Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গঙ্গা মানেই যেন ভারতের প্রাণস্বরূপা (Ganga River), যার জলে আস্থা কোটি মানুষের। সেই নদীকে রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় সরকার ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পে জোর দিয়েছে। দূষণমুক্ত গঙ্গার স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। কিন্তু একদিকে নদীর পলি জমা, বর্জ্য দূষণ আর নাব্যতা হ্রাসের সমস্যার পাশাপাশি, আরেকটি বিপদের মুখে রয়েছে গঙ্গার উৎস গঙ্গোত্রী হিমবাহ।
দ্রুত হারে সঙ্কুচিত হচ্ছে গঙ্গোত্রী (Ganga River)
গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য-দ্রুত হারে সঙ্কুচিত হচ্ছে (Ganga River) গঙ্গোত্রী। বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩০০ মিটার কমছে হিমবাহের দৈর্ঘ্য। অর্থাৎ গত এক দশকে গঙ্গোত্রীর দৈর্ঘ্য অন্তত ৩ কিলোমিটার কমে গিয়েছে। ভারতের অন্যতম প্রধান এই হিমবাহ এত দ্রুত গলতে থাকলে, ভবিষ্যতে গঙ্গার স্বাভাবিক প্রবাহ নিয়েই তৈরি হতে পারে আশঙ্কা।
বরফ গলার হার বেড়ে চলেছে (Ganga River)
আইআইটি ইনদোরের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বরফ (Ganga River) গলার হার শুধু বেড়ে চলেছে তা-ই নয়, সেই গলা বরফের জলও পুরোপুরি গঙ্গার স্রোতে যুক্ত হচ্ছে না। বরং তার একটা বড় অংশ ছড়িয়ে পড়ছে পাশের উপত্যকা ও ক্যাচমেন্ট এলাকাগুলিতে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে আকস্মিক বন্যা, বদলে যাচ্ছে হিমালয়ের দক্ষিণ ঢালের জলবায়ু ও ভূপ্রকৃতি।
আরও পড়ুন: Kolkata Air Pollution: শব্দ-বায়ু দূষণে জর্জরিত কলকাতা, প্রশ্ন উঠছে ‘উৎসবের সংজ্ঞা’ নিয়ে!
এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু পাহাড়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভূতত্ত্ববিদ ও জলসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, গঙ্গোত্রী হিমবাহের আয়তন যত কমছে, গঙ্গার প্রবাহও তত দুর্বল হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে চলেছে সমগ্র উত্তর ভারতের নদীনির্ভর বাস্তুতন্ত্র ও অর্থনৈতিক কাঠামোয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, যদি গঙ্গা তার উৎসে পর্যাপ্ত জল না পায়, তবে দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ- যাদের জীবন ও জীবিকা এই নদীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত-তারা পড়বে বিপাকে।

আজ গঙ্গার দিকে তাকালে দূষণ, দূর্বল প্রবাহ আর পরিবর্তিত গতিপথই নজরে আসে। অথচ এই নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়, এ দেশের সংস্কৃতি, কৃষি, আধ্যাত্মিকতা এবং অর্থনীতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই গঙ্গার উৎস যদি সংকুচিত হয়ে যায়, তবে কেবল একটি হিমবাহ নয়, হুমকির মুখে পড়বে গোটা উত্তর ভারতের জনজীবন।


