Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোমবার দুপুর পৌনে তিনটার নাগাদ হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা (Uluberia Poolcar Accident)। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পাঁচ স্কুলপড়ুয়াকে নিয়ে যাচ্ছিল একটি পুলকার। তাদের বয়স মাত্র সাত থেকে ১১ বছরের মধ্যে হাসি-খুশিতে ভরা ছোট্ট বাচ্চারা। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদের স্বাভাবিক পথযাত্রা রূপ নিল ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নে।

রেষারেষির খেসারত (Uluberia Poolcar Accident)
স্থানীয়দের দাবি, পুলকারটি অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে চলছিল। আশপাশের অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে রেষারেষিতে লিপ্ত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই উত্তেজনার জেরেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং পাড় রাস্তার পাশে থাকা বহিরা শ্মশানতলার পুকুরে সোজা নেমে যায় গাড়িটি। মুহূর্তের মধ্যে জলে ডুবে যায় যাত্রী ভর্তি স্কুলগাড়ি।
প্রাণপণ উদ্ধার প্রচেষ্টা (Uluberia Poolcar Accident)
দুর্ঘটনা ঘটতে না ঘটতেই এলাকার বাসিন্দারা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। তারা কোনও কিছু চিন্তা না করে ঝাঁপিয়ে পড়েন উদ্ধারে। ডুবন্ত পুলকারের জানালা ভেঙে টেনে বের করা হয় পাঁচ ছোট্ট পড়ুয়াকে। দ্রুত তাদের নিয়ে যাওয়া হয় উলুবেড়িয়া হাসপাতাল ও পরে উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে। কিন্তু চিকিৎসকেরা তিন শিশুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত দু’জনকে ভর্তি করা হয়েছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন।
মন্ত্রীসহ প্রশাসনের উপস্থিতি (Uluberia Poolcar Accident)
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন উলুবেড়িয়ার এসডিপিও শুভম যাদব, উলুবেড়িয়া ১ নং ব্লকের বিডিও এইচ এম রিয়াজুল হক। জনস্বাস্থ্য দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায় জানান, “পাঁচজন শিশু ছিল গাড়িতে। তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। দু’জন হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমি হাসপাতালে যাচ্ছি।” এই ঘটনার পর প্রশাসনের মধ্যে তীব্র তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: Nepal Protest: দেশেই আছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, অপেক্ষা শুধু নির্বাচনের…
কেন এভাবে ঘটছে দুর্ঘটনা?
শিশুদের স্কুলবাস বা পুলকারে করে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নীতিমালা নিয়ে বহুদিন ধরেই প্রশ্ন ওঠে। বেপরোয়া গতি, অতিরিক্ত যাত্রী, চালকের অভিজ্ঞতার অভাব, গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, এ সমস্তই এমন দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উলুবেড়িয়ার ঘটনাও সেই একই চিত্র তুলে ধরল বেপরোয়া গতি এবং দায়িত্বহীনতা আবার কেড়ে নিল তিনটি নিষ্পাপ প্রাণ।



