Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়া’–র পর শ্রীলঙ্কা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে (Pakistan Attempt)। ঘরবাড়ি ভেসে যায়, হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা হয় এবং বহু অঞ্চলে খাদ্য, পানীয় জল ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেয়। এই চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সাহায্য পৌঁছতে শুরু করে শ্রীলঙ্কায়। কিন্তু এই সাহায্যের মাঝেই দেখা গেল দুটি প্রতিবেশী দেশের আচরণের নাটকীয় ফারাক একদিকে পাকিস্তানের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, অন্যদিকে ভারতের দ্রুত ও বহুস্তরীয় মানবিক উদ্যোগ। এই প্রবন্ধে সেই দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হল।

‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ ত্রাণ পাঠানোর কাণ্ড (Pakistan Attempt)
শ্রীলঙ্কার জন্য পাকিস্তান যে ত্রাণবাহী কার্গো পাঠায়, সেই কার্গোর ছবি পাকিস্তানের হাইকমিশন নিজেরাই সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’–এ পোস্ট করে। ছবিগুলো প্রকাশিত হতেই দেখা যায় ত্রাণের বহু প্যাকেটের ওপর স্পষ্ট লেখা রয়েছে “EXP: 10/2024”, অর্থাৎ সেই সামগ্রীর মেয়াদ শেষ হয়েছে এক বছরেরও বেশি আগে।
আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা (Pakistan Attempt)
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন, বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের কাছে কি মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার পাঠানো উচিত? একটি দেশের সরকারি হাইকমিশন কীভাবে এমন ছবি প্রকাশ করে? মানবিক সংকট নিয়ে পাকিস্তান কি যথেষ্ট গুরুত্বই দিচ্ছে না? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা পাকিস্তানের কূটনৈতিক ইমেজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দুর্যোগের সময় একটি দেশের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করা যেমন জরুরি, ঠিক তেমনি ত্রাণের মান বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান সেই মৌলিক দায়িত্বটুকুও পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ত্রাণে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য পাঠানো শুধু অবহেলা নয় এটি দুর্যোগকবলিত মানুষদের প্রতি অসম্মান। এ ধরনের পণ্য গ্রহণ করলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে, যা মানবিক সহায়তার নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

আরও পড়ুন: Vladimir Putins India Visit: পুতিনের সফরে ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্ব কি আরও দৃঢ় হবে?
নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ উদ্যোগ (Pakistan Attempt)
যখন পাকিস্তান বিতর্কে ঘিরে থাকে, তখন ভারত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও দ্রুততর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়ায়। ভারত ঘোষণা করে ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’, যা মানবিক সহায়তার এক সুসংগঠিত ও বহুস্তরীয় কার্যক্রমে পরিণত হয়। শ্রীলঙ্কায় আটকে পড়া ২,০০০–র বেশি ভারতীয়কে উদ্ধার করে নিয়ে আসে ভারত সরকার। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইরানসহ আরও বহু দেশের নাগরিককে ভারতীয় নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এয়ারলিফট করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে।
ভারত পাঠায় ৮০ সদস্যের এনডিআরএফ নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার দল। এই দল বন্যায় আটকে পড়া বহু মানুষকে উদ্ধার করে। এনডিআরএফ ইতোমধ্যেই ১৫০–এর বেশি মানুষকে সরাসরি প্রাণে বাঁচিয়েছে।



