Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরবঙ্গ থেকে শান্তি-একটা বজায় রাখার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় বিজেপির কড়া সমালোচনার মুখে রাজ্য প্রশাসন (Mamata Banerjee)।
উত্তরবঙ্গ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা (Mamata Banerjee)
বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে সোমবার নাগরাকাটায় আক্রান্ত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। উত্তরবঙ্গে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলকে সংযত থাকার বার্তা দেন। এধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকেও প্রশাসনকে নজর রাখার নির্দেশ দেন। রাজনীতি ভুলে সকলকে বিপর্যস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এই পরিস্থিতিতে সকলের খোঁজ নেওয়ার এবং যাওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবুও দলের বিধায়ক-সাংসদের এই হেনস্থার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্য প্রশাসনের সমালোচনায় কেন্দ্রীয় বিজেপি। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে শাসক-বিরোধী তরজা (Mamata Banerjee)।
উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ের মধ্যেই নিগ্রহের ঘটনা। আক্রান্ত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। সোমবার নাগরাকাটায় বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়তে হল বিজেপির দুই জনপ্রতিনিধিকে। লাঠি, জুতো নিয়ে তাঁদের উপর চড়াও হন স্থানীয় কয়েকশো মানুষ। নদী থেকে পাথর তুলে তাঁদের গাড়ি লক্ষ করে ছোঁড়া হয়। তাতেই মাথা ফেটে যায় মালদহ উত্তরের সাংসদের। ধাক্কা দেওয়া হয় শঙ্করকেও। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় খগেন মুর্মুকে।
ভিডিও বার্তায় শঙ্কর ঘোষ জানান ‘আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। খগেন মুর্মু রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছেন। গাড়ির কোনও কাচ বাকি নেই। আপাতত খগেনদাকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাচ্ছি।’ তিনি আরও জানান ‘ত্রাণ দেওয়ার কাজে সাহায্য করতে গিয়েছিলাম আমরা। নদীর ওপারের মানুষদের সাথে দেখা করতে যান শমীকদারা। আমরা এই পারেই ছিলাম আর সেই সময় কিছু লোক আমাদের ঘিরে ধরে। প্রথমে গালিগালাজ করে ও পরে মারধর শুরু করে। সিটের নীচে কোনও মতে মাথা ঢুকিয়ে বেঁচেছি।’ ঘটনায় রাজ্য ও পুলিশ প্রশাসনকেই কাঠগোড়ায় তুলেছেন শিলিগুড়ির বিধায়ক (Mamata Banerjee)।
উত্তরবঙ্গে বিপর্যয় ঠিক কতটা, তা সরজমিনে খতিয়ে দেখতে সোমবার উত্তরবঙ্গে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পৌঁছেই নাগরাকাটায় দুর্গতদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। বার্তা দেন পাশে থাকার। সেখান থেকেই মমতার স্পষ্ট বার্তা, ‘রাজনীতি ভুলে এই সময় দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ সাহস না-হারিয়ে সংযম এবং সতর্কতা বজায় রাখার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে দুই বিজেপি জনপ্রতিনিধির আক্রান্ত হওয়ার ঘটনারও সমালোচনা করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সকলের খোঁজ নেওয়ার এবং যাওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকেও প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেন তিনি। এবং সকলকে শান্তির পরিবেশ বজায় রাখারও বার্তা দেন।

আরও পড়ুন: Ind vs Pak: চোখ রাঙানির পাল্টা দিলেন হরমনপ্রীত, ভাইরাল ভিডিও
মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পরেও গোটা ঘটনায় লেগেছে রাজনৈতিক রঙ। বিজেপি সাংসদ-বিধায়কের উপর হামলার ঘটনায় সরব হয়েছে কেন্দ্রীয় বিজেপিও। দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলায় কারও নিরাপত্তা নেই বলে সরব হন বিজেপি মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী। পুলিশের সামনেই এই ঘটনা ঘটায় প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। আদিবাসী জনজাতি-সহ রাজ্যের সাংসদ-বিধায়করা কেউ সুরক্ষিত নয় বলে দাবি করেন বিজেপি মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী। একইসঙ্গে ‘যখন উত্তরবঙ্গ ডুবছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী নাচছেন’ এই বলেও মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী সংযত ও একতার বার্তা দিলেও, বিজেপি রাজ্য প্রশাসনের সমালোচনা ও ব্যর্থতায় সরব হয়েছেন। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই আহত খগেন মুর্মুর সঙ্গে কথা বলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। বিপর্যয় মোকাবিলার সঙ্গে শাসক-বিরোধী তরজায় এখন অসহায় অবস্থা গোটা উত্তরবঙ্গের (Mamata Banerjee)।


