Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের রেশন ব্যবস্থাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠেছিল (Food Department)। নিম্নমানের চাল, খাওয়ার অযোগ্য আটা, রেশন দোকানে অনিয়ম, ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সব মিলিয়ে সাধারণ উপভোক্তাদের আস্থা অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর বার্তা দিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, রেশনে আর আটা দেওয়া হবে না। তার বদলে সরাসরি খাঁটি ও তাজা গম দেওয়া হবে গ্রাহকদের হাতে। একই সঙ্গে খাদ্য দপ্তরের দুর্নীতি এবং নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

“রেশনের দুর্নীতি বন্ধ করতেই হবে” (Food Department)
খাদ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই মুখ্যমন্ত্রী তাকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে রেশনের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষকে ভালো মানের খাদ্যশস্য দেওয়ার উপরও জোর দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, বহু বছর ধরে সাধারণ মানুষ যে খাদ্যশস্য পেয়েছেন, তার বড় অংশই খাওয়ার অযোগ্য ছিল। বিশেষ করে নিম্নমানের আটা ও চাল নিয়ে বহু অভিযোগ ছিল। অনেক উপভোক্তা রেশন সামগ্রী না নিয়ে নগদ টাকা নিয়ে চলে যেতেন, কারণ তারা সেই খাদ্য খেতে চাইতেন না। তার কথায়, “গরিব মানুষ, মেহনতি মানুষ, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত যারা রেশনের উপর নির্ভরশীল, তারা এতদিন যে খাদ্য পেয়েছেন তা অনেক ক্ষেত্রেই খাওয়ার উপযুক্ত ছিল না।”
কেন বন্ধ হচ্ছে রেশনের আটা? (Food Department)
অশোক কীর্তনীয়া সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন আটা তৈরির সঙ্গে যুক্ত এক বড় চক্রের বিরুদ্ধে। তার দাবি, বিভিন্ন মিল মালিক গম পিষে আটা তৈরির সময় নিম্নমানের বা বর্জ্যজাত উপাদান মিশিয়ে দিত। সেই আটা পরে রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছত। মন্ত্রী বলেন, “গম crushing করার সময় ময়দা তৈরি হতো, আর যে waste বেরোতো তা ফেলে না দিয়ে সেই বর্জ্য আবার আটার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হতো।” এই কারণেই আপাতত সম্পূর্ণভাবে রেশনের আটা সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার বদলে সরাসরি ফ্রেশ গম দেওয়া হবে উপভোক্তাদের হাতে।

“FCI থেকে যে গম আসবে, সেটাই পাবেন” (Food Department)
খাদ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে কেন্দ্রীয় সংস্থা FCI থেকে যে গম আসবে, সেটাই সরাসরি বিতরণ করা হবে। মাঝপথে গম বদল বা নিম্নমানের গম মেশানোর চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি কোথাও পুরনো দিনের দুর্নীতি ফেরানোর চেষ্টা হয়, সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন। যে আধিকারিকের এলাকায় এমন ঘটনা ঘটবে, তাকে জবাবদিহি করতেই হবে।” অর্থাৎ শুধু রেশন ডিলার নয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদেরও সরাসরি দায়বদ্ধতার আওতায় আনা হচ্ছে।
সাপ্লায়ারদের উদ্দেশে কড়া সতর্কবার্তা (Food Department)
খাদ্যমন্ত্রী রেশন ডিলার, wholesaler এবং মিল মালিকদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন এবার আর কোনও রকম কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, “Quality-র সঙ্গে কোনও compromise হবে না।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট, খাদ্য দপ্তরের ভেতরে এবং বাইরে যেসব চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযান শুরু হতে চলেছে।
“আমি অফিসে বসে থাকা মন্ত্রী নই” (Food Department)
নিজের প্রশাসনিক ধরন সম্পর্কেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন অশোক কীর্তনীয়া। তিনি বলেন, তিনি শুধু অফিসে বসে কাজ করবেন না, প্রয়োজনে হঠাৎ করেই বিভিন্ন রেশন দোকান ও গুদামে পরিদর্শনে যাবেন। তার কথায়, “আমি মাটির মানুষ। কোথায় কখন যাবো, কাউকে বলে যাবো না।” এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, রাজ্যজুড়ে আচমকা পরিদর্শন ও নজরদারি বাড়তে চলেছে। ফলে রেশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও ডিলারদের উপর চাপও বাড়বে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে আশার আলো (Food Department)
রেশনে নিম্নমানের খাদ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ নতুন নয়। বহু জায়গায় অভিযোগ উঠেছে, ভালো মানের খাদ্য মাঝপথেই বাজারে বিক্রি হয়ে যায় এবং উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছয় নিম্নমানের সামগ্রী। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি খাঁটি গম দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয় এবং দুর্নীতির চক্র কতটা ভাঙা যায়, সেটাই এখন দেখার।
আরও পড়ুন: Garga Chatterjee Arrest: গ্রেপ্তার গর্গ চাটার্জী, নেপথ্যে কোন কারণ?
প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতি বন্ধ করা সহজ কাজ নয়। বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা একটি বড় নেটওয়ার্ককে ভাঙতে গেলে প্রশাসনিক কঠোরতা, নিয়মিত নজরদারি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবকিছুরই প্রয়োজন। খাদ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, সরকার এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এখন সাধারণ মানুষ অপেক্ষা করছেন কথার সঙ্গে বাস্তবের মিল কতটা হয়, তা দেখার জন্য।



