Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : একসময় কলকাতার গড়িয়াহাট, হাতিবাগান বা নিউ মার্কেট ছিল পুজোর বাজারের প্রাণকেন্দ্র (Online Shopping)। পরিবার একসঙ্গে বেরিয়ে পছন্দের দোকানে জামা-কাপড় বেছে নেওয়া, দামাদামি করা এবং শেষে নতুন ব্যাগ ভর্তি কেনাকাটা নিয়ে বাড়ি ফেরা ছিল আনন্দের অংশ। সাহিত্যে যেমন বিভূতিভূষণের লেখায় দেখা যায় পুজোর আগে নতুন জামা পাওয়ার উচ্ছ্বাস, তেমনই শরৎচন্দ্রও গ্রামীণ হাটবাজারের কোলাহলকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন।
প্রযুক্তির ছোঁয়া বেড়েছে! (Online Shopping)
২১শ শতকে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের উত্থান পুজোর বাজারকে আমূল বদলে দিয়েছে। ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজন, মিণ্ত্রা কিংবা মীশোর মতো কোম্পানিগুলি পুজোর আগে “বিগ ফেস্টিভ্যাল সেল” আয়োজন করে। এখন আর ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয় না; মোবাইলের পর্দায় কয়েকটি ক্লিকেই শাড়ি, কুর্তা, জুতো বা অলঙ্কার পৌঁছে যাচ্ছে ঘরে। গ্রামীণ এলাকাতেও স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের প্রসারে অনলাইন শপিং দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।
বৈচিত্র্যের বিস্তার কোথায়… (Online Shopping)
আগে স্থানীয় দোকানের মধ্যেই কেনাকাটা সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু এখন কলকাতার ক্রেতা অনলাইনে বারাণসীর বেনারসি বা জয়পুরের হ্যান্ডিক্রাফ্ট কিনতে পারছেন। আবার মুর্শিদাবাদের তাঁতের শাড়িও পৌঁছে যাচ্ছে দিল্লি, মুম্বই বা বেঙ্গালুরুতে। এতে একদিকে আঞ্চলিক শিল্পীরা লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে ক্রেতার হাতে বিকল্পের পরিধিও বহুগুণ বেড়েছে।
অভিজ্ঞতার পরিবর্তন কী? (Online Shopping)
তবে অনলাইন শপিং-এর এই সহজলভ্যতা মানুষের সামাজিক অভিজ্ঞতাকে বদলে দিচ্ছে। আগে পরিবার, আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধব মিলে বাজারে বেরোনো, খাওয়া-দাওয়া করা, আড্ডা দেওয়া ছিল এক ধরনের উৎসব। এখন সেই অভিজ্ঞতা অনেকটাই ভার্চুয়াল “কার্ট” আর “অর্ডার কনফার্মেশন” পেজে সীমাবদ্ধ। সমকালীন সাহিত্য ও প্রবন্ধে লেখকরা উল্লেখ করছেন, উৎসবের বাজার যেমন আনন্দ দেয়, তেমনি মানুষের মিলনোৎসব হিসেবেও কাজ করে যা ধীরে ধীরে কমে আসছে।
চ্যালেঞ্জ ও আশঙ্কা কোথায়! (Online Shopping)
শহরের বড়ো দোকানদার থেকে শুরু করে মফস্বলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আজ অনলাইন প্রতিযোগিতার চাপে পড়েছেন। উৎসবকেন্দ্রিক আয় তাঁদের জীবিকার বড়ো অংশ জুড়ে থাকে। কিন্তু অনলাইনের ছাড় আর ডিসকাউন্ট তাঁদের ব্যবসায়িক অবস্থানকে দুর্বল করে তুলছে। পাশাপাশি বাজার ঘুরে কেনাকাটার সংস্কৃতি ক্ষীণ হচ্ছে, যা একসময় বাঙালির উৎসব-সংস্কৃতির অপরিহার্য অংশ ছিল।
আরও পড়ুন: Beginning of Durga Puja: ইংরেজদের খুশি করতেই কি দুর্গাপুজোর সূচনা?
ভবিষ্যতের পুজোর বাজার!
বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, পুজোর বাজার ক্রমশ দ্বৈত রূপ নিচ্ছে। একদিকে মানুষ অনলাইন শপিংকে বেছে নিচ্ছেন সুবিধা, সময় সাশ্রয় এবং বৈচিত্র্যের জন্য। অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী বাজারও নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা করছে নতুন শপিং মল, পুজো অফার বা ফ্যাশন শো-এর মাধ্যমে। সম্ভবত ভবিষ্যতের পুজো আরও বেশি “হাইব্রিড মার্কেট”-এর ওপর নির্ভর করবে যেখানে অনলাইন আর অফলাইন দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।



