Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নদিয়া জেলার সদর শহর কৃষ্ণনগর জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রবর্তন ক্ষেত্র হিসেবে ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে (Krishnanagar)। আলোকসজ্জা, সাবেকি প্রতিমা ও থিমের অভিনব মণ্ডপ সব মিলিয়ে কৃষ্ণনগরের পুজো আজ এক অনন্য উৎসবে পরিণত হয়েছে।

মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের হাত ধরে (Krishnanagar)
১৭ শতকে কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা করেন। তাঁর রাজপ্রাসাদ থেকেই এই পুজোর সূত্রপাত। রাজবাড়ির এই আদি পুজো থেকেই পরবর্তীকালে কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন পাড়ায় বারোয়ারি জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন শুরু হয়।

ঐতিহ্যের ধারক ও ইতিহাসের সাক্ষী (Krishnanagar)
কৃষ্ণনগরের রাজরাজেশ্বরী মাতার পুজো আজও সেই প্রাচীন রীতিনীতিতেই পালিত হয়। প্রতিমার গঠন, পুজোয় ব্যবহৃত সামগ্রী, আরতির ধ্বনি সবেতেই রাজসিক আবহ। দর্শনার্থীদের কাছে এই পুজো কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যের মূল প্রতীক।
চাষাপাড়ার ‘বুড়িমা’ (Krishnanagar)
কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই প্রথমেই যার নাম উঠে আসে, তিনি হলেন চাষাপাড়া বারোয়ারির বুড়িমা। ১৭৭২ সাল থেকে এই পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে অর্থাৎ প্রায় ২৫০ বছরেরও বেশি ঐতিহ্য। বিশাল প্রতিমা, সোনালি সাজসজ্জা ও ধুনো পোড়ানোর বিশেষ আয়োজন এই পুজোকে অনন্য করে তুলেছে। বুড়িমার খ্যাতি এখন রাজ্য ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।
কাঁঠালপোতার ‘ছোট মা’ (Krishnanagar)
চাষাপাড়ার বুড়িমার পরই কৃষ্ণনগরের জনপ্রিয় পুজো কাঁঠালপোতা বারোয়ারির ছোট মা। লোকমুখে বলা হয়, ছোট মা হলেন বুড়িমার বোন! এখানকার প্রতিমা যেমন বিশাল, তেমনি তার সাবেকি রূপও অতুলনীয়। রঙের মিতব্যয়ী ব্যবহার ও ঐতিহ্যবাহী মণ্ডপসজ্জাই এর বৈশিষ্ট্য।
ঘূর্ণি বকুলতলা বারোয়ারি (Krishnanagar)
কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি এলাকা বহু বছর ধরে শিল্পী ও মৃৎশিল্পের জন্য বিখ্যাত। সেই ঐতিহ্যের ধারায় ঘূর্ণি বকুলতলা বারোয়ারি প্রতিবছর নতুন নতুন সামাজিক বা সাহিত্যভিত্তিক থিম নিয়ে আসে। “চণ্ডীমঙ্গল কাব্য” থেকে “বৃক্ষরোপণ” নানা থিমে তাঁদের মণ্ডপ ও প্রতিমা মন জয় করে নেয় দর্শকদের।
বিশাল প্রতিমায় চমক (Krishnanagar)
সন্ধ্যা মাঠ পাড়ার ক্লাব প্রতিভা প্রতি বছর বিশাল আকারের ফাইবার প্রতিমা তৈরি করে চমকে দেয়। প্রতিমার উচ্চতা প্রায় ৮০–৮৫ ফুট, যা জেলার মধ্যে অন্যতম বৃহৎ। আলোর খেলা, রঙিন ব্যাকড্রপ ও উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহারে এদের প্যান্ডেল এক নজরেই মনে গেঁথে যায়।
আলোকসজ্জায় অনন্য, রেনবো ক্লাব (Krishnanagar)
আধুনিক আলোকসজ্জা ও নতুনত্বের ছোঁয়া নিয়ে রেনবো ক্লাব প্রতি বছর কৃষ্ণনগরের পুজো তালিকায় বিশেষ স্থান পায়। তাদের মণ্ডপে 3D লাইট, মুভিং লেজার, এবং মিউজিক্যাল ইলিউমিনেশন থাকে যা দর্শকদের জন্য দৃষ্টিনন্দন অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
থিমের বৈচিত্র্যে রাধানগর অন্নপূর্ণা বারোয়ারি
মূল শহরের একটু বাইরে হলেও রাধানগর অন্নপূর্ণা বারোয়ারি তাদের অনন্য থিমের জন্য জনপ্রিয়। একবার তারা কাশী বিশ্বনাথের মন্দিরের প্রতিরূপ গড়েছিল, আবার কখনও শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরির হাটকে মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলেছে। এই থিম পুজো কৃষ্ণনগরের পুজো পরিক্রমায় এক আলাদা মাত্রা যোগ করে।
আরও পড়ুন: Artificial Intelligence Job: ফ্রেশারদের জন্য কি ফের খুলছে আইটি সংস্থার দরজা?
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পুজো
কৃষ্ণনগরে আরও বহু উল্লেখযোগ্য বারোয়ারি পুজো রয়েছে, যেগুলি নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যে দর্শকদের আকর্ষণ করে,
- গোবিন্দ সড়ক সম্মিলনী বারোয়ারি (আলোকেশ্বরী মাতা) – সুন্দর প্রতিমা ও মণ্ডপের জন্য প্রসিদ্ধ।
- মালোপাড়া বারোয়ারি – ধুনো পোড়ানো ও সাবেকি ঢাকের তালে তালে মুগ্ধ করে।
- চকের পাড়া বারোয়ারি (আদি মা) – ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা ও রীতিনীতির ধারক। ২০২৫ সালের পুজো পরিক্রমা পরিকল্পনা
২০২৫ সালে কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো অনুষ্ঠিত হবে কার্তিক মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে। মূল পুজো এক দিনেই হলেও প্যান্ডেলগুলি সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত খোলা থাকে। শহর ছোট হওয়ায় টোটো বা অটো ভাড়া করে একদিনেই প্রধান পুজোগুলি ঘুরে দেখা যায়। নবমী ও দশমীর রাতে বিপুল ভিড় সামলাতে প্রশাসনের তরফে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।



