Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছেন(Pakistan Air Force Bombing)। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, সোমবার ভোররাত ২টার দিকে পাকিস্তান বিমানবাহিনী এই হামলা চালায়।
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান থেকে বোমা বর্ষণ (Pakistan Air Force Bombing)
প্রতিবেদন বলছে, পাকিস্তান বিমানবাহিনী তাদের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান থেকে এলএস-৬ ধ্বংসাত্মক বোমা বর্ষণ করে(Pakistan Air Force Bombing)। টার্গেট ছিল পেশতুন অধ্যুষিত মাত্রে দারা গ্রাম। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে গ্রামের একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়, বহু ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিহতদের সবাই সাধারণ মানুষ।
সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে ক্ষোভ
সরকারিভাবে জানানো হয়েছে যে হামলার লক্ষ্য ছিল তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর আস্তানা। কিন্তু বাস্তবে প্রাণ হারিয়েছেন সাধারণ গ্রামবাসী। নারী ও শিশুদের মৃত্যুতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেক আহতকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও গুরুতর আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আরও পড়ুন : IND vs PAK Asia Cup : গিল-অভিষেক তাণ্ডবে ফের পাক বধ ভারতের। জয়েও চিন্তা বাড়ালো ফিল্ডিং
সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামেই হামলা(Pakistan Air Force Bombing)
খাইবার পাখতুনখোয়ায় গত কয়েক মাস ধরেই জঙ্গি দমনে সামরিক অভিযান চলছে(Pakistan Air Force Bombing)। রবিবার ডেরা ইসমাইল খান জেলায় এক গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানে সাত টিটিপি জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে সেনার গণসংযোগ দফতর (আইএসপিআর)। নিহতদের মধ্যে তিনজন আফগান নাগরিক এবং দুইজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল বলে জানানো হয়।
এর আগেও ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর টানা দুই দিনে সংঘর্ষে অন্তত ৩১ জন টিটিপি জঙ্গি নিহত হয়েছিল। কিন্তু এবার বোমা বর্ষণে সাধারণ মানুষের মৃত্যু পাকিস্তানের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আরও পড়ুন : CM Inaugurated Durga Puja : হাতিবাগান থেকে শ্রীভূমি! বৃষ্টির মধ্যেই শারদোৎসবের সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর
সীমান্তে অস্থিরতা ও আফগানিস্তান প্রসঙ্গ
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ আফগানিস্তানের সীমান্ত ঘেঁষে(Pakistan Air Force Bombing)। এখানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির সক্রিয় উপস্থিতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান জঙ্গি তৎপরতার জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) সম্প্রতি বলেন, “আফগানিস্তানকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে— তারা কি সন্ত্রাসীদের পাশে দাঁড়াবে, নাকি পাকিস্তানের পাশে।”
এই বক্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলের নজর(Pakistan Air Force Bombing)
যদিও পাকিস্তান সেনা দাবি করছে তারা জঙ্গিদের ঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালাচ্ছে, কিন্তু নিরীহ মানুষ মারা যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির উদ্বেগ বাড়ছে(Pakistan Air Force Bombing)। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের হামলা কেবল মানবিক সংকটই নয়, বরং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আরও অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার এই হামলা প্রমাণ করেছে যে জঙ্গি দমনের নামে পাকিস্তান সরকার ও সেনার অভিযানে সাধারণ মানুষও ভয়ঙ্করভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নারী-শিশু সহ নিরীহ মানুষদের মৃত্যুতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে এলাকায়। আগামী দিনে এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।


