Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারের পর ওয়ানডে সিরিজ ছিল গম্ভীরের কাছে মানরক্ষার লড়াই। তাঁকেই জিতিয়ে সিরিজ ভারতের ঘরে আনলেন রোহিত-বিরাটরা (India)।
রোহিত-যশস্বীর দাপুটে ইনিংস (India)
টেস্টে ভারতের বিপর্যয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে টিম ইন্ডিয়ার হেড স্যারকে। ব্যাটিং ব্যর্থতা বারবার প্রকট হয়ে উঠেছিল প্রোটিয়া শিবিরের সামনে। সেই ছবি পাল্টে গেল রোহিত-বিরাট দলে ফিরতেই। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের নামে করে নিল ভারতীয় দল। মানরক্ষা হলো ভারতীয় দল সহ গৌতম গম্ভীরের। প্রথম দুই ম্যাচেই শতরান করে নিজের দক্ষতা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বিরাট। আর ম্যাচ নির্ণায়ক ম্যাচে রোহিতের ব্যাটে এল ৭৫ রান। যোগ্য সঙ্গত দিলেন যশস্বী (India)।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ নির্ণায়ক ম্যাচে ভারত টসে জিতে পজিটিভ মনোভাব নিয়েই খেলা শুরু করে। ২০ ম্যাচের পর এই টস জয় যে ভারতের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল সেটারই প্রমাণ পাওয়া গেল এই দিনের ম্যাচে। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে আউট হন রায়ান রিকেলটন। তারপর ম্যাচের হাল ধরেন ডি কক ও তেম্বা বাভুমা। প্রথম দুই ম্যাচে রান না পেলেও এই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকান ডি কক। তিঁনি ৮৯ বলে ১০৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ডি কক ও তেম্বা বাভুমা জুটিতে ভাঙন ধরান জাডেজা। তাঁর বলে বিরাটের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ৪৮ রান করে ফেরেন প্রোটিয়া অধিনায়ক বাভুমা (India)।

ডি কক ৮০ বলে সেঞ্চুরি করেন। এর ফলে নয়া নজির গড়লেন এই প্রোটিয়া তারকা ব্যাটার। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন ডি ককের দখলে (৭টি)। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম দুই ম্যাচে নজর কাড়তে পারেননি প্রসিধ কৃষ্ণ। উইকেট পেলেও প্রচুর রান দেওয়ায় দ্বিতীয় ম্যাচে হারতে হয় ভারতকে। তাই সিরিজ নির্ণায়ক ম্যাচে তাঁকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু আরও একবার প্রসিধের উপরে আস্থা রাখেন দলের হেড স্যার গৌতম গম্ভীর। আজ সেই ভরসার মান রাখলেন প্রসিধ। তিনি তিন উইকেট নেন এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে (India)।

দ্বিতীয় ম্যাচে বল হাতে কামাল করতে না পারলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ ম্যাচে বল হাতে আবার জ্বলে উঠলেন কুলদীপ। এক ওভারে নিলেন জোড়া উইকেট। কুলদীপের বলে তাড়াহুড়ো করে শট খেলতে গিয়ে রোহিতের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ব্রেভিস। ২৯ রান করে ফিরতে হয় তাঁকে। এক ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার দুই বিধ্বংসী ব্যাটারকে ফেরান এই তারকা স্পিনার। ব্রেভিসের পর আউট করেন জ্যানসেনকে। বড় শট মারতে গিয়ে জাডেজার হাতে ক্যাচ দিয়ে তিঁনি ফেরেন ১৭ রানে। কুলদীপের বাকি দুই শিকার বশ (৯) এবং এনগিডি (১)। কুলদীপের দখলে রয়েছে ৪ উইকেট।

আরও পড়ুন: Lemon Chicken Recipe: উইকেন্ডে বানান লেবুর স্বাদের চিকেন!
রান তাড়া করতে নেমে কিছুটা ধরে খেলতে দেখা যায় রোহিত ও যশস্বীকে। তারপর ধীরে ধীরে খেলার গতি বাড়াতে থাকেন দুজন। প্রথম ম্যাচে অর্ধশতরানের পর এই ম্যাচেও নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করলেন রোহিত শর্মা। ৩টি ছয় ও ৭টি চার দিয়ে সাজানো তাঁর ইনিংস। ৭৩ বলে ৭৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে মহারাজের বলে ফিরতে হলো হিটম্যানকে। শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার ২৭ রান করতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করেন ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটার। ভারতের রান তাড়া করার সময়ই এই কীর্তি গড়েন রোহিত শর্মা। এই ক্লাবে চতুর্থ ভারতীয় এবং মোট ১৪তম ব্যাটার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন রোহিত।

অন্যদিকে নিজের অনবদ্য ব্যাটিং দক্ষতা দেখালেন তরুণ যশস্বী। একদিকে যেমন রোহিতের সাথে জুটি বাঁধলেন তেমনই একদিনের ক্রিকেট কেরিয়ারে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকালেন এই তরুণ তুর্কি। ১২১ বলে ১১৬ রান করলেন এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকলেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১২টি চার ও ২টি ছয়।

রোহিতের পর তিন নম্বরে নেমে বিরাট আবারও শাসন করলেন প্রোটিয়া বোলারদের। প্রথম দুই ম্যাচে শতরান হাঁকানোর পর এই ম্যাচেও তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে একের পর এক বল পাঠিয়ে দিলেন বাউন্ডারি লাইনের বাইরে। আবারও বুঝিয়ে দিলেন চেজ করতে নেমে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। ৪৫ বলে করলেন ৬৫ রান। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৩টি ছয় ও ৬টি চার। ৯ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নিল ভারত। টেস্ট সিরিজ হারের বদলার পাশাপাশি মানরক্ষা হলো গম্ভীরের দুই ‘বুড়ো ঘোড়ার’ দাপটে (India)। সিরিজ সেরা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বিরাট কোহলিকে এবং ম্যাচ সেরা যশস্বী।

এই ম্যাচের ফুটনোটে লেখা থাকবে যে কথাগুলো
রোহিত-বিরাটের ভবিষৎ নিয়ে চলে আসা জল্পনার সব উত্তর ব্যাট হাতে দাপটের সঙ্গে দিলেন রো-কো জুটি। তৃতীয় ম্যাচে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে একপেশে জয় ছিনিয়ে নিল ভারত। যশস্বীর ব্যাটে প্রথম দিকে বল লাগছিল না সিঙ্গেল খেলে রান তুলছিলেন। অপরদিকে, মেরে খেলছিলেন রোহিত। একবারের জন্যও চাপ ফেলেননি যশস্বীর ওপরে।

জয়সওয়াল মেরে খেলা শুরু করলেন অর্ধশতরান হওয়ার পরে। তারপর পুরোপুরি সেট হয়ে গেলে হাত খুলে খেলা শুরু করেন এই তরুণ তুর্কি। তারপর রোহিত আউট হলে ইনিংস আগলানোর দায়িত্ব দক্ষতার সাথে সামলালেন চেজ মাস্টার বিরাট। কোহলি নেমে মারমুখী ভঙ্গিতে ব্যাট করলেন। নো লুক শটে ছক্কা, পুল, কভার ড্রাইভ সবদিকে রান করেছেন কিং কোহলি। অন্যদিকে রোহিতকেও দেখা গিয়েছে সামনের পায়ে পুল মেরে ছয় হাঁকাতে। এখন সমর্থকদের একটাই প্রশ্ন আবার কবে দেখা রো-কো জুটিকে মাঠ শাসন করতে (India)। এরপরেও কি নির্বাচক ও কোচের মনে এই দুজনের ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে?


