Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যজুড়ে যখন ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজ চলছে, ঠিক তখনই পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, এই এলাকার ১১৭ নম্বর বুথের বিজেপির বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA) গৌরাঙ্গ হালদারের নামেই রয়েছে দুটি ভোটার কার্ড (Double Voter ID)!
নির্বাচনী লিস্ট খতিয়ে দেখতে গিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গৌরাঙ্গ হালদারের নাম ওই বুথের ভোটার তালিকার ৪১৪ নম্বর ও ৬৮০ নম্বর পার্টে দু’বার রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দুটি নামের পাশেই দুটি ভিন্ন এপিক নম্বরও (EPIC Number) দেখা যাচ্ছে।
শুরু রাজনৈতিক তরজা (Double Voter ID)
এই ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাদের নিজেদেরই যদি এমন ‘ভুতুড়ে ভোটার’ হিসেবে নাম থাকে, তাহলে এই প্রক্রিয়া কতটা সঠিক হবে? স্থানীয় তৃণমূলের সভাপতি সনাতন ঘোষ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “বিজেপি যখন এসআইআর নিয়ে এত লাফাচ্ছে, তখন তাদের BLA-ই যদি ডবল ভোটার (Double Voter ID) হন, তবে তাদের স্বচ্ছতা কোথায়?” তিনি অভিযোগ করেন, এর ফলে ওই ব্যক্তি দু’বার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বিজেপি BLA গৌরাঙ্গ হালদার অবশ্য এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর একটাই ভোটার কার্ড এবং তিনি একবারই ভোট দেন (Double Voter ID)। তাঁর বক্তব্য, “২০২৪ সালের তালিকায় এই ভুল ছিল না। সম্ভবত ২০২৫ সালের সংশোধিত তালিকায় ভুল করে আমার নাম দু’বার চলে এসেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আরও পড়ুন:Working as BLO: বিএলও-র দায়িত্বে স্কুল বন্ধের আশঙ্কা, পড়াশোনা কি থমকে যাবে আসানসোলে?
এই ঘটনা ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন এখন এই ডবল এন্ট্রি কীভাবে হলো এবং তা দ্রুত সংশোধনের কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর রাখছে।


