Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুপ্রিম কোর্টের পরিষ্কার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এসএসসি (SSC) ২০২৫ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অযোগ্যরা অংশ নিয়েছে। গত শনিবার নতুন নিয়োগের ইন্টারভিউয়ের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে অযোগ্যদের নাম রয়েছে। তাই অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা। আজ সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহা পরিষ্কার নির্দেশ দিলেন, যদি কোনও চিহ্নিত অযোগ্য বা দাগী পরীক্ষার্থী নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ নেয়, তা খতিয়ে দেখে কমিশনকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। চিহ্নিত অযোগ্যদের তালিকায় যাদের নাম আছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তারা কেউ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ নিতে পারবে না। কোনও “বিশেষভাবে সক্ষম চিহ্নিত অযোগ্য প্রার্থীরাও” নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। ২০১৬ সালের চিহ্নিত অযোগ্যদের নাম, রোল নম্বরের সঙ্গে তাঁদের বাবার নাম ও বিস্তারিত তথ্য সহ নতুন তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। এই সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টেও মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাই সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত এই মামলা মুলতবি থাকবে।
চার জন অযোগ্যের নাম রয়েছে (SSC)
এদিন মামলার শুনানিতে মামলাকারী পরীক্ষার্থীদের (SSC) আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য্য শুনানিতে আদালতকে বলেন, একাধিক চিহ্নিত অযোগ্য প্রার্থী নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। গত শনিবার ইন্টারভিউয়ের যে তালিকা প্রকাশ করেছে এসএসসি, তাতে অন্তত চার জন অযোগ্যের নাম রয়েছে। চিহ্নিত অযোগ্যদের তালিকায় শুধুমাত্র প্রার্থীর নাম থাকায় সনাক্ত করা কঠিন। কারণ একই নামে একাধিক মানুষ থাকতে পারেন। পরীক্ষার্থীরা কোন ক্যাটাগরিতে পরীক্ষায় বসেছে, তাদের পরিচয়, ঠিকানা, বাবার নাম কিছুই নেই। তাই এই সমস্ত বিস্তারিত তথ্য সহ অযোগ্যদের নামের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হোক। ২০১৬ ও ২০২৫ এর রোল নম্বর আলাদা। তাই শুধু নাম ও রোল নম্বর দিয়ে তালিকা প্রকাশ করলে অযোগ্যদের সনাক্ত করা কঠিন। সুপ্রিম কোর্ট ওএমআর শিট প্রকাশ করতে বলেছিল। কিন্তু তা এখনও করা হয়নি। তাই চিহ্নিত অযোগ্যদের নাম, রোল নম্বর ও বাবার নাম সহ তালিকা প্রকাশ করা হোক। তাহলে সনাক্ত করতে সুবিধা হবে যে কোনও চিহ্নিত অযোগ্য নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন কিনা।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা: অযোগ্যদের বিস্তারিত পরিচয়, ঠিকানা কোথায়? (SSC)
এসএসসি-এর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বলেন: নাম, রোল নম্বর সব দেওয়া আছে। তাদের পরিচয়, বাবার নাম ঠিকানা সহ প্রকাশ করা কঠিন।
যোগ্যদের আইনজীবী প্রতীক ধর বলেন: অযোগ্যদের পরীক্ষায় বসার ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া যেন বন্ধ না হয়।
বিচারপতি: সেই আবেদন করা হয়নি। (SSC)

কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়: অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মোট চারজন অযোগ্য নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। তার মধ্যে দু’জন- নীতিশরঞ্জন বর্মন এবং নারায়ণচন্দ্র পালের নাম চিহ্নিত অযোগ্যদের তালিকায় ছিল। এটা ঠিক। কিন্তু দু’জনেই বিশেষভাবে সক্ষম ক্যাটাগরিতে। সুপ্রিম কোর্ট বিশেষভাবে সক্ষমদের বয়সসীমায় ছাড় ও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু বিশেষভাবে সক্ষম চিহ্নিত অযোগ্যদের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আলাদা করে কোনও স্পষ্ট নির্দেশ নেই, তাই নীতিশরঞ্জন বর্মন এবং নারায়ণচন্দ্র পাল- এই দুই জনের নাম চিহ্নিত অযোগ্যদের তালিকায় থাকলেও যেহেতু তাঁরা দু’জনেই বিশেষভাবে সক্ষম তাই তাঁদের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর বাকি দু’জনের ক্ষেত্রে নামের বানান ভুল থাকায়, তাঁদের নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। জয়নাল আবেদীন ও দেবলীনা মন্ডলের নামের বানান ভুল আছে।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা: বিশেষভাবে সক্ষম (SSC) প্রার্থীরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ নিতে পারবেন। তাঁদের বয়সের ছাড় দিতে হবে। চিহ্নিত যোগ্যরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন বলে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের পরিষ্কার নির্দেশ রয়েছে যে, কোনও চিহ্নিত অযোগ্য বা দাগী চাকরিহারা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। এখানে যে দু’জন বিশেষভাবে সক্ষম অযোগ্যের কথা মামলাকারীরা উল্লেখ করেছেন, তাঁরাও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ নিতে পারবেন না।
আরও পড়ুন: WB Weather Update: বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ, রাজ্যে বাড়ছে রাতের তাপমাত্রা!
এরপরই বিচারপতি অমৃতা সিনহা তাঁর নির্দেশে(SSC) জানান, বিচারপতি: ২০১৬ পরীক্ষার সমস্ত চিহ্নিত দাগী বা অযোগ্যদের বাবার নাম ও বিস্তারিত তথ্য সহ নামের তালিকা নতুন করে প্রকাশ করতে হবে। উল্লেখিত বিশেষভাবে সক্ষম দুই অযোগ্য প্রার্থীও নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। যদি কোনও অযোগ্যদের নাম তালিকায় থাকলে, কমিশনকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। এই সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। তাই সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত এই মামলা মুলতুবি থাকবে।


