Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর আরজেডি শিবিরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে (Lalu Prasad), তার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন রোহিণী আচার্য লালুপ্রসাদ যাদবের কন্যা, যিনি এতদিন দলের অন্যতম সমর্থক এবং পারিবারিক দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক বিদ্রোহ, দল ও পরিবার পরিত্যাগের ঘোষণা এবং একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক মহলকেই নয়, লালু পরিবারের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকেও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

নির্বাচন-পরবর্তী অশান্তির সূচনা (Lalu Prasad)
নির্বাচনের পর সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলিতে পুনর্মূল্যায়ন, নেতৃত্বের মূল্যায়ন বা কৌশল নির্ধারণের আলোচনা হয়। কিন্তু আরজেডি-তে পরিস্থিতি ভিন্ন। ফল ঘোষণা হওয়ার পরই দলের ভেতরে একটি অপ্রত্যাশিত ভূমিকম্প দেখা যায়। রোহিণীর পোস্টে স্পষ্ট যে এই উত্তেজনা স্রেফ নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়; এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, উপেক্ষা এবং পারিবারিক রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বিস্ফোরণ।
অপমান, গালাগালি ও আত্মসম্মানের প্রশ্ন (Lalu Prasad)
রোহিণী আচার্যের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বিস্ফোরক দাবি দিয়ে শুরু। তাঁর কথায়, তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়েছে, তাঁকে মারার জন্য জুতো তোলা হয়েছিল, একজন মেয়ে, মা ও বোন হিসেবে তাঁকে অসম্মান করা হয়েছে, এবং তিনি সত্যের সঙ্গেই ছিলেন, তাই তাকে আপস না করার শাস্তি দেওয়া হয়েছে এই অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক দলাদলির এক গা ছমছমে ছবি তুলে ধরে, যেখানে পরিবারের সদস্যরাই প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে।

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যথা (Lalu Prasad)
রোহিণীর সবচেয়ে আবেগঘন মন্তব্য ছিল, “ওরা আমাকে মায়ের বাড়ি থেকে আলাদা করেছে, আমাকে অনাথ করেছে।” এই বক্তব্যে তাঁর মানসিক যন্ত্রণা, পরিবারের অভ্যন্তরে অবিশ্বাস এবং বিচ্ছিন্নতার বেদনাই ফুটে ওঠে। যে পরিবারে তিনি নিজের বাবার জীবন বাঁচাতে কিডনি দান করেছিলেন, সেই পরিবার থেকেই নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য হওয়া নিঃসন্দেহে গভীর সংকটের প্রতীক।
কারা দায়ী? তেজস্বীর ছায়া ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শনিবার রোহিণীর প্রথম অভিযোগ তেজস্বী যাদবের দুই ঘনিষ্ঠ নেতা, সঞ্জয় যাদব, রামিজ নিমাত খান, তাঁদের বিরুদ্ধেই অপমান এবং আক্রমণের অভিযোগ তোলেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তেজস্বীর ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা এবং তাঁর প্রতি লালুর প্রকাশ্য সমর্থনই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মনোকষ্টের মূল কারণ।
পুরনো ক্ষত আবার উন্মুক্ত (Lalu Prasad)
লালুর বড় ছেলে তেজ প্রতাপ যাদব আগেই দলীয় কোন্দলে উপেক্ষিত বা ত্যাজ্য হয়েছেন। এখন রোহিণীর বিদ্রোহ প্রমাণ করছে, পরিবারে ক্ষমতার কেন্দ্র এখন তেজস্বী, লালুর অন্য সন্তানরা নিজেদের রাজনৈতিক জায়গা হারাচ্ছেন বলে মনে করছেন, আরজেডি-র ভিতরকার নেতৃত্বভার নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন নতুন করে জ্বলছে এই ঘটনাকে অনেকেই “যাদব পরিবারে উত্তরাধিকার যুদ্ধ” বলেই ব্যাখ্যা করছেন।
রোহিণীর বিদ্রোহের রাজনৈতিক (Lalu Prasad)
রোহিণী শুধু লালুর কন্যাই নন, তিনি তাঁর বাবার জীবনরক্ষাকারী, দীর্ঘদিন আরজেডি-র মুখপাত্রের মতো লড়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের হয়ে সক্রিয় প্রচার করেছেন, তারপরও তিনি যদি এমন ক্ষোভ নিয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তা আরজেডি-র ভেতরের অসন্তোষ এবং নেতৃত্বর প্রতি প্রশ্নকেই সামনে এনে দেয়।
আরও পড়ুন: Instagram: ইনস্টাগ্রামে লাভ রিয়্যাক্ট থেকে রক্তারক্তি! ধূপগুড়িতে লাভ স্টোরিতে ভায়োলেন্ট অ্যাঙ্গেল
সংকট নাকি পুনর্গঠনের সুযোগ?
এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত দলকে কয়েকটি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে, তেজস্বীর নেতৃত্ব কি সত্যিই সর্বজনগ্রাহ্য? পারিবারিক রাজনীতি কি দলের ঐক্য নষ্ট করছে? আরজেডি কি অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র হারাচ্ছে? রোহিণীর অভিযোগ তদন্ত বা সমাধানের পথে না গেলে আরজেডি হয়তো আরও ভিতর থেকে ভেঙে পড়তে পারে।



