Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: গত কয়েকদিন ধরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে যে (RBI MPC Meeting) , বাড়ি ও গাড়ির ঋণের সুদের হার কমতে পারে। আর্থিক বিশ্বে বিশেষজ্ঞরা এই সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী, কারণ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) আজ থেকে শুরু করেছে তার আর্থিক নীতি কমিটির (এমপিসি) বৈঠক। এই বৈঠকে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রানীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যার মধ্যে রয়েছে রেপো রেটের পরিবর্তন।
ছয় সদস্যের এই কমিটি (RBI MPC Meeting)
মুম্বাইয়ে বসানো হয়েছে ছয় সদস্যের এই কমিটি (RBI MPC Meeting), যারা দেশের মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বাজারের সামগ্রিক অবস্থা মূল্যায়ন করবেন। গত আগস্টের বৈঠকে রেপো রেট ৫.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। এর আগে জুন মাসে এটি ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমানো হয়, আর ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলেও ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে হ্রাস আনা হয়েছিল।
বিভিন্ন মত প্রকাশ (RBI MPC Meeting)
বিশেষজ্ঞরা এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মত (RBI MPC Meeting) প্রকাশ করছেন। আইসিআরএ-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ার মনে করেন, অক্টোবর-নভেম্বরে চালু হওয়া নতুন জিএসটি সংস্কার সাময়িকভাবে মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সাহায্য করবে। তবে, তার পর মুদ্রাস্ফীতির আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অক্টোবরের বৈঠকে রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা বেশি বলে তিনি অনুমান করেছেন।
প্রভাব সরাসরি পড়বে ভারতের অর্থনীতিতে
আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্কের প্রধান অর্থনীতিবিদ গৌর সেন গুপ্ত জানান, দেশের অর্থনীতি প্রথম ত্রৈমাসিকে শক্তিশালী হয়েছে। এই অবস্থায় আরবিআই কর ও জিএসটির প্রভাব বিশ্লেষণ করার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। উৎসবের মরসুম পার হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য সংক্রান্ত শুল্ক আলোচনা ও ফলাফলের উপর নির্ভর করবে দেশের অর্থনৈতিক গতিবিধি। সফল বাণিজ্য চুক্তির ফলে শুল্ক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে, যা ভারতের রফতানি খাত ও কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক। তবে মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক গতি ধীর হয়ে যেতে পারে, যা চাহিদাকে দুর্বল করতে পারে এবং তার প্রভাব সরাসরি পড়বে ভারতের অর্থনীতিতে।

রেপো রেট অপরিবর্তিত
মুদ্রাস্ফীতির দিক থেকে দেখা যায়, আরবিআই শেষ বৈঠকে রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখেছিল, কিন্তু আশা করা হচ্ছে বছর শেষে ধীরে ধীরে এটি কমানো শুরু হবে। এর ফলে ঋণের ব্যয় কমবে এবং বাজারে তহবিলের প্রবাহ বাড়বে। বর্তমানে খুচরা মূল্যস্ফীতি আগস্ট মাসে ২.০৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা জুলাই মাসে ছিল ১.৬১ শতাংশ। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ২০২৬ অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমতে পারে। সরকারের সাম্প্রতিক জিএসটি সংস্কার এর পিছনে বড় কারণ।
আরও পড়ুন: Durga Puja: অষ্টমীতে মিলবে প্রচুর পদ্ম, দামও থাকবে নাগালের মধ্যে!
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি ৬.৫ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে। যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনা ভালো ফলাফল দেয়, তাহলে প্রবৃদ্ধির হার অপরিবর্তিত রাখা যাবে। তবে এই পুরো প্রক্রিয়া আরবিআইয়ের নীতি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল।


