Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মাসের শুরুতে উত্তর ভারতের (Digha) বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে একের পর এক প্রকৃতিক দুর্যোগের কারণেএকটা বড় ধাক্কা লেগেছে পর্যটন খাতে। সিকিম, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং দার্জিলিংয়ের মতো জনপ্রিয় পর্যটন এলাকার রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়েছে ভূমিধস এবং অবিরাম বৃষ্টির কারণে। ফলে পাহাড়াঞ্চলে ভ্রমণের ইচ্ছুক অনেক পর্যটক বুকিং বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন এবং চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি পর্যটকদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক তৈরি করেছে, যার ফলে অনেকেই এখন পাহাড়ের পরিবর্তে নিরাপদ ও সহজলভ্য গন্তব্য খুঁজছেন।
দিঘায় পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি (Digha)
এর ফলে দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর এবং ওড়িশার পুরী ও গোপালপুরের (Digha) মতো সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটন স্থানগুলোতে ভ্রমণপিপাসুদের আগমন বেড়েছে। বিশেষ করে দিঘায় পর্যটকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পাহাড় পর্যটনের সীমাবদ্ধতার সরাসরি প্রভাব।
জগন্নাথ ধাম দর্শন (Digha)
দিঘায় নতুন আকর্ষণ হিসেবে জগন্নাথ ধাম দর্শনের (Digha) গুরুত্বও বেড়েছে। গত বছর এপ্রিল মাসে এই মন্দির উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে দিঘা শহরে পর্যটকদের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুর্গাপুজোর চারদিনের সময় দিঘায় প্রচুর ভিড় হয়েছিল এবং সেই ঢেউ এখনও থামেনি। পাহাড়ে ভ্রমণের অনিশ্চয়তার কারণে অনেক পর্যটক দার্জিলিং বা অন্যান্য পাহাড়ি গন্তব্যের বুকিং বাতিল করে এখন সমুদ্রসৈকতকেই বেছে নিচ্ছেন।
ভাইফোঁটা পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড়
দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলোর আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং মনোরম। তাই পাহাড়ে ভ্রমণ বাতিল হওয়া মানুষেরা এখন দিঘার দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন।” নিউ দিঘার হোটেল ব্যবসায়ী দিব্যেন্দু দোলাইও একই কথা বলেছেন, “যারা পাহাড়ে যেতে পারেননি, তাঁরা দিঘায় আসার ব্যাপারে যোগাযোগ করছেন। ফলে ভাইফোঁটা পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় থাকার সম্ভাবনা প্রবল।”

আরও পড়ুন: Kolkata Metro Rail: কবে থেকে চালু হবে কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন?
তবে এই পর্যটক স্রোত সামলাতে সৈকত এলাকায় উন্নত পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা একাধিক পক্ষই উল্লেখ করেছেন। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের প্রশাসক নিরঞ্জন মণ্ডল জানিয়েছেন, “আগামী ভরা পর্যটন মরশুমের জন্য আমরা বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি। পার্ক, রাস্তাঘাট সংস্কারসহ হোটেল ভাড়া এবং নিরাপত্তার বিষয়েও আমরা নজর রাখছি।”
পাহাড়ে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা সাময়িক হলেও উপকূলীয় পর্যটনের ক্ষেত্রে এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, উপকূলীয় এলাকায় পর্যটন চাহিদার এই ক্রমবর্ধমান চাপ কতটা সুষ্ঠুভাবে সামলানো যাবে।


