Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারত বহু দশক ধরে পারমাণবিক শক্তি খাতকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রক্ষিত ক্ষেত্র হিসেবে ধরে রেখেছে (Private Investment)। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক নীতি ও কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে এই খাতে বেসরকারি সংস্থার প্রবেশাধিকার ছিল প্রায় অসম্ভব। তবে ভারতের আধুনিক অর্থনীতি যখন দ্রুত পরিবর্তনের পথে, তখন শক্তি উৎপাদনের ভবিষ্যৎও নতুন নীতির মুখোমুখি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক ঘোষণা সেই পরিবর্তনের সূচনা ভারত পারমাণবিক শক্তি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ দিতে চলেছে।

মহাকাশ খাতের সাফল্য (Private Investment)
হায়দরাবাদের স্কাইরুট ইনফিনিটি ক্যাম্পাস উদ্বোধন করতে গিয়ে মোদি দেশের মহাকাশ খাতের গত কয়েক বছরের সাফল্য তুলে ধরেন। ২০২০ সালে মহাকাশ খাত উদারীকরণের পর ৩০০-রও বেশি স্টার্টআপ তৈরি হয়েছে। দেশে বেসরকারি পুঁজির প্রবাহ বেড়েছে অভূতপূর্ব মাত্রায়। SpaceX, OneWeb-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। মোদি দাবি করেন, সঠিক নীতিগত পরিবেশ ও উদ্যোক্তা-উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করাই মহাকাশ খাতকে আন্তর্জাতিক মাপের করে তুলেছে। একই মডেল পারমাণবিক শক্তি খাতেও প্রয়োগ করা হলে ভারতের শক্তি ব্যবস্থা নতুন সম্ভাবনায় উজ্জ্বল হবে।
এতদিন পর্যন্ত কাঠামো কেমন ছিল? (Private Investment)
ভারতে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের দায়িত্ব এখন পর্যন্ত ছিল সম্পূর্ণরূপে, পারমাণবিক শক্তি বিভাগ (DAE), NPCIL — Nuclear Power Corporation of India Limited বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকা কেবল যন্ত্রাংশ সরবরাহ, নির্মাণ সহায়তা বা পরিষেবাকেন্দ্রিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। রিঅ্যাক্টরের মালিকানা, পরিচালনা বা উৎপাদন এ সব ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশগ্রহণ ছিল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
কেন এই পরিবর্তন প্রয়োজন? (Private Investment)
ভারত আগামী দশকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শক্তি-উপভোক্তা দেশে পরিণত হবে। বর্তমানে, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র ২% আসে পারমাণবিক শক্তি থেকে। কয়লার ওপর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি, যা পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বড় কারণ। পরিষ্কার শক্তি, বিশেষত কার্বন-নিরপেক্ষ উৎস বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। NPCIL-এর প্রকল্পগুলিতে দীর্ঘ বিলম্ব, অতিরিক্ত ব্যয়, পুরনো প্রযুক্তি এবং প্রশাসনিক জটসহ বহু সমস্যা রয়েছে। বেসরকারিকরণ এই বাধাগুলি দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

কী কী পরিবর্তন আসতে পারে? (Private Investment)
সরকারি সূত্র মতে, নতুন কাঠামোর অধীনে বেসরকারি সংস্থাগুলি নিম্নলিখিত কাজগুলি করতে পারবে, SMR বা Small Modular Reactor তৈরি ও পরিচালনা, NPCIL-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বড় পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর স্থাপন, গ্রিনফিল্ড পারমাণবিক প্রকল্পে সরাসরি বিনিয়োগ, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার, উদ্ভাবনী রিঅ্যাক্টর ডিজাইন নিয়ে গবেষণা এ সবকিছুই চলবে কঠোর নিয়ন্ত্রণের অধীনে পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (AERB)-এর তত্ত্বাবধানে।

আরও পড়ুন: Sholay Screening Cancelled: শেষমুহূর্তে কেন থেমে গেল ‘শোলে’-র গোল্ডেন জুবিলি স্ক্রিনিং?
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী
বর্তমান পারমাণবিক ক্ষমতা: ৮,০০০ মেগাওয়াট লক্ষ্য (২০৩২): ২২,৪৮০ মেগাওয়াট অর্থাৎ, সক্ষমতা তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি করা হবে। এটি সম্ভব করতে হলে প্রয়োজন, বৃহৎ মূলধন, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বেসরকারিকরণ এসব ক্ষেত্রেই নতুন গতি আনতে পারে।



