Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : সাত দিনের ভারত সফরে এসেছেন আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি (Amir Khan Muttaqi)। শনিবার তিনি পৌঁছান উত্তরপ্রদেশের ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দে(Taliban Minister in India)। সেখানে তিনি সাক্ষাৎ করেন প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য মৌলানা আবুল কাসিম নোমানি-সহ অন্যান্য শিক্ষকদের সঙ্গে। দেওবন্দে তাঁর আগমনে ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহের সঞ্চার হয়।
তালিবান ও দেওবন্দের ঐতিহাসিক যোগসূত্র (Taliban Minister in India)
সূত্রের খবর, তালিবানের সঙ্গে দেওবন্দের এক দীর্ঘ আদর্শগত সম্পর্ক রয়েছে(Taliban Minister in India)। দক্ষিণ এশিয়ায় ইসলামী শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই দারুল উলুম দেওবন্দ থেকেই ১৯শ শতকে এক বিশেষ ধর্মীয় চিন্তাধারার জন্ম হয়। সেই চিন্তাধারাকেই অনুসরণ করে পাকিস্তানে গড়ে ওঠে দারুল উলুম হাক্কানিয়া, যেখানে তালিবানের বহু শীর্ষ নেতা পড়াশোনা করেছেন।
হাক্কানিয়ার প্রতিষ্ঠাতা মৌলানা আবদুল হক ছিলেন দেওবন্দেরই প্রাক্তন ছাত্র ও শিক্ষক। তাঁর পুত্র সামি-উল-হক, যিনি ‘তালিবানের জনক’ নামে পরিচিত, দেওবন্দি আদর্শেই তালিবানকে গড়ে তোলেন। তাই আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকির দেওবন্দ সফরকে কেবল সৌজন্য নয়, বরং এক প্রতীকী পুনর্মিলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দেওবন্দে উষ্ণ অভ্যর্থনা
দিল্লি থেকে সড়কপথে দেওবন্দ পৌঁছান মুত্তাকি (Taliban Minister in India) । সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান উপাচার্য নোমানি ও অন্যান্য শিক্ষাকর্মীরা। শিক্ষার্থীদের অনেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও নিরাপত্তার কারণে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। তবে মুত্তাকির আগমনে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
তালিবান মন্ত্রী বলেন, “দারুল উলুম দেওবন্দে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এখানকার মানুষের ভালবাসা ও অভ্যর্থনায় আমি অভিভূত। আমি বিশ্বাস করি, ভারত ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হবে।”

আরও পড়ুন : Martlet Missile : ব্রিটেনের মার্টলেট ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত! কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অস্ত্র?
ভবিষ্যত যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক প্রভাব(Taliban Minister in India)
মুত্তাকি জানান, ভবিষ্যতেও আফগানিস্তানের প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা দেওবন্দে আসবেন(Taliban Minister in India)। এর মাধ্যমে ভারত ও আফগানিস্তানের শিক্ষাক্ষেত্রে এবং সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান আরও জোরদার হবে। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐতিহ্যের ভিত্তিতে আরও বিকশিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফর আফগানিস্তানের জন্য প্রতীকী হলেও ভারতের কাছে তা কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তালিবান সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না থাকলেও, দেওবন্দ সফর ভারতের মুসলিম সমাজের সঙ্গে আফগানিস্তানের ঐতিহাসিক বন্ধনের ইঙ্গিত বহন করছে।

পর্যটনসূচি ও সফরের পরবর্তী ধাপ(Taliban Minister in India)
সূত্রের খবর, আমির খান মুত্তাকি ১২ অগস্ট আগ্রার তাজমহল দর্শনে যাবেন(Taliban Minister in India)। এছাড়াও তিনি ভারতের বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান অঞ্চলের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পরিকল্পনা করেছেন।
দেওবন্দ সফর তালিবান ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় সংযোগের প্রতিফলন। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর শুধু সৌজন্যমূলক নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে—ভারতের মাটিতে ইসলামিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে তালিবান আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার পথে এগোতে চায়।


