Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল :দুর্গাপুজোর বিরাজ সমস্ত পৃথিবী জুড়ে। কিন্তু মাটির টান বলতে কী বোঝায় (Bonedi Barir Durga Puja)? বাংলার দুর্গোৎসবের শেকড়ে যদি পৌঁছনো যায়, তবে দেখা যায় আজকের ঝলমলে আলোকসজ্জা, আধুনিক থিম ও জমকালো আয়োজনের অনেক আগে, দুর্গাপুজোর আসল আবেদন ছিল বনেদি বাড়িগুলির দালানজুড়ে প্রতিমা স্থাপনের মধ্যেই। সেসব দিনের প্রতিমা ছিল একেবারেই আলাদা ছাঁদে গম্ভীর, ঐতিহ্যমণ্ডিত, আর পৌরাণিক গাম্ভীর্যের আবহে ভরপুর।
একচালা দুর্গা প্রতিমা? (Bonedi Barir Durga Puja)
পুরনো দিনের বনেদি বাড়িগুলিতে দুর্গাপুজোতে মূলত একচালা প্রতিমা-ই প্রচলিত ছিল। অর্থাৎ দেবী দুর্গা, গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী, সরস্বতী—সবাই একই চালার (মণ্ডপ বা ফ্রেমের) তলায় স্থাপিত হতেন। আলাদা আলাদা মণ্ডপ বা শিল্পনৈপুণ্যের বাহার তখনও জনপ্রিয় হয়নি। এর ফলে পারিবারিক মিলন এবং ধর্মীয় একাত্মতার বার্তাই প্রধান হয়ে উঠত।
দেবীর রূপের বাহার! (Bonedi Barir Durga Puja)
দেবী দুর্গার প্রতিমা সেই সময়ে এখনকার মতো রঙচঙে বা চওড়া মুখাবয়বের ছিল না। ‘একতারা’ বা ‘আটচালা’ ধাঁচে দেবীকে গড়া হতো। মুখাবয়ব ছিল গম্ভীর, অর্ধচন্দ্রাকৃতি চোখ, ঠোঁটে হালকা হাসি, আর ভ্রূকুটি ভরা দৃষ্টিতে রাক্ষস নিধনের দৃশ্য ফুটে উঠত। মহিষাসুরও থাকত একেবারে পৌরাণিক বর্ণনার মতো—গরুর দেহ, মানুষের মাথা, বা উল্টো করে শিল্পীর কল্পনায় অঙ্কিত।
সাজসজ্জার ঐতিহ্য (Bonedi Barir Durga Puja)
আজকের মতো চকচকে রঙের আধিক্য ছিল না। প্রতিমায় ব্যবহার করা হতো প্রাকৃতিক রঙ গেরুয়া, সাদা, কালো, হলুদ, সবুজ। শোলা দিয়ে দেবীর মুকুট বা অলঙ্কার বানানো হতো। সোনার গহনার মতো উজ্জ্বলতা না থাকলেও শোলার কারুকাজে ফুটে উঠত রাজসিক সৌন্দর্য। কিছু বনেদি বাড়িতে আসল সোনার গয়নাও প্রতিমায় পরানো হতো—সেটিই ছিল সেই পরিবারের ঐশ্বর্য প্রদর্শনের অন্যতম দিক।
সাবেকিআনা ছোয়া! (Bonedi Barir Durga Puja)
আলোকসজ্জার বাহার তখন ছিল না। প্রতিমার সামনে জ্বলে উঠত মাটির প্রদীপ। ধূপকাঠির সুগন্ধে ভরে যেত গোটা দালান। আলো-অন্ধকারের সেই মায়াবি পরিবেশে দেবী দুর্গা যেন আরও রহস্যময়, আরও মহিমান্বিত হয়ে উঠতেন।
ডিজে বক্স এর বদলে বাদ্যযন্ত্র (Bonedi Barir Durga Puja)
বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর অন্যতম পরিচয় ছিল ঢাকের শব্দ। শিল্পীরা দিনের পর দিন বাজাতেন ঢাক, সঙ্গে থাকত শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি। আজকের মতো রেকর্ডেড গান বা ডিজে মিউজিক নয় পুরোটাই ছিল জীবন্ত ঐতিহ্যের ছন্দ।
আরও পড়ুন: Beginning of Durga Puja: ইংরেজদের খুশি করতেই কি দুর্গাপুজোর সূচনা?
জমিদারি আভিজাত্য (Bonedi Barir Durga Puja)
একসময় জমিদারবাড়ির দুর্গাপুজোই ছিল এলাকার প্রধান উৎসব। গ্রামবাসী, প্রজারা, অতিথিরা সবাই ভিড় করতেন। প্রতিমার সাজসজ্জা শুধু শিল্পকলা নয়, সামাজিক সম্প্রীতিরও প্রতীক ছিল। সেই প্রতিমা ঘিরে ভোগপ্রসাদ, নাটকের আসর, কবিগান, কীর্তন… সব মিলিয়ে দুর্গোৎসব হয়ে উঠত সর্বজনীন আনন্দের উৎসব।



