Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চেন্নাইবাসীর মঙ্গলবারের সকালটি যেন এক থ্রিলার ছবির দৃশ্য হয়ে উঠেছিল (Metro Stuck)। সুপরিকল্পিত, নিরাপদ, আধুনিক মেট্রো পরিষেবা যে কখনও যাত্রীদের টানেলের ভেতর দিয়ে হাঁটতে বাধ্য করতে পারে এমন অভিজ্ঞতা কেউই আশা করেননি। কিন্তু ব্লু লাইন মেট্রোর হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি সেই অসম্ভবকেও বাস্তবে পরিণত করল। এই ঘটনায় উঠে এল মেট্রো পরিষেবার প্রস্তুতি, জরুরি ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা কাঠামোর নানা প্রশ্ন। বৃষ্টিবিধ্বস্ত চেন্নাইয়ের পরিস্থিতি এই বিশৃঙ্খলাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
সুড়ঙ্গেই থমকাল ব্লু লাইন মেট্রো (Metro Stuck)
মঙ্গলবার ঠিক সকাল সাতটার আগে মেট্রোটি রওনা দিয়েছিল উইমকো নগর ডিপো থেকে চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে। যাত্রা ছিল একেবারে স্বাভাবিক। কিন্তু সেন্ট্রাল মেট্রো ও হাইকোর্ট স্টেশনের মাঝামাঝি সুড়ঙ্গে পৌঁছতেই আচমকা ট্রেনটি থেমে যায়। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কামরায় নেমে আসে ঘন অন্ধকার। যাত্রীরা প্রথমে বোঝেনইনি ঘটনার প্রকৃতি। তারপরই জ্বলে ওঠে মৃদু ইমারজেন্সি লাইট, যা অন্ধকার দূর করতে তো পারেইনি বরং পরিস্থিতির ভয় আরও স্পষ্ট করে দেয়। যাত্রীদের কথায় “হঠাৎ আলো চলে যায়। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। কারও চিৎকার, কারও কান্না সব মিলিয়ে এক বিভীষিকাময় সময়।”
‘অন্ধকারে নিঃশ্বাস আটকে যাচ্ছিল’ (Metro Stuck)
ভিডিয়োগুলোতে দেখা যায়, যাত্রীদের মধ্যে অনেকে সোজা দাঁড়িয়েও ভারসাম্য রাখতে পারছিলেন না। অন্ধকার, গরম, অক্সিজেনের অভাব সব মিলিয়ে ক্লস্ট্রোফোবিক পরিস্থিতিতে অনেকে শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করেন। বাহিরে উঁকি দিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন কেউ। আবার কেউ উদ্বিগ্ন কণ্ঠে ‘কী হচ্ছে?’ প্রশ্ন করছেন। এই সময় প্রায় ১০ মিনিট যাত্রীদের অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়।
‘ট্রেন খালি করুন, টানেলের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলুন’ (Metro Stuck)
পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই মেট্রো চালক ইন্টারকমে ঘোষণা করেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রেন চালানো সম্ভব নয়, যাত্রীদের ট্রেন থেকে নামতে হবে, টানেলের ভেতর দিয়ে হাঁটিয়ে হাইকোর্ট স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হবে এই ঘোষণা শুনেই অনেক যাত্রী আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মেট্রো টানেল যেখানে হাওয়া চলাচল কম, স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, রেললাইন, কেবল ও যন্ত্রপাতির ভিড় সেই পথ দিয়েই নিয়ে যাওয়া হতে লাগল যাত্রীদের।

আরও পড়ুন: Jaishankar : জীবাণু অস্ত্রের অপব্যবহার আশঙ্কা অযৌক্তিক নয়: সতর্কতা জয়শঙ্করের
টানেলের ভেতর ভয় আর অস্বস্তির যাত্রা
সামনের দরজা খুলে যাত্রীদের নামানো হয়। সবাইকে হ্যান্ডরেল ধরে হাঁটতে বলা হয়। প্রায় ৫০০ মিটার দূরে হাইকোর্ট স্টেশন। সুড়ঙ্গের মধ্যে ছিল, হালকা জলের টপটপ শব্দ, ভিজে দেয়াল, গরম ও ভ্যাপসা বাতাস, মোটা বিদ্যুৎ কেবল, রেললাইনের ফাঁক-ফোকর অনেক যাত্রী বলছেন এটি তাঁদের জীবনে সবচেয়ে অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ হাঁটা। এক যাত্রীর মন্তব্য, “এটি মেট্রো যাত্রা নয়, বরং যেন একটি দুঃস্বপ্ন। এমন অভিজ্ঞতা কখনোই চাই না।”
ঘটনার পর চেন্নাই মেট্রো রেল (CMRL) এক্স-এ (X) একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। তাতে বলা হয়, হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে ট্রেন থেমে যায়, যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, ট্রেনটিকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, সকাল ৬:২০ মিনিটের পর ব্লু লাইনে পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চালু হয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছে। চেন্নাই ও আশপাশের জেলায় টানা ভারী বৃষ্টি চলছে ঘূর্ণিঝড় দিতোয়ার অবশিষ্ট প্রভাবে। ফলে, রাস্তাঘাট জলমগ্ন, কাথিপারা ফ্লাইওভার ও প্রধান সড়কে যানজট, রেললাইন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সমস্যা, অনেক প্রতিবেদনে দাবি বৃষ্টির জল ঢোকার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যা থেকেই মেট্রো বিভ্রাট ঘটে।



