Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভুঁড়ি বা পেটের মেদ- নাম শুনলেই (Belly Fat) অনেকেরই বিরক্তি আসে। শুধু সৌন্দর্য নয়, এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা নানা রোগের বার্তাও দেয়। আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই নিয়মিত ডায়েট করেন, ব্যায়াম করেন, জল খান পর্যাপ্ত পরিমাণে, তবু যেন পেটের চর্বি কমতে চায় না কিছুতেই। পোশাক পরার সময় অস্বস্তি, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, এমনকি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে এর ফলে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই- এত কিছু করেও কেন ভুঁড়ি কমছে না? আসলে এর পেছনে কিছু অভ্যাস লুকিয়ে আছে, যেগুলিকে আমরা প্রায়ই গুরুত্ব দিই না।
প্রোটিনসমৃদ্ধ প্রাতরাশ না করা (Belly Fat)
প্রথম কারণটি হচ্ছে, সকালে প্রোটিনসমৃদ্ধ প্রাতরাশ (Belly Fat) না করা। ব্যস্ত সকালে অনেকেই শুধু এক কাপ চা বা কফি খেয়েই কাজে বেরিয়ে পড়েন। ফলে শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা সরাসরি পেটের মেদ বাড়ায়। প্রাতরাশ শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই সকালের খাবারে ডিম, দই, ছানা, ডাল, সয়াবিন, বা বাদামজাতীয় প্রোটিনযুক্ত উপাদান থাকা জরুরি। সঙ্গে অল্প পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট যেমন ওটস, হোলগ্রেন পাউরুটি বা ফল রাখলে শক্তিও পাওয়া যায়, এবং সারা দিনে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমে। মনে রাখবেন, সকালে প্রোটিন না খেলে সারা দিনে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে যায়।
খাওয়ার পর নড়াচড়া না করা (Belly Fat)
দ্বিতীয় বড় কারণ-খাওয়ার পর নড়াচড়া না (Belly Fat) করা। অফিসে কাজের চাপে অনেকেই দুপুরের খাবার ডেস্কেই খান, তারপর সঙ্গে সঙ্গে কাজে লেগে যান। এর ফলে খাবার হজম হয় না ঠিকভাবে, গ্যাস বা ফোলাভাব দেখা দেয়, এবং ধীরে ধীরে পেটের চর্বি জমতে শুরু করে। খাওয়ার পর অন্তত ১০-১৫ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজমশক্তি বাড়ে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীরে জমা অতিরিক্ত ক্যালোরি পোড়ে সহজে। দুপুরে খাওয়ার পর এক কাপ লেবু চা বা আদা চা পান করতে পারেন- এতে হজমের সহায়ক এনজাইম সক্রিয় হয়। রাতে খাওয়ার পর অতিরিক্ত কিছু না খেয়ে শুধু গরম জল খেলে শরীর হালকা থাকে এবং ঘুমও ভালো হয়।
আরও পড়ুন: Dev Deepawali: কাশী থেকে হাওড়া! দেব দীপাবলির আলো কি এক করল দুই গঙ্গার তীরকে?
অভ্যাস বদলের গল্প
ভুঁড়ি কমানোর যাত্রা আসলে শরীরের সঙ্গে এক লড়াই নয়, বরং নিজের অভ্যাস বদলের গল্প। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক প্রশান্তি-এই তিনটি বিষয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তনও সমান জরুরি। সকালে প্রোটিনে ভরপুর প্রাতরাশ আর খাওয়ার পর কিছুটা হাঁটাহাঁটি-এই দুই পরিবর্তন যদি রোজের জীবনে আনতে পারেন, দেখবেন ধীরে ধীরে শরীর হালকা লাগছে, মেদ গলে যাচ্ছে, আর আত্মবিশ্বাসও ফিরছে আগের মতো।


