Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশজুড়ে বিরোধিতা, রাজনৈতিক উত্তাপ (Waqf Amendment Act), এমনকি আইনি লড়াই-সবকিছু পেরিয়ে অবশেষে ওয়াকফ সংশোধনী আইন ২০২৫ কার্যকর করতে বাধ্য হল রাজ্য সরকার। মাস কয়েক আগেও মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এই আইন বাংলায় প্রয়োগ করা হবে না। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চলে বিক্ষোভ, তর্ক-বিতর্কের ঝড়। কিন্তু শীর্ষ আদালত আইনের পুরো অংশে স্থগিতাদেশ না দেওয়ায়, শেষ পর্যন্ত নির্দেশ মেনেই এগোতে হচ্ছে নবান্নকে।
নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করতে হবে (Waqf Amendment Act)
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা (Waqf Amendment Act) দফতরের সচিব পি.বি. সালিম রাজ্যের সব জেলাশাসকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতে জানানো হয়েছে-রাজ্যের প্রতিটি জেলায় যত ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত রয়েছে, সেগুলির হিসেব নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করতে হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই এই কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে।
ছ’মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে যোগ (Waqf Amendment Act)
আইন অনুযায়ী, দেশের সব নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য ছ’মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে যোগ করার কথা। সেই সময়সীমা প্রায় শেষের পথে। তাই আর দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপের জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। নবান্নের বার্তা-জেলা-ওয়ারি তালিকা তৈরি করে ‘umeedminority.gov.in’ পোর্টালে সমস্ত সম্পত্তির তথ্য, নথি ও খতিয়ান আপলোড করতে হবে।
দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ
সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলায় বর্তমানে ৮২ হাজারেরও বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত আছে। এগুলি ৮ হাজারেরও বেশি ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে পরিচালিত হয়। এত বিপুল সংখ্যক সম্পত্তির তথ্য সময়মতো আপলোড করা প্রশাসনের জন্য বড় দায়িত্ব। তাই প্রতিটি জেলাকে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুই কক্ষেই ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাশ
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে সংসদের দুই কক্ষেই ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাশ হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে তা আইনে পরিণত হয়। আইনের কয়েকটি ধারার বিরুদ্ধে দেশে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ শুরু হয়। বাংলাতেও বিক্ষোভ দেখা যায়। আইনটির সাংবিধানিকতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। তবে শীর্ষ আদালত পুরো আইন স্থগিত করেনি। শুধুমাত্র দুটি ধারার উপর সাময়িক স্থগিতাদেশ থাকায় আইন কার্যকর রাখতে বাধা ছিল না।
আরও পড়ুন: Tanushree Wedding: চুপিচুপি বিয়ে করলেন তনুশ্রী, পাত্র কে?
আইন বলবত হওয়ার পরও রাজ্য সরকার প্রথম দিকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল-আইনটি বাংলায় প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু আইনগত অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরে আর তা এড়ানো সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্ট সম্পূর্ণ স্থগিতাদেশ না দেওয়ায় কোনও রাজ্যই আর এই আইন কার্যকর করা থেকে বিরত থাকতে পারে না। সেই কারণেই অবশেষে রাজ্য সরকারকে কেন্দ্রীয় নির্দেশ মেনে এগোতে হলো।


