi BirthDay)
১৯৯১ সালের ২১ মে, তামিলনাড়ুর শ্রীপেরামবুদুরে নির্বাচনী জনসভায় প্রচারের সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে রাজীব গান্ধী নিহত হন। ঘটনার কয়েক সেকেন্ড আগে এক মহিলা তাঁর কাছে ফুল দিতে এগিয়ে আসে। পরে জানা যায়, ওই মহিলা ছিলেন লিট্টে (LTTE)–র আত্মঘাতী মানব বোমা ধানু। বিস্ফোরণে রাজীব গান্ধীসহ ১৪ জন মারা যান।
হত্যার পেছনের ষড়যন্ত্র (Rajiv Gandhi BirthDay)
তদন্তে উঠে আসে, শ্রীলঙ্কার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম (LTTE) এই হামলার জন্য দায়ী। শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধ চলাকালে ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী (IPKF) পাঠানো এবং পরে তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোয় LTTE–র নেতা প্রভাকরণ রাজীব গান্ধীর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন। প্রতিশোধ নিতে তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়।

আরও পড়ুন : World Mosquito Day : রোনাল্ড রসের আবিষ্কার, মশার হুলে ম্যালেরিয়া! কেন ২০ আগস্ট ‘বিশ্ব মশা দিবস’ পালিত হয়?
তদন্ত ও বিচার (Rajiv Gandhi BirthDay)
হত্যার পর ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের বিশেষ দল ‘MC Jain Commission’ এবং পরে SIT (Special Investigation Team) তদন্ত শুরু করে(Rajiv Gandhi BirthDay)। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও ফরেনসিক বিশ্লেষণে আত্মঘাতী হামলার পূর্ণ পরিকল্পনা উন্মোচিত হয়।
- SIT নিশ্চিত করে যে, এটি ছিল LTTE–র আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।
- বহু অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- ১৯৯৮ সালে চেন্নাইয়ের বিশেষ টাডা আদালত ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে পরে সুপ্রিম কোর্টে আপিলে চারজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, বাকিদের সাজা কমানো হয়।
রহস্যের সমাধান (Rajiv Gandhi BirthDay)
রাজীব গান্ধীর হত্যার রহস্য মূলত সমাধান হয় সিবিআই ও SIT–এর কঠোর তদন্তের মাধ্যমে(Rajiv Gandhi BirthDay)। আত্মঘাতী হামলার ছবি, হামলাকারীদের পরিচয়, LTTE–র অর্থায়ন ও পরিকল্পনা সবকিছুই ধাপে ধাপে প্রকাশিত হয়। ভারত সরকার ও আন্তর্জাতিক মহল স্পষ্ট করে যে, এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ছিল ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের নেতৃত্বাধীন LTTE।
রাজীব গান্ধীর জীবন ভারতের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি প্রযুক্তি–নির্ভর ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু অকাল মৃত্যুতে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তাঁর হত্যার রহস্য তদন্ত ও বিচার–প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উন্মোচিত হলেও এটি ভারতের গণতন্ত্রে এক গভীর ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে।


