Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে একাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনার পর সারা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Cough Syrup)। অভিযোগ, কাশি ও সর্দির ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত কিছু কফ সিরাপ খাওয়ার পরেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৪ জন শিশুর। পরীক্ষায় ওই সিরাপে পাওয়া গিয়েছে ডাইইথিলিন গ্লাইকল নামের এক বিষাক্ত রাসায়নিক, যা শরীরে মারাত্মক বিষক্রিয়া ঘটাতে সক্ষম। এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার।
কর্ণাটক সরকারের নির্দেশ কী? (Cough Syrup)
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সোমবার কর্ণাটক রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর এক নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে “দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের কাশি ও সর্দির সিরাপ প্রেসক্রাইব বা বিক্রি করা যাবে না।” এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে কফ সিরাপ সেবনে শিশুমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই। চিকিৎসক ও ওষুধ বিক্রেতাদের এই বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে মৃত্যু (Cough Syrup)
রাজ্য খাদ্য নিরাপত্তা ও ওষুধ প্রশাসন (FSDA)-এর জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর একটি ওষুধ সংস্থার তৈরি Coldrif Syrup (Batch No. SR-13) সেবনের পর মধ্যপ্রদেশে একাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
এর পর তামিলনাড়ু ড্রাগ কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট ওই ব্যাচের কফ সিরাপের ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। সূত্রের খবর, রাজস্থানে Dextromethorphan Hydrobromide Syrup IP যা জয়পুরের Kesons Pharma তৈরি করেছিল সেবনের পরেও কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
ঝাড়খণ্ড সরকারের পদক্ষেপ (Cough Syrup)
সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ড সরকারও সোমবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যে Coldrif, Respifresh এবং Relife নামের তিনটি কফ সিরাপের বিক্রি, কেনাবেচা ও ব্যবহার অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে এই সিরাপগুলির সঙ্গে শিশুমৃত্যুর যোগসূত্র পাওয়ায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশ মেনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব (স্বাস্থ্য) অজয় কুমার সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, “রাজ্য ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিষিদ্ধ তিনটি সিরাপের বিক্রয় ও ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।” স্বাস্থ্য মন্ত্রী ইরফান আনসারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, “জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনও আপস বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সরকারি সূত্রের খবর, জেলার ওষুধ নিয়ন্ত্রক ও পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিষিদ্ধ সিরাপগুলির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর।
কেন্দ্রীয় সরকারের জরুরি বৈঠক (Cough Syrup)
সূত্রের খবর, রবিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের উদ্যোগে দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্বাস্থ্যসচিব এবং ড্রাগ কন্ট্রোল আধিকারিকদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কফ সিরাপ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির উপর নজরদারি বাড়ানো, শিশুদের ক্ষেত্রে বুঝে-শুনে ওষুধ প্রয়োগ এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নজরদারি ও গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসেস
সূত্রের খবর, মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে সমস্ত ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাকে সংশোধিত ‘শিডিউল এম’ কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসেস -এর নিয়মাবলি। এছাড়া জানানো হয়েছে,
- নিয়ম না মানলে উৎপাদন ইউনিটের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।
- কফ সিরাপ প্রস্তুতকারকদের উপর বাড়ানো হবে নজরদারি।
- ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সময়মতো তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
- ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ইনফরমেশন প্ল্যাটফর্ম’-এর মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
আরও পড়ুন : Israel Hamas Conflict : গাজায় শান্তি ফেরাতে ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাবে সায় হামাসের
শিশুদের সুরক্ষায় সতর্কবার্তা
চিকিৎসক সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুদের শরীরের রাসায়নিক সহনশক্তি খুবই সীমিত। তাই কফ সিরাপ বা অনুরূপ ওষুধ প্রয়োগের সময় চিকিৎসকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশুর সর্দি–কাশি কয়েক দিনের মধ্যেই নিজে থেকেই সেরে যায়।



