Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো একটি কঠোর, নিয়মবদ্ধ, সম্পূর্ণ সরকারি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে (Zubeen Garg)। বাংলা সহ বিভিন্ন রাজ্যে যেখানে SIR (Special Intensive Revision), সেখানে অসমে এই মুহূর্তে SR প্রক্রিয়া পুরোদমে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকাকে নিখুঁত ও হালনাগাদ রাখা এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। তালিকা সংশোধনের নিয়ম খুবই স্পষ্ট জীবিত নাগরিকের নাম নিশ্চিত করা, নতুন ভোটার যুক্ত করা, প্রয়াত ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া। এই যান্ত্রিক কর্মধারার মধ্যে আবেগের স্থান সাধারণত থাকে না। কিন্তু অসমে সেদিন যেন ভিন্ন কিছু ঘটল যেখানে নিয়মের চাকা থমকে দাঁড়াল মানুষের ভালোবাসা, ব্যথা এবং স্মৃতির সামনে।
শুধু গায়ক নন, অসমের আত্মা (Zubeen Garg)
অসমের মানুষ তাঁকে শুধু একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে দেখেননি। জুবিন গর্গ ছিলেন তাদের আত্মপরিচয়ের অংশ, সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের আওয়াজ। চলচ্চিত্র, গানে, সুরে, সমাজসেবায় জুবিন অসমের সংস্কৃতি বহন করেছেন তার সহজাত ভঙ্গিতে। তাঁর কণ্ঠে বেজে উঠেছে অসমের নদীর সুর, মানুষের আশা, আঞ্চলিক অনুভূতির পরম মমতা। মাত্র দুই মাস আগে তাঁর অকাল প্রয়াণ গোটা অসমকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। অসংখ্য ভক্ত আজও বিশ্বাস করতে পারেন না যে তিনি আর নেই। চোখ বন্ধ করলে এখনও তাঁর গান শুনতে পান অনেকে সেই সুর যেন বাতাসে ভেসে থাকে।
ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ (Zubeen Garg)
ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বে থাকা বিএলও মহম্মদ তাফিজ উদ্দিনও ছিলেন জুবিন গর্গের একজন নীরব অনুরাগী। এদিন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, তাঁকে যেতে হয়েছিল জুবিনের বাড়িতে। কাগজে কলমে জুবিন গর্গের নামের পাশে একটি শব্দ যোগ করতে হতো ‘মৃত’। কিন্তু যেই মুহূর্তে সেই শব্দটি লেখার জন্য কলম ধরলেন, হাত কেঁপে উঠল তাঁর। কীভাবে সম্ভব? যে মানুষ এত সুরে, এত ভালোবাসায়, এত আবেগে বেঁধে রেখেছিলেন পুরো রাজ্যকে, তাঁকে প্রশাসনিক নথিতে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা কি আদৌ এত সহজ? তাফিজ উদ্দিন নিজেই বললেন, “জুবিন আমাদের ভূমিপুত্র। তাঁর চলে যাওয়া আমরা মানতে পারি না। তাই তাঁর নামের পাশে ‘মৃত’ লিখতে পারিনি।”
মানুষের ভালোবাসার অমূল্য স্বীকৃতি (Zubeen Garg)
‘মৃত ভোটার’ লেখার বদলে তিনি লিখলেন, “আপনি চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।” এ যেন প্রশাসনিক নথির মধ্যে মানুষের হৃদয়ের লেখা। এ যেন এক ছোট্ট বিদ্রোহ, কিন্তু গভীর শ্রদ্ধা থেকে উদ্ভূত। এ যেন স্বীকারোক্তি, যে মানুষ হাজারো হৃদয়ে বেঁচে আছেন, তাঁকে মৃত বলা যায় না, অন্তত কাগজে-কলমে নয়। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সারা অসম কেঁপে উঠল আবেগে। ভক্তরা লিখলেন, “শিল্পী কখনও মারা যান না।” “এটাই অসমের মানুষের ভালোবাসার সত্যিকারের উদাহরণ।”
স্মৃতির ভারে আবেগঘন পরিবেশ (Zubeen Garg)
জুবিনের বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তাফিজ উদ্দিন। সবার চোখে তখনও শোক, তবুও সেই কথোপকথনে ছিল গভীর গর্ব। তারা বুঝলেন মানুষ যাকে এত ভালোবাসে, সে কখনও হারিয়ে যায় না। সেই মুহূর্তে যেন গোটা অসম পরিবারটির পাশে দাঁড়াল এক আবেগঘন নীরবতায়।
আরও পড়ুন: Mamata: হুলিয়া জারি করবেন না যাতে বৃটিশ রাজের কথা মনে পড়ে যায়: কেন্দ্রকে তোপ মমতার
বেঁচে থাকা এক চিরঞ্জীব নাম
নিয়ম অনুযায়ী ভবিষ্যতে অবশ্যই সরকারি নথিতে সংশোধন করা হবে। যান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার নিজস্ব কাঠামো আছে, যা চলতেই হবে। কিন্তু এই একটি ঘটনার মধ্যে আমরা দেখতে পেলাম সাধারণ মানুষের ভালোবাসার শক্তি। অসম যেন বলল, “যে হৃদয়ে থাকে, সে কখনও মৃত হয় না।” জুবিন গর্গ তাই কাগজে নয়, মানুষের স্মৃতিতে, সুরে, আবেগে, সংস্কৃতিতে চিরন্তন। তিনি প্রয়াত নন, অসমের আত্মায় আজও তিনি জীবিত।



